'লেখাপড়া করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে'- ছোটবেলায় বহুবার এই শ্লোকবাক্য পড়েছি এবং গুণীজনদের কাছে শুনেছি। কিন্তু বড় হতে হতে জীবনের নানা বাঁকে এ কথার সত্যতা খুব বেশী খুঁজে পাইনি। কারণ লেখাপড়া ছাড়াও বৈধ-অবৈধ হাজারটা উপায়ে এ দেশে পরিচিতজনদের গাড়ি-ঘোড়া(বাড়ি) কিনতে দেখেছি। আমার স্কুল-কলেজের বন্ধুদের মধ্যে যারা সেই ছোটবেলায় স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেছিল তাদের অনেকেই আজ গাড়ি-বাড়ির মালিক। আর সেই বন্ধুরা যাদের পড়ালেখা অন্যদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছিল, অভিভাবকরা যাদের দেখিয়ে বলতেন, " ----- কত ভালো ছেলে, সব সময় পড়ালেখা নিয়ে থাকে। ক্লাসে প্রথম স্থান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে"- আজ তাদের অনেকেই ট্রেনে, বাসে, চড়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে।
অবশ্যই এ ক্ষেত্রে পড়ালেখাকে খুব দোষারোপ দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ মাঝপথে ওরা পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কারণেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বলেই হয়তো তাদের এমন দশা। কিন্তু যারা শিক্ষাজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পড়ার টেবিলকে তার একমাত্র আরাধনার জায়গা বলে মেনেছেন তারাও ওই পড়ালেখার শিক্ষা মেনে বৈধ পথে নিজের জন্য গাড়ি কিনতে পেরেছেন কতজন, সেই প্রশ্ন উত্থাপিত হতেই পারে। আর দু চারজন যারা ভালো করেছেন তাদের মধ্যে একজনকেও ঘোড়ার মালিক কিম্বা ঘোড়ায় চড়তে দেখিনি!
আমার বক্তব্যে মনে হতে পারে- যারা পড়ালেখা করে না তারাই ভালো আছে। সেই ভালো থাকা আপেক্ষিক বিষয়। কেউ যদি ছোটবেলায় শেখানো ওই বক্তব্যের মতো গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ার জন্য পড়ালেখা করে তবে ভিন্ন কথা। বর্তমানে পড়ালেখা করলে গাড়ি-ঘোড়ায় চড়া যায় কি যায় না সেই কথাটাই জিজ্ঞাস্য।
তবে পড়ালেখায় যে অন্যরকম এক সুখ আছে সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি। পড়ালেখার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি মাত্রই তা জানেন। আর জানেন বলেই তারা জীবনের নানা অর্থের প্রলোভন সত্ত্বেও পড়ালেখায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। কিন্তু পড়ালেখায় নিজেকে নিযুক্ত করা অর্থ উপার্জনের মতো অত সহজ নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




