somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জোহনারিসম"(Johanism)....

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জোহনারিসম"(Johanism)....

নাথান জোহনার একজন বিজ্ঞানীর নাম। তার নাম থেকেই "জোহনারিসম"(Johanism) শব্দ এবং মতো বাদের উৎপত্তি। শব্দটির ব্যাখ্যা- একটা সহজ সরল সত্যকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মানুষের সামনে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং ভুল বার্তা গ্রহণ করে।

সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো যে কত সহজ, তা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রমাণ করেন নাথান জোহনার।
ছাত্রাবস্থায় তিনি তাঁর সহপাঠীদের সামনে একটা সাইন্স প্রজেক্ট এর উপস্থাপনা করেন।

বিষয় ছিল দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক 'ডাইহাইড্রোজেন মনোক্সাইড' ব্যবহার বন্ধ করার দাবী! তাঁর পুরো বক্তৃতায় তিনি সম্পুর্ণ সঠিক বৈজ্ঞানিক যুক্তি সাজিয়ে ব্যাখ্যা করলেন, কেন 'ডাইহাইড্রোজেন মনোক্সাইড' নামক রাসায়নিকের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করা উচিৎ।

তিনি বলেনঃ ডাইহাইড্রোজেন মনোক্সাইড -
১. গ্যাসীয় অবস্থায় ভয়ংকর ভাবে চামড়া পুড়িয়ে দিতে পারে।
২. ধাতুর ক্ষয় ও মরচে সৃষ্টি করে।
৩. প্রতি বছর অগণিত মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।
৪. টিউমার, ফোড়া ও এসিড রেইনের মধ্যে রাসায়নিকটা পাওয়া যায়।
৫. অধিক পেটে গেলে বারে বারে প্রস্রাব ও উদরপীড়া হয়।
৬. তিনি এও বলেন, যদি রাসায়নিকটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায় এবং বেশ কিছুদিন রাসায়নিকটাকে বর্জন করে থতাহলেও আপনার মৃত্যুও হতে পারে।

বক্তৃতা শেষে তিনি সহপাঠীদের জিজ্ঞাসা করেন, "এবার বলো তোমরা কে কে এই রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিৎ বলে মনে করো?"

দেখা যায় পঞ্চাশ জনের মধ্যে তেতাল্লিশ জনই বন্ধ করার পক্ষে হাত তোলে।
(বাকীটা পড়ার আগে এই ব‍্যাপারে আপনিও নিজের মতামত গ্রহণ করুন)

এতক্ষণে অনেকেই নিশ্চয়ই রাসায়নিকটাকে চিনে ফেলেছেন। হ্যাঁ, ওটা মোটেই বিষাক্ত বা সাংঘাতিক কোন রাসায়নিক নয়। 'ডাইহাইড্রোজেন মনোক্সাইড' হল আসলে আমাদের অতি পরিচিত 'পানি'- যার অপর নাম জীবন!

মজার ব্যাপার হল, জোহনার কিন্তু একটা কথাও মিথ্যে বলেননি। বরং তাঁর প্রত্যেকটা কথাই ছিল ১০০% খাঁটি বৈজ্ঞানিক সত্য।
* পানি ফুটে যে বাষ্প বা স্টীম হয় তা সত্যিই চামড়া পোড়াতে পারে।
* লোহার মরচে আর অন্য ধাতুর ক্ষয় পানি আর বাতাসের অক্সিজেন দিয়েই হয়।
* বন্যায় প্রতি বছর বহু মানুষ মারা যায়।
* টিউমার, ফোড়া ইত্যাদিতে পানি থাকবেই! রক্ত, প্লাজমা, লসিকা ইত্যাদি যে কোন দেহরসেরইতো পানি প্রধান উপাদান।
* এসিড রেইন মানে তো পানি থাকবেই।
* পানি বেশি খেলে বারে বারে প্রস্রাব আর পেটে ব্যথাও হবে।
* আর কে না জানে পানির ওপর আমরা সবাই নির্ভরশীল। বেশি দিন পানি ছাড়া কেউ বাঁচে নাকি?

তাহলে দেখুন, এই সহজ সত্যিগুলোকেই জোহনার এমনভাবে উপস্থাপন করলেন যে সবার মনে হল, পানি একটা মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক!

তবে জোহনার শুধু পরীক্ষামূলক ভাবেই এই বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞান না জানা সাধারণ মানুষের সামনে যদি কোন বৈজ্ঞানিক বিষয়কে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলা হয়, তাহলে তাদের মনে বিষয়টা সম্পর্কে সম্পুর্ণ ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করে দেওয়া সম্ভব।
************

আমরা প্রায়শই নিম্নরূপ খবরের শিরোনাম দেখতে পাই-
১. পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে বিশালাকার গ্রহাণু; ধ্বংস হয়ে যাবে বিশাল এলাকা!

২. ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের সম্ভাবনা; প্রলয় কি তবে আসন্ন?

৩. আগামী দশকেই ধ্বংস হবে পৃথিবী; শুনুন কি বলছেন বিজ্ঞানীরা।

এগুলো সবই একধরনের জোহনারিজম। বলাই বাহুল্য TRP বাড়ানোর জন্য। টেকনিকালি বা লিগালি ভুল বলা যাবে না, কিন্তু মিসলিডিং আর এথিকালি/নৈতিকভাবে সঠিক নয়, কারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৮
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×