somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Who is the owner of INTERNET...

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Who is the owner of INTERNET...

প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমান যুগে এককদম চলা অসম্ভব। বর্তমানে এমন কোনো কাজ নেই যেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। বিশেষত লক ডাউনে থাকাকালীন আমরা ইন্টারনেটের গুরুত্ব সম্পর্কে আরো বেশি করে অবগত হয়েছি। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়াশোনা, বাজার সওদা সবই ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজে করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন যে এই "ইন্টারনেটে"র মালিক কে?

ইন্টারনেটের মালিক কে জানার আগে ইন্টারনেট কি সেটা সংক্ষেপে জেনে রাখা দরকার। বিষয়টা খুবই জটিল যা আমার মতো বাংগালের পক্ষে বোঝা যেমন দূরহ, তেমনি ব্যাখ্যা দেওয়াও অসম্ভব। তবুও আমার মতো কম জানাদের জন্য যা সহজবোদ্ধ তাই বলছি-
ইন্টারনেট হলো একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটার ও মোবাইল ডিভাইস মাকড়সার জালের আকারে একে-অপরের সাথে যুক্ত। ষাটের দশকে আমেরিকার ডিফেন্স অর্গানাইজেশন নেটওয়ার্ক সিস্টেম নানাবিধ কারণে পারস্পরিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত। তাই এই অসুবিধা দূরকরতে আমেরিকার ডিফেন্স অর্গানাইজেশন একটি নতুন টেকনোলজির উদ্ভাবন করে। আমেরিকার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার একে অপরের সাথে ভূগর্ভস্থ তারের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে খুব সহজেই তথ্য আদানপ্রদান সম্ভব হয়। এরপর সত্তর-আশির দশকে 'Cold War' শেষ হওয়ার পর থেকেই এই টেকনোলজি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।

আমার মতো বেশির ভাগ লোকই মনে করে- গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ার টেল কিংবা টেলিটক কোম্পানিই ইন্টারনেটের মালিক! কিন্তু এরা কেউই ইন্টারনেটের মালিক নয়। বাস্তবে ইন্টারনেট আমাদের কাছে ২-৩ টি টায়ার পেরিয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। এদের ISP (Internet Service Provider) বলা হয়। ধরা যাক আপনি বাংলাদেশে বসে গুগলে কিছু সার্চ করলেন। তাহলে আপনার সেই কমান্ড সদূর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা গুগলের সার্ভার স্টোরেজে যাবে আবার সেখান থেকে ফিরে এসে সেই তথ্য আপনার ফোনে ভেসে উঠবে। ভাবতেই অবাক লাগে তাই না!

কিন্তু এটি সম্ভব হচ্ছে কি করে? আপনার মনে হতে পারে 'স্যাটেলাইট' এর মাধ্যমেই একমাত্র এটি সম্ভব। কিন্তু তা নয়। পৃথিবীর সমস্ত দেশ ও মহাদেশগুলি মাকড়সার জালের মতো সমুদ্রের নীচে থাকা 'অপটিক ফাইবার কেবল' -এর মাধ্যমে যুক্ত আছে। সমুদ্রের নিচে দিয়ে আসার জন্য এগুলিকে 'সাব-মেরিন কেবল' বলা হয়। তার/কেবল দিয়ে জোড়া না থাকলে ইন্টারনেট ব্যবহার কোনোদিনই সম্ভব না। এবার আপনার মনে হতে পারে, আপনার ফোনতো তার দিয়ে যুক্ত নাই। এর কারণ হলো আপনার ফোনটি আপনার বাড়ির কাছে থাকা টাওয়ারের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত। কিন্তু সেই টাওয়ারের একটা নির্দিষ্ট রেঞ্জ আছে যার মধ্যেই সেগুলি কার্যকরী। সেই টাওয়ার গুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে তারের মাধ্যমে কোনো না কোনো সাবমেরিন কেবলের সাথে যুক্ত থাকে যে 'সাব-মেরিন' কেবলই আপনার ফোনকে ওই ক্যালিফোর্ণিয়ায় থাকা গুগলের স্টোরেজ সার্ভারের সাথে যুক্ত করে- যেটাকে বলে International Internet Getaway(IIG)। এভাবেই সাব-মেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট স্থাপন করে পৃথিবীর যেকোনো দেশে থাকা সার্ভারের থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে।
এবার সে সব কোম্পানি ওই 'অপটিক ফাইবার কেবল' বা সাব-মেরিন কেবলের মাধ্যমে সমস্ত দেশ ও মহাদেশ গুলোকে জুড়ে রাখার কাজ করে তাদের বলা হয় Tier-1 কোম্পানি। বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় মালিকানাধীন BTRC হলো Tier-1. যা কক্সবাজার থেকে বাংলাদেশে সাবমেরিন কেবল যুক্ত আছে। যারা জাতীয় ক্ষেত্রে তাদের নেটওয়ার্ক, টাওয়ারের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিছিয়ে রেখেছে তাদের বলা হয় Tier-2 কোম্পানি।

*** NTTN(Nationwide Telecommunication Network) licence হোল্ডার'রা Tier-1 কোম্পানি গুলির থেকে বাৎসরিক ইন্টারনেট 'Bandwidth' চুক্তি বা লীজ নিয়ে থাকে। Tier-2 কোম্পানি গুলি হলো গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ার টেল কিংবা টেলিটক প্রভৃতি।Tier-2 কোম্পানি গুলোরও নিচে যারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে সেই সীমার মধ্যে যারা ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে তাদের Tier-3 কোম্পানি বলে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, ইন্টারনেটের মালিকানা Tier-1 কোম্পানি গুলির কাছেই রয়েছে।কারন তারাই বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মহাদেশগুলিকে 'অপটিক ফাইবার কেবলে'র মাধ্যমে জুড়ে রেখেছে। তাই এককথায় তাদেরই 'ইন্টারনেটের মালিক' বলা যায়।

তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, ইন্টারনেট আমাদের জন্য ফ্রি নয় কেন? এর কারন হলো সমুদ্রের নীচে দিয়ে যে প্রায় 8 লাখ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল দিয়ে মহাদেশ গুলি জোড়া হয়েছে তাদের Inastlation mantianance জন্যও প্রচুর খরচ হয়ে থাকে। সেই কারনেই Tier-1 কোম্পানিগুলি সার্ভিস চার্জ হিসাবে ইন্টানেটের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। সর্বপরি, ইন্টারনেট সেক্টর যেকোনো দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম নির্ভরশীল খাত। যে ইন্টারনেট প্ল্যানের মূল্য যত বেশি তার তার গুরুত্ব ISP গুলোর কাছে তত বেশি। তাই বেশি মূল্যের প্ল্যানের গ্রাহকরা কোনো কিছু গুগলে সার্চ করলে ISP গুলি সবচেয়ে কম দূরত্বের রুটের 'অপটিক ফাইবার কেবলে'র মাধ্যমে তার কমান্ডটি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা গুগলের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয় আর কম মূল্যের প্ল্যানের গ্রাহকদের কমান্ডটি অন্য কোনো বেশি দূরত্বের রুট দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই জন্যই বিভিন্ন প্ল্যানের ইন্টানেটের গতির ফারাক দেখা যায়।
তবে এখানেই শেষ নয়। ইন্টারনেট প্রস্তুতকারকের কথা জানলেও তারাই যে ইন্টারনেটকে পরিচালনা করে এমন ভাবার কারন নেই। তাই এক দিক থেকে Tier-1 কোম্পানি গুলি যে ইন্টানেটের মালিক তা আংশিক সত্য। পুরোপুরি ভাবে তা বলা যায় না। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মালিক হচ্ছে বিটিআরসি। বিটিআরসি লাইসেন্স দিয়েছে NTTN (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) পাঁচটি কোম্পানিকে। সেগুলোর মধ্যে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের নিজস্ব কোনো নেটওয়ার্ক নাই। অর্থাৎ বাকী দুটো কোম্পানিই বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ইন্টারনেট বিজনেস পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) লাইসেন্স অপারেটর হচ্ছেঃ- পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফাইবার @ হোম এবং সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড।

** বাংলাদেশে ইন্টারনেট বিষয় কিছু বলতে গেলে যার নামটা সবার আগে বলতে হয় তাঁর সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছিনা এটা আমার দুর্ভাগ্য। শুধু বলবো, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সব চাইতে যোগ্য ব্যাক্তিত্ব ইন্টারনেট বিজনেসের সূদুর প্রসারি স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি কারিগরি যোগ্যতায় Tier-2 কোম্পানির পুরোধা এবং নিজ মেধা, শ্রম এবং দুই হাজার কোটি টাকা এই খাতে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি বা তাঁর কোম্পানিকে NTTN licence দেয়া হয়নি....উপরন্তু তাঁর কোম্পানির IIG, ISP সহ সবধরনের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হয়েছে অসার অজুহাতে। দেশব্যাপী ২১ হাজার কিলোমিটার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৯:৪৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা পরবর্তী সময়ের ভয়াবহ পিরিস্থিতি মোকাবেলায় দলমত নির্বিশেষে সকলের এক সাথে কাজ করতে হবে

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:২১


মানব জাতির ইতিহাসে কখনো এমন সময় আসেনি যখন সকল ধর্মের সকল উপাসনালয়, ইবাদত খানা বন্ধ। প্রায় অর্ধেক দুনিয়ায় এখন মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা, চার্চ, মন্দির বন্ধ। হজ্জ অনেক বার বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কতিপয় শেয়াল পন্ডিতের কথায় ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১:১৭



ধর্ম এসেছে মানব কল্যানে। পৃথিবীতে প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে কেয়ামত অবধি ধর্ম থাকবে। পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, আছে উপ ধর্ম এবং তার শাখা প্রশাখা। প্রতিটি ধর্মই নিজেকে সেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় ধনীরা বেঁচে গেলেও গরীবরা মারা যাবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১:২৭



কোভিড ১৯ রোগের চিকিৎসার ভয়ংকর খরচ সম্পর্কে বলিঃ এটা কিন্তু বেশ বড়লোকি রোগ। ধরুন আপনার করোনা হলো। আমি চাইনা হোক, মনে মনে একটু ধরে নিন আপাতত। প্রথমে ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীরা নাকি মনোনীত জাতি, তাদের ধর্ম মনোনীত ধর্ম

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:৫৬



ধর্মীয় ইহুদীরা দাবী করে যে, আল্লাহ ইহুদীদের পুর্ব পুরুষদের যেরুসালেমর চারিদিকে (ইসরায়েল ) ভুমি দেয়ার কথা প্রমিজ করেছিলেন! আপনার বিশ্বাস হয়? আমার হয় না। তারা বলে, তারা আল্লাহের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠ্যাঙের মুণ্ডু

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৮:১৭



ছবিতে : ভাগিনা (এডিটেড)

তালগাছে এক ষাঁড় উঠেছে
চিকন একটা মই বেয়ে
পাগলা খাঁসি খাচ্ছে খাবি
বিন্নি ধানের খই খেয়ে

বেজির সাথে লড়াই করে
বাঘটা ভীষণ হাঁপাচ্ছে
কানের ভেতর ডেঙ্গু মশা
সিংহটা তাই লাফাচ্ছে

মাকড়সাকে খামচি দিয়ে
পালাচ্ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×