
এখনো অবশ্য শীতের আমেজ সেভাবে টের পাওয়া যায়না। ভোরের দিকটায় হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে মাত্র। ফ্যান চালালে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, আবার না চালালেও কেমন একটা অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। এমতাবস্থায় রেগুলেটরের সদ্ব্যবহার করতে হচ্ছে।
শীতে তুলোর লেপ থেকে ব্ল্যাঙ্কেটই বেশি পছন্দ আমার। আজকাল সস্তায় বাহারি ব্ল্যাঙ্কেটের দাপটে লেপের ব্যবহার প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। মনে পড়ে, ছোটবেলায় শীতের শুরুতেই ঘুরে বেড়াতো 'লেপ তোশক বানাই' ডাক দেওয়া ধুনকরের দল। হাতে তুলোর ধুনাই যন্ত্র। ডগার দিকে ক্রমশ ছুঁচলো হয়ে যাওয়া বাঁশের চকচকে একটা লাঠি থেকে ঝুলন্ত লাল কাপড়ের পুঁটলি। শৈশবে ধুনুরির সেই মিষ্টি টিংটং আওয়াজ, আর বাতাসে তুলো ভেসে বেড়ানো দেখে অদ্ভুত ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে যেতাম। সে সবই আজ অতীত! সেই হাতে চালানো ধুনাই যন্ত্রের জায়গা আজ দখল করেছে মেশিন।
তবে অদুর ভবিষৎ, বাংলাদেশে শীতবস্ত্রের খুব একটা প্রয়োজন হবেনা। কারণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য যেভাবে বাংলাদেশের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমাদের দেশের ঋতু বৈচিত্র্যতা হারানো সময়ের ব্যাপার।
মুস্তাক আর রুস্তম, দু'ভাই। গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মাঠের এক কোনে লেপ তোশক সেলাই করছে। ওদের পূর্ব পুরুষের আদি বাড়ি ছিল বিহারের সমস্তিপুর। ১৯৪৭ সনে দেশ ভাগের আগে সব বিক্রিবাট্টা করে পাকাপাকি ভাবে পুরো পরিবার নিয়ে চলে আসে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানের খুলনার খালিসপুর। এখন মহম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
ওরা যেকোনো হাতের কাজে পারদর্শী। তবে নির্দিষ্ট কোনো পেশা নাই। একাত্তরে ওদের ভূমিকা, নাগরিকত্ব, চলাচল ও পেশায় আইনী সীমাবদ্ধতায় 'যখন যেমন, তখন তেমন' পেশায় নেমে যায় ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের প্রাণপণ চেষ্টায়.... ওদের সঙ্গে কথা বলে শুনলাম ওদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প...এখন ওদের কোনো দেশ নাই, কোনো এনআইডি নাই! ওরা নোম্যান্সল্যান্ডের বাসিন্দা হয়ে জেনেভা ক্যাম্প নামক নরক বন্দী!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




