
এক কবিয়াল বাউলের গল্প।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি ১৮৪৫-১৮৫০ এর মধ্যে শিলাইদহের কাছাকাছি আড়া পাড়া গ্রামে জন্ম হয় এই প্রতিভার। তার দেহতত্বের গানে লালনের প্রভাব উপলব্ধি করা যায়। তাঁর সময়কাল রবীন্দ্র এবং লালন সমসাময়িক এবং তথাকথিত না হলেও তিনি লালন সাইজীর অনুগামী ছিলেন বলাই বাহুল্য। তাঁর নাম গগন চন্দ্র দাস, সাধারণ এক কৃষক পরিবারের ছেলে।যার নেহাতই ভালো লাগাছিলো লোকগান বা আঞ্চলিক মাটির গানের প্রতি! পেশায় তিনি পিওন অর্থাৎ চিঠি বিলির কাজ করতেন তাই গগন চন্দ্র দাস হয়ে উঠলেন গগন হরকরা। ডাক হরকরা থেকেই এই হরকরা শব্দটি গগনের নামের শেষে জুড়ে গেলো।
রবি ঠাকুর তার পৈত্রিক জমিদারি দেখাশোনা করতে শিলাইদহে বহুদিন ছিলেন এবং স্বাভাবিক ভাবেই তিনি গগন হরকরার গান শুনেছেন। তাঁর গগনের গান খুব পছন্দেরও ছিলো।
রবীন্দ্রনাথের লোকসঙ্গীত প্রীতি আমাদের সকলের জানা। কারণ তা না হলে তিনি তার গানে বিভিন্ন পাশ্চাত্য লোকগানের সুর ব্যবহার করতেন না। গগন হরকরার দুটি গানের সুরের সরাসরি প্রভাব রবি ঠাকুরের দুটি গানে প্রত্যক্ষ ভাবেই বিদ্যমান।
"ও মন অসাড় মায়ায় ভুলে রবে" এবং "আমি কোথায় পাবো তারে" গগন হরকরার এই দুটি গান-এর সুর থেকে অনুপ্রাণিত(নকল বলা সমুচিত হবেনা)রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন "যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক" এবং "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি"।
বিংশ শতকের গোড়ার দিকে কুষ্টিয়ায় মৃত্যু হয় গগণ হরকরার।
হঠাৎ করে গগণ হরকরার বিষয় অবতারণা কেন করেছি আশা করি সচেতন পাবলিককে সেটা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার দরকার নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




