
কারোর বাহ্যিক সৌন্দর্য থেকে অন্তর্নিহিত মননশীল সৌন্দর্য গুন, যোগ্যতা এবং মেধাকে আমি অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তেমনই একজন নায়িকা স্মিতা পাতিল। স্মিতা পাতিল অভিনীত 'ভূমিকা’ ছবিটি আবারও দেখে গ্লামার থেকে গুনের যথার্থতাই স্বার্থক প্রমাণিত হয়েছে।
তথাকথিত গ্লামারবিহীন আপাত অগোছালো সাদামাটা চেহারা- অথচ তার মেদবিহীন দীর্ঘ ছিপছিপে তনু, নির্মল নিস্কলুষ সারল্যের হাসি, মেধার ঔজ্জ্বল্যে ঝলমলে স্বাধীনচেতা নারীর ইমেজ, স্মিতা পাতিলকে করে তুলেছিল আশির দশকের যৌবনদৃপ্ত নতুন আইকন। অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত আর আত্মপ্রত্যয়ী এক জোড়া চোখই স্মিতা পাতিলের বাহ্যিক সৌন্দর্য্য, বাকী সবই মননশীল সৌন্দর্য।
১৯৫৫ সালে পুনেতে স্মিতা পাতিল জন্মগ্রহণ করেন। তার ক্যারিয়ার শুরু হয় দুরদর্শনে খবর পড়ার মধ্য দিয়ে। স্মিতা তখনও কলেজের ছাত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বিধায় তার সাথে দুরদর্শন কোন চুক্তিপত্র না করে তাকে দৈনিক ভাতার শর্তে চাকরিতে নিয়োগ দেয়। মিডিয়ায় সংবাদ পাঠে স্মিতার প্রথম ক্যারিয়ার শুরু।
এ সময় ফিল্মসিটি মুম্বাইয়ের অনেকেরই নজর পড়ে তার ওপর। চিত্রপরিচালক শ্যাম বেনেগাল তার নতুন ছবি ‘চরণদাস চোর’- এর জন্য তিনি পছন্দ করেন স্মিতাকে।
‘চরণদাস চোর’ ছবিতে রানির ভূমিকায় স্মিতাকে এত মিষ্টি আর আকর্ষণীয় লাগছিল যে, দর্শক স্মিতা নামেই বিমোহিত! শ্যাম বেনেগাল স্মিতাকে নিয়ে আরও একটা ছবি বানানোর প্রস্তাব দিলেন প্রথম ছবির ছয়গুন বেশী সম্মানী দিয়ে। শুরু হলো স্মিতার নতুন ছবি ‘নিশান্ত’। নিশান্ত, স্মিতার দ্বিতীয় ছবি।
‘ভূমিকা’ ছিল স্মিতাকে নিয়ে শ্যাম বেনেগালের তৃতীয় ছবি। এই ছবি স্মিতাকে সর্বভারতীয় পরিচিতি এনে দেয়। প্রথমবারের মতো স্মিতা সেরা অভিনেত্রীর রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভুষিত হন। এরপর থেকেই বলিউডের মুলধারার ছবি তথা কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয়ের অফার আসতে শুরু হয়।
শুরুতে স্মিতার বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলিউডের কমার্শিয়াল ছবির চটুল সংলাপ আর উত্তেজক পোষাকের সাথে খাপ খাওয়াতে। তার তুমুল পেশাদারীত্ব খুব দ্রুত তাকে সাহায্য করেছে সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে। শুরু হয় বাণিজ্যিক ছবিতে স্মিতার অভিনয়। কাহিনির প্রয়োজনে যা ছবিতে প্রয়োজন তা নিয়ে স্মিতার কোনো জড়তা কখনও ছিল না। কিন্ত যার উপযোগিতা শুধুই মনোরঞ্জনে, নিছক পুরুষের রিপুর তৃপ্তিতে, যা নারীর জন্য অবমাননাকর, নারীকে যা চিত্রিত করে অধঃপতিত হিসাবে তা তিনি কখনও মেনে নেননি।
স্মিতা পাতিল ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, টেলিভিশন ও থিয়েটার কর্মী ছিলেন। তিনি তার সময়কালে শ্রেষ্ঠ মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রীরূপে আখ্যায়িত হয়ে থাকেন। এক দশকেরও অধিক সময় অভিনয়কর্মে হিন্দি ও মারাঠি ভাষার ৮০-এর অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ১৯৮৬ সনে মাত্র ৩১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




