পুরুষতান্ত্রিকতা নারীদেরই তৈরী....
তিনটা বিষয় নিয়ে লেখা বা মত প্রকাশ, আমি সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাই। রাজনীতি, ধর্ম এবং ফেমিনিজম। রাজনীতি নিয়ে কেনো আমি বোবা কালা বধির- সেটা আমার বেশীরভাগ বন্ধুদের জানা। অন্যদিকে, ধর্ম এবং ফেমিনিজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটো বিষয় নিয়েই আমার সামান্য ভাবনা আছে কিন্তু যারা এ বিষয় দুটির এডভোকেসী বা প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁদের অনেককে দেখেছি প্রবল একরৈখিক, ৩৬০ ডিগ্রী তাঁরা দেখেন না বা ভাবেন না, অপরকে সহজেই ট্যাগ করেন। ধর্ম নিয়ে আলাপ তাঁদের চিন্তার সাথে না মিললে নাস্তিক ট্যাগের আশংকা থাকে, ফেমিনিজম ভাবনা না মিললে মেল শভেনিস্ট/ নারী বিদ্বেষী ট্যাগ করে।
শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও মানুষের আরো যেসব সামর্থ্য আছে- আবেগ, সংবেদনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, মানবিক বোধ সেসবে শারীরিক সামর্থ্যে আপাতঃ এগিয়ে থাকা কী পুরুষের নিজের ক্ষতি করেনি? পিছিয়ে পরেনি? যে যুগে শারীরিক সামর্থ সমাজকে নিয়ন্ত্রন করেছে সেই সামন্ততান্ত্রিক সময়ে ধারনা হয়েছে- 'সুপুরুষ সেই, যার পেশীবহুল বিশাল শরীর আছে'। এই ধারনা কেবল পুরুষ বহন করেনি, নারীও করেছেন। নারীও তাঁর সুপুরুষ হিসেবে গ্রহন করেছেন 'শারীরিক ভাবে সামর্থ্যবান'কে। পরবর্তীতে ধনতান্ত্রিক সমাজে 'টাকা কামানোই সামর্থ্যের পরিচায়ক' হয়েছে। ট্যাকাটুকা না কামালে আবার ব্যাটা হয় নাকি? প্রদর্শনপ্রিয় সমাজে- 'গোঁফ না থাকলে, মাসল না থাকলে ব্যাটা ব্যাটা লাগেনা'- এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছে আমাদেরই মা বোন কন্যা, তথা নারী জাতি।
পুরুষকে পুরুষালী, ম্যানলি- স্বীকৃতি তো পেতে হয়েছে নারীর থেকেই। স্বীকৃতি পাবার জন্য এই যে ক্ষমতাবান হয়ে উঠার, প্রবল ও পরাক্রান্ত হয়ে উঠার প্রেসার সেটা পুরুষকে দুর্বল করেছে, চরিত্রহীন করেছে।
স্নেহ, ভালোবাসা, চোখের জল, কোমলতার মতো মানবিক শক্তিগুলো পুরুষের জন্য প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক সামর্থ্য বা আর্থিক সক্ষমতার উপর যখন আর তার অধিকার একচেটিয়া নেই তখন সে দেখছে, মানবিক শক্তিগুলো তার ভেতরে সেভাবে আসলে তৈরীই হয়নি!
নারীর শক্তির জায়গা সবসময়ই সেসব যা পুরুষ অর্জন করতে পারেনি তার পৌরুষের ভারে। আবেগ, স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, চোখের জলের মতো অসামান্য কার্যকরী অস্ত্র নারী দখল করেছে, ব্যবহার করেছে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। সামাজিক পরিবর্তনের সুযোগে নারী আর সব সামর্থ্যও অর্জন করছে। আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সামর্থ তো বটেই শারীরিক সামর্থ্যে ও পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই- তবুও নারীরাই পুরুষ তোষণে নিজেদের বিলিয়ে দেয়।
সামর্থ্যবান হয়ে উঠার উপযোগ হিসাবে পুরুষ এতোকাল যা কিছুর চর্চা করে এসেছে নিজের মানবিক শক্তিকে উপেক্ষা করে, সামর্থ্যবান হয়ে উঠা নারীরাও অনেক ক্ষেত্রে সেইসব উপযোগ কুড়িয়ে নিচ্ছেন। প্রবল হয়ে উঠা, আধিপত্যও দখলদারিত্ব দেখানো এবং সেই সাথে সংবেদনশীলতা ও মানবিক বোধ হারানো।
বিষয়টা কি তাহলে লিঙ্গ নিরপেক্ষ?
বিষয় কি তাহলে সামর্থ্যের সাথে ক্ষমতার সম্পর্ক?
বিষয় কি তাহলে এমন, ক্ষমতাবান যে জেন্ডারই হোক সে প্রবল হয়ে উঠবে, মানবিক বোধ হারাবে?
আমি একটা সিধা জিনিস বুঝছি, নানারকম ইজম-টিজম পুরুষকে আরও পুরুষ বানাইছে, নারীকে আরও নারী। মানসিকভাবে এরা কেউ ব্যক্তি বা মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

