ঈশ্বর দাসদের জন্য ঈশ্বর নাই.....
নিত্যকার রুটিন মতো সকালের হাটাহাটি করে ফেরার পথে দেখি মুখের ময়লা মাস্কটা নামিয়ে উবু হয়ে বসে হাঁফ ছেড়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। পাশে ময়লা টানা ঠেলা গাড়ি। বছরের ৩৬৫ দিন সকালে আসে ময়লা নিতে। ঈদ, পুজো, বড়ো দিনও কোন ছুটি নেই বরং ঈদের কয়েকদিন দুই বেলা ময়লা নিতে হয়। আমাদের বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নিয়ে রিকশা ভ্যানে ভরে রিকশা ভ্যান ঠেলে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং স্পটে। বললাম - ভালো আছেন।
নিশ্বাস টেনে বলল - হ্যাঁ।
ঈশ্বর দাস, বয়স ৪০/৫০ বছর হলেও মনে হয় ৭০ বছরের বৃদ্ধ। মাঝেমধ্যে আমিই যেচে ওদের সাথে কথা বলি। ঘরের পুরনো কাপড় চোপড়, কখনো কিছু খাবার দেই। স্ত্রী বাসন্তি দাস আর ওদের কিশোর ছেলে বুদ্ধ দাসকে নিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে। ছেলেটা অসুস্থ তাই আজ স্বামী স্ত্রী দুজনেই ময়লা সংগ্রহ করে ভ্যান ঠেলে ক্লান্তিতে ভেংগে পরেছে। এলাকার ২৫০ টি ফ্ল্যাট/বাড়ি থেকে ময়লা টেনে মাস শেষে বেতন ৭০০০/-, অথচ প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে ময়লা নেওয়ার জন্য মাস প্রতি আমরা ঠিকাদারকে দেই ২০০/-। ওদের তিনজনেরই গায়ের রঙ ময়লা থেকেও বেশী ময়লা। ওরা জানে ওদের সামাজিক অবস্থান... ওদের সম্বল বলতে আছে পরিশ্রম আর বিনয়।
আমি পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে বললাম - ছেলের জন্য কিছু কিনে নেবেন।
বসা থেকে উঠে গায়ের ময়লা জামায় হাত মুছে দু হাত এমনভাবে পাতলেন যেন আমি পূজোর প্রসাদ দিচ্ছি। আমি দিলাম। উনি সেজদা দেওয়ার মতো করে প্রণাম করলেন।
"ঈশ্বর মানুষকে রুটি দেবেনা, কাজ দেবেনা, ঘর দেবেনা, চাকরি দেবেনা কিন্তু ধার্মিক হওয়ার গর্ব দেবে- যা খেয়ে বাঁচা যায় না।"
ঘরে এসে বারবার বাড়নো হাত দুটোর কথা মনে হচ্ছে...
ঈশ্বর নিজেই ঠিক করে দিয়েছেন- ঈশ্বর দাসদের জন্য ঈশ্বর নাই...অন্যের ঝুটা ময়লা পরিস্কার করে আর মাথানিচু করে হাত পাততেই ওদের জন্ম।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




