স্পার্টাকাসদের মৃত্যু হয়না......
প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের ইতিহাস মানেই জুলিয়াস সিজার, অগাস্টাস সিজার, মার্কাস অ্যান্টনি, ক্লিওপেট্রার মত কিংবদন্তীদের প্রোজ্জ্বল উপস্থিতি। এমন ঐতিহাসিক আইকনদের ভিড়ে আরো একজনের নাম অপরিহার্য যার নাম ‘স্পার্টাকাস’। দাসদের একত্রিত করে, রোমান শাসকদের শোষণের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন স্পার্টাকাস। শ্রেণীহীন মানুষের জীবন ও অধিকারের প্রশ্নে তার সাহস, বিপ্লব এবং যুদ্ধগাঁথার কাহিনী আজো আলোচিত হয় পৃথিবীর নানা প্রান্তে।
প্রথম জীবনে স্পার্টকাস ছিলেন একজন রোমান ক্রীতদাস। ইতিহাসের পাতায় তার শৈশব জীবন সম্পর্কে তেমন নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তাই তার বিদ্রোহপূর্ব জীবনের অধিকাংশ তথ্যই অজানা। স্পার্টাকাসের জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ১১১ অব্দে; রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত থ্রেস অঞ্চলের এক গ্রামে। তরুণ স্পার্টাকাস তার শক্তিশালী শারীরিক গড়নের কারণে রোমান সেনাবাহিনীতে চাকরি লাভ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিবাদী স্বভাবের কারণে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়। চাকরিচ্যুত স্পার্টাকাসের ঠাঁই মিললো দাস বিক্রির হাটে। তিনি এক দিনমজুর ঠিকাদারের নিকট বিক্রি হয়ে যান- সে ইতিহাস অনেকেরই জানা...
বহু যুদ্ধ জয় করা স্পার্টাকাসও পরাজিত হয়েছেন। একদিন যে মুক্তির স্বপ্নে বিভোর হয়ে গ্ল্যাডিয়েটর স্কুল থেকে পালিয়ে রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবার পূর্বেই পতন ঘটে তার। কিন্তু তাকে কখনই ব্যর্থ বলা যাবে না। পৃথিবীর ইতিহাস স্পার্টাকাস হত্যাকারী সম্রাট ক্রেসাসকে মনে রাখেনি কিন্তু স্পার্টাকাসকে সবাই মনে রেখেছেন। স্পার্টাকাস সাময়িক ব্যর্থ হয়ে ছিলেন। কিন্তু তৈরী করে গিয়েছেন হাজারো স্পার্টাকাস অনুসারী, যাদের সংগ্রামের ফলে একদিন পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে রোমান সাম্রাজ্য। ইতিহাস স্পার্টাকাসদের কখনো ভুলবে না।
স্পার্টাকাস,
সেই কোন যুগে তুমি শিখিয়েছিলে "বিদ্রোহ";
দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
আজ তোমায় খুব মনে পড়ছে স্পার্টাকাস...
যেদিন তোমাকে কিনলো খনির অন্ধকার থেকে কোন এক জন্তুর কারবারি..
সে ভেবেছিল তুমিও হবে তার এক লড়াকু পশু।
যে চায় শুধু খাবার আর নারী....
তুমি প্রথম সেই মানুষ যে
পেরিয়েছিলে সেই কামনার নদী।
শুধু ভালোবেসে ছিলে মানুষকে;
শৃঙ্খল জর্জরিত মানুষ সেই রক্ত কুঠুরিতে বসে এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে ডেকেছিল তোমায় "পিতা" বলে। নিরাশ করোনি তুমি,
হয়েছিলে এক মুক্তিযোদ্ধা
মনুষ্যত্বের মুক্তিযোদ্ধা।
বেসেছিলে ভালো ওই হতভাগ্য মানুষ গুলোকে,
যাদের জীবন ছিল অন্ধকার জীবনের দাস।
আজ আমিও দাস।
ক্রীতদাস।
তুমি যে সিঁড়ি চড়তে
শিখিয়েছিলে আজ আমি তার মাঝামাঝি- তবু
আজও সম্পদের নীচে চাপা পড়ে আছে আমার জিহাদ, মনুষ্যত্ব, আমার কান্না।
সেই স্তুপে পা রেখে আজও শাসক চালাচ্ছে সেই মানুষ মারার হিংস্র খেলা। রক্ত চাই তার দাসেদের রক্ত। তৃষ্ণার্ত সে, সেই মাথা নত ক্ষণে দাড়াও আজও তুমি এসে।
আজও তোমার উরুতে গভীর ক্ষত
তোমার গালের মাংস ছিন্ন- ভিন্ন
তোমার হাতে, গলায়, পায়ে পড়ানো শিকল, তাও তুমিই সেই যার মাথা উঁচু আজও।
যে বলেছিল-
"আমি তোমাদের দাসত্ব করবো না, আমি মারবো না আর কোন মানুষকে নিতান্তই তোমার আনন্দের কারণে।"
বিশ্বাস করো স্পার্টাকাস। আজও আমরা সেই একই জীবন কাটাচ্ছি। আজও আমরা মানুষ মারছি শাসকের ইচ্ছায়। আজও আমি রোমান সাম্রাজ্যের সেই গ্লাডিয়েটর। যে প্রতিদিন যুদ্ধে যায় নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। যুদ্ধ করি শুধু আনন্দ দেওয়ার নামে!
ফিরে এসো স্পার্টাকাস,
একবার শুধু একবার
ক্রুশবিদ্ধ শরীরের বহমান
শোণিত ধারার মধ্যে থেকে চিৎকার করে বলো-
"FREEDOM IS MY BIRTH RIGHT."
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




