~~সম্পর্ক~~
ঘুন ধরা সমাজের উইপোকারা একটু একটু
করে ফোঁপরা করে ফেলেছে আমাদের জীবনের সাথে
জড়ানো ছোট বড়ো সম্পর্কগুলিকে। তার জন্যইতো আজ একাকিত্ব, বিষাদ আমাদের গ্রাস করে প্রতিনিয়ত, মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় নিয়তি সেজে। উঁই পোকার গ্রাসে আস্তে আস্তে মনের ভেতরটা ক্ষয় হতে হতে আজ ক্ষয়িষ্ণু পাথরে পরিণত হয়েছে জীবন।
সম্পর্ক ঘুনধরার পিছনে আমরা সবাই দায়ী। রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজ ও আমাদের বাড়ির পরিবেশ। রাজনীতির মুখোশ পড়ে ভণ্ডামির নামাবলি গায়ে দিয়ে যারা শিক্ষাংঙ্গনকে কলুষিত করছে, সেই কুকাজকে শিক্ষকরা মদত দিয়ে যে অসুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলেছে তাতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্কের খারাপ হচ্ছে। আজকের এই মূল্যবোধ হীনতার যুগে, অবক্ষয়িত সমাজে ছাত্র- ছাত্রীদের কাছে কোন আদর্শ না থাকায় তারা প্রয়োজনে শিক্ষক নিগ্ৰহের পথে পা বাড়াচ্ছে। এই অবক্ষয় সমাজের ঔদাসীন্যের শিকার হয়, অপসংস্কৃতি আর মূল্যবোধ হীনতায় আক্রান্ত হয়, তখন তাদের শুভা-শুভবোধ থাকে না।
তাছাড়া এখন আর একান্নবর্তী পরিবার নেই। অনেক গুলো ছেলে মেয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আর বড় হচ্ছে না। একা একা থেকে তারা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে, হয়ে যাচ্ছে নি:সঙ্গ। ফলে আমাদের মধ্যে সম্পর্কের ভাঙন। তাই কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা যায়, "শিক্ষার জন্য এখন আমাদের বনের প্রয়োজন আছে এবং গুরুগৃহও চাই। বন আমাদের সজীব বাসস্থান এবং গুরু আমাদের সহৃদয় শিক্ষক। এই বনে, এই গুরুগৃহে আজও বালক দিগকে ব্রম্ভচর্য পালন করিয়া শিক্ষা সমাধান করিতে হইবে। কালে আমাদের অবস্থার যতই পরিবর্তন হইয়া থাকুক, এই শিক্ষা নিয়মের উপযোগিতার কিছু মাত্র হ্রাস হয় নাই; কারণ, এ নিয়ম মনের চরিত্রের নিত্য সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
সম্পর্ক আজ কেবল কতগুলি সামাজিক চরিত্র মাত্র। জীবন মৃত্যুর মতোই চিরন্তন সত্য হলেও
যেন প্রাণহীন, বড্ডো বোঝা। তারমধ্যেই হয়তো মনের শান্তি খোঁজা। অনুভব হীন, কৃতঘ্ন সম্পর্ক গুলো ....যতই করুক জীবন ওলোটপালোট, তবুও হাসিমুখে বয়ে নিয়ে চলো আমৃত্যু।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




