somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

আসুন, ঘর থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু করি............

১৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসুন, ঘর থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু করি............

মশাবাহিত একটি রোগ হচ্ছে ডেঙ্গু। এটি ভাইরাসজনিত একটি জ্বর, যা ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে হয়। মশার কামড়ে এই ভাইরাস একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায়। তবে মশা কামড়ালেই ডেঙ্গুজ্বর হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। মশা অনেক রকম আছে, সব মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয় না। শুধুমাত্র "এডিস ইজিপটাই" বা "এডিস এলরোপিকটাস" জাতের স্ত্রী মশার কামড়ে এ রোগ হয়। যদি কোন এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের কোন রোগীকে কামড়ায়, তারপর ঐ মশাটিই যদি সুস্থ কোন লোককে কামড়ায় তবেই সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে। ইদানীং অবশ্য কিউলেস্ক মশা দিয়েও এ রোগ হয় বলে কথা উঠেছে, তবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মজার ব্যাপার হলো, এই এডিস মশা দিনেই বেশি কামড়ায় এবং রোগ ছড়ায়। এডিস মশার আরেকটি ব্যতিক্রমি বৈশিষ্ট্য হলো, এরা ছোট্ট আবদ্ধ স্থানের স্বচ্ছ পানিতে জন্মায়। যেমন ফুলের টবে, ফুলদানিতে, এয়ারকন্ডিশনার ও ফ্রিজের নিচের ট্রেতে। অর্থাৎ এডিস মশা নদী-নালা-ডোবা-খাল-বিল-পুকুরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ঘরের ভেতরেই বংশবিস্তার করে বেশি। আর সেজন্যই লক্ষণীয় যে, ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ গ্রামের চেয়ে শহরাঞ্চলে এবং গরিবের চেয়ে অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি।

শুনলে হয়তো আঁতকে উঠবেন, আমাদের অনেকেরই অজান্তেই ডেঙ্গুজ্বর হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গুজ্বর বাংলাদেশে আগেও ছিল, তবে সেটা এত ব্যাপক আকারে না থাকায় এবং নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকাশ পায়নি। সাধারণ ভাইরাস জ্বর বলেই সেটাকে ধরে নেয়া হতো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব আছে। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতেও এ জ্বরের প্রকোপ রয়েছে। এতদিন ধারণা করা হতো, আমাদের দেশে ডেঙ্গু জ্বর শুধু বর্ষা মৌসুমেই হয়। এখন কিন্তু দেখা যাচ্ছে সারা বছর জুড়েই কমবেশী ডেঙ্গুজ্বর হচ্ছে। জনগণ ও চিকিৎসকগণ ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে প্রথম দিকে অনেকটাই অনভিজ্ঞ ছিলেন। দিনে দিনে অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী হচ্ছে। আর ভয়, ভীতি, সংশয়ও দিন দিন কেটে যাচ্ছে। মশার কামড়ে শুধু ডেঙ্গুজ্বরই নয়, আরো বেশ কয়েকটি রোগ ছড়ায়। যেমন ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ইত্যাদি। ম্যালেরিয়া জ্বরেও অনেকের মৃত্যু ঘটে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার "সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া" অত্যন্ত ভয়াবহ।

ডেঙ্গুজ্বর জটিল আকার ধারণ করলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে-এ কথা ঠিক। তবে জ্বর হলেই তা ডেঙ্গুজ্বর, ডেঙ্গু হলেই মারাত্মক কিছু, ডেঙ্গুজ্বর হলেই রক্ত দিতে হবে আর রক্ত মানেই মৃত্যুর হাতছানি-এ ধরনের ধারণা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। কারণ জ্বর অনেক কারণেই হয়ে থাকে এবং অনেক ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দিয়েই জ্বর হয়। তার মধ্যে ডেঙ্গুজ্বর শুধু এক ধরনের জ্বর। আর অধিকাংশ ডেঙ্গুজ্বরই আপনা-আপনিই ভালো হয়ে যায়। ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েড জ্বরও কম মারাত্মক নয়।

আক্রান্ত এডিস মশা কামড়ানোর এক সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরে উচ্চ তাপমাত্রা, মাথায়-চোখে-মাংসপেশীতে ও হাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। যা কয়েকদিন পরে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। ডেঙ্গুজ্বরের জটিলতা জ্বর চলে যাবার পরেই সাধারণত বেশি হয়। আর তাই জ্বর চলে গেলেও রোগীকে আশংকামুক্ত হবার জন্য অন্তত ৭২ ঘণ্টা বিশ্রামে থাকতে হবে। আর জটিল ডেঙ্গু হিমোরেজিক জ্বরের বেলায় এসব লক্ষণের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। যেমন-ত্বকের নিচে, মাঢ়ি দিয়ে, নাক দিয়ে এবং বমি বা পায়খানার সঙ্গে। রক্তক্ষরণ বেশি হলে বা বিশেষ কোন প্রয়োজনে কোন কোন রোগীকে আইভি স্যালাইন, রক্ত বা রক্তের প্লেটলেট দেবার দরকার হতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুহার খুব বেশি না হলেও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে রোগীর সেবা-যত্ন ও চিকিৎসা সব সময় একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

সাধারণত ডেঙ্গুজ্বরে রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করলেও চলে। রোগীর সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা করলেই রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে জটিলতা দেখা দিলে ঝুঁকি না নিয়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোই নিরাপদ। যাতে করে রোগীর যখন যা প্রয়োজন তা করা যায়। ডেঙ্গুজ্বরে রোগীর খাওয়া-দাওয়ায় কোন প্রকার বাছ-বিচার নেই। বরং শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পানি, অন্যান্য তরল ও স্বাভাবিক খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে।

দু'টি কথা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। তা হলো (১) ডেঙ্গুজ্বরে ব্যথা ও তাপমাত্রা কমাতে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। (২) ডেঙ্গুজ্বরের রোগীকে অবশ্যই সারা দিন-রাত মশারির নিচে রাখতে হবে। কারণ এই রোগীটিকে মশা কামড়ালে ঐ মশা আবার যাকে কামড়াবে তারই ডেঙ্গুজ্বর হবে।

বিজ্ঞানীদের অবিরাম চেষ্টার পরও ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে আজ পর্যন্ত কোন নিশ্চিত কার্যকরী কোন ভ্যাক্সিন বা টিকা বের হয়নি। ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ভাইরাস হওয়াতে এর কোন সরাসরি সুনির্দিষ্ট ওষুধও নেই। কাজেই ডেঙ্গুজ্বর যাতে না হয়, সেদিকেই সবার দৃষ্টি দেয়া দরকার। যার জন্য প্রয়োজন ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে ঘরের ভেতর ও বাইরে থেকে সমূলে ধ্বংস করা। আর সচেতনতাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই আসুন, আমরা সবাই নিজ ঘর থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু করি।।

ডেঙ্গু মশা কি ভাবে চিনবেনঃ এই মশা অন্য সব মশার চাইতে ভীষন আন্সমার্ট! মশা বসা অবস্থায় লেজ নীচের দিকে নুইয়ে থাকে কিন্তু পাখা থাকে উপড় দিকে। সাইজে কিছুটা বড়। গায়ের রঙ কালো এবং ধুসর। স্বভাবে কিছুটা বেহায়া টাইপের। অনেকটা আগ্রাসী মনোভাবের। তাড়ালেও সহজে চলে যায়না। কিছুটা ধীর লয়ে উড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৪২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×