somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

পুরুষতান্ত্রিকতা নারীদেরই তৈরী....

১৯ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরুষতান্ত্রিকতা নারীদেরই তৈরী....

তিনটা বিষয় নিয়ে লেখা বা মত প্রকাশ, আমি সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাই। রাজনীতি, ধর্ম এবং ফেমিনিজম। রাজনীতি নিয়ে কেনো আমি বোবা কালা বধির- সেটা আমার বেশীরভাগ বন্ধুদের জানা। অন্যদিকে, ধর্ম এবং ফেমিনিজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটো বিষয় নিয়েই আমার সামান্য ভাবনা আছে কিন্তু যারা এ বিষয় দুটির এডভোকেসী বা প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁদের অনেককে দেখেছি প্রবল একরৈখিক, ৩৬০ ডিগ্রী তাঁরা দেখেন না বা ভাবেন না, অপরকে সহজেই ট্যাগ করেন। ধর্ম নিয়ে আলাপ তাঁদের চিন্তার সাথে না মিললে নাস্তিক ট্যাগের আশংকা থাকে, ফেমিনিজম ভাবনা না মিললে মেল শভেনিস্ট/ নারী বিদ্বেষী ট্যাগ করে।

শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও মানুষের আরো যেসব সামর্থ্য আছে- আবেগ, সংবেদনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, মানবিক বোধ সেসবে শারীরিক সামর্থ্যে আপাতঃ এগিয়ে থাকা কী পুরুষের নিজের ক্ষতি করেনি? পিছিয়ে পরেনি? যে যুগে শারীরিক সামর্থ সমাজকে নিয়ন্ত্রন করেছে সেই সামন্ততান্ত্রিক সময়ে ধারনা হয়েছে- 'সুপুরুষ সেই, যার পেশীবহুল বিশাল শরীর আছে'। এই ধারনা কেবল পুরুষ বহন করেনি, নারীও করেছেন। নারীও তাঁর সুপুরুষ হিসেবে গ্রহন করেছেন 'শারীরিক ভাবে সামর্থ্যবান'কে। পরবর্তীতে ধনতান্ত্রিক সমাজে 'টাকা কামানোই সামর্থ্যের পরিচায়ক' হয়েছে। ট্যাকাটুকা না কামালে আবার ব্যাটা হয় নাকি? প্রদর্শনপ্রিয় সমাজে- 'গোঁফ না থাকলে, মাসল না থাকলে ব্যাটা ব্যাটা লাগেনা'- এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছে আমাদেরই মা বোন কন্যা, তথা নারী জাতি।

পুরুষকে পুরুষালী, ম্যানলি- স্বীকৃতি তো পেতে হয়েছে নারীর থেকেই। স্বীকৃতি পাবার জন্য এই যে ক্ষমতাবান হয়ে উঠার, প্রবল ও পরাক্রান্ত হয়ে উঠার প্রেসার সেটা পুরুষকে দুর্বল করেছে, চরিত্রহীন করেছে।
স্নেহ, ভালোবাসা, চোখের জল, কোমলতার মতো মানবিক শক্তিগুলো পুরুষের জন্য প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক সামর্থ্য বা আর্থিক সক্ষমতার উপর যখন আর তার অধিকার একচেটিয়া নেই তখন সে দেখছে, মানবিক শক্তিগুলো তার ভেতরে সেভাবে আসলে তৈরীই হয়নি!

নারীর শক্তির জায়গা সবসময়ই সেসব যা পুরুষ অর্জন করতে পারেনি তার পৌরুষের ভারে। আবেগ, স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, চোখের জলের মতো অসামান্য কার্যকরী অস্ত্র নারী দখল করেছে, ব্যবহার করেছে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। সামাজিক পরিবর্তনের সুযোগে নারী আর সব সামর্থ্যও অর্জন করছে। আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সামর্থ তো বটেই শারীরিক সামর্থ্যে ও পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই- তবুও নারীরাই পুরুষ তোষণে নিজেদের বিলিয়ে দেয়।

সামর্থ্যবান হয়ে উঠার উপযোগ হিসাবে পুরুষ এতোকাল যা কিছুর চর্চা করে এসেছে নিজের মানবিক শক্তিকে উপেক্ষা করে, সামর্থ্যবান হয়ে উঠা নারীরাও অনেক ক্ষেত্রে সেইসব উপযোগ কুড়িয়ে নিচ্ছেন। প্রবল হয়ে উঠা, আধিপত্যও দখলদারিত্ব দেখানো এবং সেই সাথে সংবেদনশীলতা ও মানবিক বোধ হারানো।

বিষয়টা কি তাহলে লিঙ্গ নিরপেক্ষ?
বিষয় কি তাহলে সামর্থ্যের সাথে ক্ষমতার সম্পর্ক?
বিষয় কি তাহলে এমন, ক্ষমতাবান যে জেন্ডারই হোক সে প্রবল হয়ে উঠবে, মানবিক বোধ হারাবে?
আমি একটা সিধা জিনিস বুঝছি, নানারকম ইজম-টিজম পুরুষকে আরও পুরুষ বানাইছে, নারীকে আরও নারী। মানসিকভাবে এরা কেউ ব্যক্তি বা মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৪২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×