somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ফেসবুক; মুখ না মুখোশ.....

২৭ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুক; মুখ না মুখোশ......

এক যুগ আগে ফেসবুকে নিজের নামে যখন আইডি খুলি তখন অনেক কিছুই জানতাম না, এখনো খুব কমই জানি এই সামাজিক মাধ্যমটি সম্পর্কে।

যেহেতু ব্লগে লেখালেখির জন্য কিছুটা পরিচিতি ছিলো তাই প্রথমদিকে ব্লগার বন্ধুরাই ফেসবুক বন্ধু ছিলেন। তারপর সমমনা ও অন্যান্য রাজনীতি সমর্থক বন্ধুদের সাথে সাথে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের অনেক জ্ঞানী গুণীজনদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পাই। ২০১৮ সনের অক্টোবর পর্যন্ত ফ্রেন্ড সংখ্যা চার হাজারের কাছাকাছি হলেও "ফলোয়ার" সংখ্যাটা ৪৬ হাজার প্লাস হয়ে যায়। যদিও অনেকের তুলনায় এটা নগণ্য হলেও আমার মতো অতি ক্ষুদ্র ও নগণ্য মানুষের জন্য অনেক বড়ো অর্জন ছিলো। তাই বন্ধুত্বের হাত যাঁরাই বাড়িয়েছেন, বা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন; কৃতজ্ঞ চিত্তে আমি তাঁদের স্মরণ করি।
ফেসবুক আমাকে দিয়েছে অনেক কিছু।

** দেশ বিদেশের বহু পুরাতন বন্ধু, যাঁদের সাথে বহুদিন যোগাযোগ ছিলোনা, নতুন করে তাদের অনেকের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

** বহু বন্ধু আত্মীয়, যাঁদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ দূরের কথা- নিয়মিত ফোনেও যোগাযোগ করে ওঠা হয় না, তাদের সাথে ফেসবুকে নিয়মিত ভাবের ও ভাবনার আদানপ্রদান ঘটে।

** নতুন অনেককে বন্ধু হিসেবে পেয়েছি, তাঁদের অনেকের সাথেই গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।

** অনেক গুণী ও অভিজ্ঞ মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখার সুযোগ হয়েছে; যা কিছুটা আলোকপ্রাপ্তি ও জীবনের প্রতি উৎসাহ বেড়েছে।
অন্যদিকে, হারিয়েছিও অনেক কিছু.... খারাপটুকু অপ্রকাশিতই থাক....

কিন্তু বিগত বেশ কয়েকটি ঘটনা মনটাকে অশান্ত করেছে। কখনো মনে হয়েছে, বেশিরভাগ মানুষই সামাজিক নয় বলেই এই বিভ্রান্তিকর সামাজিক মাধ্যমের রমরমা। এদের মুখের আড়ালে মুখোশ....কিম্বা মুখোশের আড়ালে মুখ!
তাই ফেসবুক বন্ধুদের আমি আমার মতো করে কয়েকটি "ক্যাটাগরি"তে ভাগ করেছি (কেউ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না, প্লিজ)।

(১) অতিবন্ধু: আপনি হয়তো একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদ লিখে পোস্ট করলেন, লেখাটা পড়তে নূনতম তিন-চার মিনিট হয়তো লাগার কথা। তিন-চার সেকেন্ডেই এঁরা আপনাকে লাইক দেবেন।

(২) গুপ্ত বন্ধু: এঁরা ফেসবুকে কিছু পোস্ট করবেন না। কিন্তু বন্ধু সংখ্যা বাড়িয়ে যাবেন। আর আপনি কি করছেন, কি ভাবছেন, সবকিছুই নজরদারি করতে থাকবেন। এঁদের উপস্থিতি অনেকটা ভৌতিক গা-ছমছমে ব্যাপার।

(৩) সুপ্ত বন্ধু: এঁরা আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন; বন্ধু হবেন। কিন্তু আপনার কোনো পোস্ট দেখার সময় পাবেন না। এরা বোঝা হলেও, ক্ষতিকারক নয়, ভালো কারকও নয়।

(৪) রুষ্ট বন্ধু: আপনি যাই পোস্ট করুন, এনাদের কাছে চক্ষুশূল হবেন। আপনার প্রতিটি বক্তব্যকে এনারা বাঁকাচোরা কথায় "ইয়ার্কি" করবেন! আপনার লেখায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে এনারা তা শুধরে নিতে সাহায্যও করবেনা।

(৫) ভালো বন্ধু: এনারা আপনার সমালোচনা ও প্রশংসা দুই করবেন।

(৬) বিজ্ঞাপনি বন্ধু: আপনার লেখা পড়ে মন্তব্য করতে না পারার জন্য তাদের হাহাকারে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ। আপনাকে মেসেঞ্জারে খোঁচাবে। এঁরা বন্ধু হয়েই এক মিনিটে ঝটপট ২০/২৫ টা পোস্টে লাইক দেবে, কদাচিৎ কমেন্টও করবে। তারপর আপনাকে তার পেইজে লাইক করতে ইনভাইট করবে। বিজ্ঞাপন খারাপ নয়, সহ্যের সীমা অতিক্রম না করলেই হলো।

(৭) চোর বন্ধু: 'হাইপো' বন্ধুও বলতে পারেন। এরা ব্লগেও সক্রিয়। এরা অন্যের তোলা ছবি, লেখা এবং সাহিত্যানুরাগীদের প্রবন্ধ, বিশ্লেষণ কপি করবে। কিছু শব্দ, বাক্য পাল্টে বা হুবহু একই রেখে অন্য কোথাও ব্যবহার করবে।
এ তালিকা অনেক বাড়ানো যায়। তবে এই পর্যন্ত পড়েই মনে হয় আমার অর্ধেক "বন্ধু" আমার প্রতি বিরাগভাজন হয়েছেন।
এই লেখা আমার কোনো অহংকার প্রকাশের জন্য নয়। কাউকে আঘাত দেওয়ারও জন্য নয়। বরং নিজ মনের বাইরে একটা প্রাচীর দেওয়ার জন্য।

আপনি যদি লাইক কমেন্টস এটেনশন শিকার না হন তাহলে অধিক বন্ধু রাখার দরকার নেই। অনেককে বন্ধুত্বের দায় থেকে রেহাই দেবেন। হয়তো আগাছার সাথে কিছু ভেষজসম্পদও বাদ পরে যাবে- তবুও স্বস্তিতে থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৩৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তালেবান ও টিটিপি বিতর্ক: নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর কি দিল্লির কোনো এজেন্ডা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৭


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝে আফগান তালেবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন পশ্চিমা বিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াজী হুজুররা যত ফুলেফেঁপে উঠেছে, তত বিপন্ন ও নিরন্ন হয়েছে লোকশিল্পীরা

লিখেছেন মিশু মিলন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৭



ওয়াজী হুজুরদের একচ্ছত্র আয়-রোজগারের পথে বড় বাধা ছিল গ্রামীণ মেলা, যাত্রা, পুতুলনাচ, সার্কাস। কোনো এলাকায় এসব অনুষ্ঠিত হলে সেই এলাকার মানুষ ওয়াজ শুনতে যেত না। বিকেল থেকে মাইকে ডাকাডাকি করলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহকালে আল্লাহর ইবাদত না করলে পরকালে আল্লাহর ইবাদত করতেই হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

* আল্লাহ মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা

রমজান মাসের ফরজ সিয়াম ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। তবে সাম্প্রতিক দশকে এটি কেবল ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১৬



প্রিয় কন্যা আমার-
আজ তোমার জন্মদিন। হ্যা আজ ৩১ ডিসেম্বর তোমার জন্মদিন। আজ বিশেষ একটি দিন! এবার জন্মদিনে তুমি আছো তোমার নানা বাড়ি। আমি আজ ভীষন ব্যস্ত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×