আমি বৃক্ষ হতে চাই....
আমার অনেক কিছু হবার সাধ ছিল। এক একসময় এক একটা কিছু হতে চাইতাম। তবে সব চাইতে বেশী ইচ্ছে করতো গাছ হতে। অবশ্য সেটা নিজের ইচ্ছায় নয়, আমার ছেলে বেলার বন্ধু শৈলেন মণ্ডল এর দেখাদেখি।
শৈলেন মণ্ডল স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওর বাবাকে হারায়(নিখোঁজ)। ওর বাবা ছিলেন বাগেরহাট পিসি কলেজের কেমিস্ট্রির শিক্ষক(ডেমোনেস্টেটর)। ওর বাবার মৃত্যুর পর ওর মা মানষিক অসুস্থতায় ভুগে স্বাধীনতার বছর খানিক পর পানিতে ডুবে মারা যান। শৈলেন আমার বন্ধু দেবুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে কয়েকবছর দেবুদের বাড়িতে আশ্রিত ছিল। দেবুর বাবা শৈলেনকে নবকুমার ইনস্টিটিউট এ ভর্তি করিয়ে দেন সপ্তম শ্রেণীতে। ক্লাসের পড়ায় অমনোযোগী হলেও প্রচুর সাহিত্যের বই পড়ার নেশা ছিলো। ৭৩ সনে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে শৈলেন মণ্ডল ইন্ডিয়া চলে যায়, আর ফিরে আসেনি। ওর ইচ্ছে ছিলো বটবৃক্ষ হবার! কেন বটবৃক্ষ হতে চায় তা জিজ্ঞেস করিনি। তবে ওর একটা খাতায় লিখেছিলো-
'বটগাছের উপর যদি আমার বাড়ি হত তাহলে কুড়িয়ে নিতাম ভালোবাসা। যে ভালোবাসা পাইনি কোনো দিন, সেই ভালোবাসা বটবৃক্ষ থেকে খুঁজে নিতাম নিজের করে! মনের কথা আপন মনে বলতাম ওই মেঘের মতো গাছটাকে। যদি বৃষ্টি আসতো প্রবল বেগে, গাছের পাতায় লুকিয়ে থাকতাম সারাটা দিন। তারপর সন্ধ্যে হত ধীরে ধীরে গাছের ফাঁকে তারাদের রূপকথা দেখতাম।'
বটবৃক্ষ হতে পারবোনা। ইচ্ছে করছে বট বৃক্ষের নিচে শুয়ে থাকতে। তারপর ঘুম আসুক ধীরে ধীরে বহুযুগের ক্লান্তিতে! সন্ধ্যা নামুক জোনাকির আলোয় ঝিঁঝিঁর ছন্দে, মিশে থাকুক না পাওয়া ভালোবাসা এক বিন্দু শিশির হয়ে...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




