somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

অল আর ''কানকাটা রমজান.....

১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অল আর ''কানকাটা রমজান..... [/su



"Hugo Boss" ফ্যাশন জগতে অন্যতম অভিজাত ব্রান্ড। পা থেকে শুরু করে নারী পুরুষের সকল পোশাক, ঘড়ি, চশমা পারফিউম উৎপাদন ও বিপনন ব্যবসায়ী। Hugo Boss জার্মান নাগরিক। যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসাবে অংশগ্রহন করেছিল। যুদ্ধ শেষে ১৯২৩ সালে তার বাবার টেইলারিং দোকানে কাজ শুরু করে এবং দুই বন্ধুকে নিয়ে একটি ছোট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি শুরু করেছিল।
হুগো বস ১৯৩২ সাল পর্যন্ত মামুলি গার্মেন্টেস মালিক ছিল। ১৯৩৩ সালে নাৎসি দলের উত্থানের পর স্বৈরশাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের সময় হুগো বসের ভাগ্য বদলে যায়। অর্থনীতিবিদরা বলেন, "ফ্যাসিবাদীরা পুঁজিবাদী, কিন্তু তাদেরই এগিয়ে আসার সুযোগ দেয় যারা তাদের এজেন্ডায় পুরোপুরি চলার জন্য প্রস্তুত!"

অ্যাডল্ফ হিটলার হুগো বসকে বলেছিলেন, "ইহুদিরা শত্রু। ইহুদি ও রোমান জিপসিদের হত্যা করতে হবে। আপনি কি মনে করেন?"
হুগো বস জবাব দিয়েছিল, "আপনি যা বলবেন তা ভুল হতে পারে না, আমাকে আপনার সেবার সুযোগ দিন স্যার"!
জার্মান নাজি সরকার হুগো বসকে সেনাবাহিনীর সমস্ত পোশাক তৈরির চুক্তি দিয়েছিল। S.A, SS, Waffen SS, German Air Force, German Navy, National Socialist Motor Corps এবং হিটলার ইয়ুথ ব্রিগেড এর মতো সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ইউনিফর্ম ডিজাইন ও তৈরির সম্পূর্ণ চুক্তি হুগো বস পেয়েছিলো!
একজন সাধারণ পোশাক বিক্রেতা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে হুগো বস জার্মানির বৃহত্তম শিল্পপতি হয়ে যায়। সেই সময় লোকেরা বলত, "হিটলারের জুতোর ময়লা হুগো বস জিভ দিয়ে চেটে পরিষ্কার করে দেয়"! ধারণা করা হয়, সেই থেকেই জুতা চাটার ঐতিহাসিক ব্যংগচিত্র কোনো শিল্পী এঁকে থাকবেন।

জুতা চাটায় দোষ নাই যদি জুতা চেটে বেশুমার অর্থ বিত্তের মালিক হওয়া যায়! জার্মান নাগরিকদের করের পয়সায় সামরিক ইউনিফর্ম তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিল হুগো। তার উপার্জনের একটি বড় অংশ নাজি পার্টিকে দান করতো। খুশী হয়ে হিটলার তাকে ডাক বিভাগ এবং রেল কর্মীদের ইউনিফর্ম বানানোর কাজ দিয়েছিল। মুনাফার লোভে হুগো বস অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে তার কারখানায় ফরাসি, পোলিশ এবং ইহুদি বন্দীদের দাস- শ্রমিক করে কাজ করতে বাধ্য করতো!
১৯৪৫ সালে গণহত্যার সহযোগিতা ও নাৎসি পার্টির সমর্থনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল হুগো বসকে। এখানেও সে বিজয়ী শাসকদের জুতো চাটতে শুরু করে। তাকে ক্ষমা করার জন্য বিপুল পরিমাণ ঘুষ দেয়। হুগো বস ও তার সংস্থাকে সামান্য জরিমানা করে ক্ষমা করে দেয় প্রশাসন!

১৯৪৮ সালে, হুগো বস অসুস্থতায় মারা যায়। তবে নাৎসি সরকারের সহায়তায় হুগো বস এর প্রতিষ্ঠান 'HUGO BOSS' আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন পণ্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা!
১৯২৪ সনে প্রতিষ্ঠিত হুগো বস এর সদর দফতর
মেটজিনজেন, জার্মানি। বিশ্বব্যাপী ১১১৩ টিরও বেশি আউটলেট। কর্মচারীর সংখ্যা- ১৪,৬৮৫ জন।
২০১৮ সনে হুগো বসের অপারেটিং আয় ৭৩২৭৩৩ মিলিয়ন ডলার এবং নিট প্রোফিট ৬৩৪৬ মিলিয়ন ডলার। মোট সম্পদ ৮,৫১,৮৫৮ মিলিয়ন ডলার।

প্রাচীনকালে রাজা বাদশাদের সহায়তায় বণিক শ্রেণী ধন-সম্পদ অর্জন করত। সেই প্রথা এখনো চলছে ভিন্নভাবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সরকারের আশীর্বাদে কিছু লোক আমাকে, আপনাকে, আমাদেরকে শোষণ করে শিল্পপতি হচ্ছে! তারা ভিআইপি, সিআইপি। খোঁজ নিলে দেখা যাবে বেশীরভাগ ভিআইপি, সিআইপি'র অতীত ইতিহাস "কানকাটা রমজান"!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:৩২
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×