খঞ্জনা........
কদিন যাবত আমাদের বাড়ির কাছে একজোড়া খঞ্জন/খঞ্জনা (wagtail) পাখি উড়তে দেখি। খঞ্জন/খঞ্জনা পাখি চেনার সহজ উপায় হচ্ছে, এই পাখি সাধারণত সোজাসুজি না উড়ে ঢেউ এর মত উঁচুনিচু হয়ে উড়ে বেড়ায়। তাছাড়া কোথাও বসলে লেজ নাড়া এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই পাখির গলার স্বরও খুব মিষ্টি। এরা পরিযায়ী পাখি। কয়েকদিন ছবি তোলার এটেম নিয়েও ভালো কোনো ছবি তুলতে পারিনি।

আজ সকাল সোয়া ছয়টায় বারান্দায় তাকিয়েই দেখি একজন জানালার বাইরে অপেক্ষা করছেন.....মাত্র ছয় ফুট দূরত্বে বসে আছেন! কী সুন্দর কাজল কালো চোখ! আর একজন অভিমান করে কিছুটা দূরে একটা ডালের উপর বসে আছেন। কাছে এবং দূরে সাবজেক্ট আমার ক্যামেরা রেঞ্জে- ঝটপট কয়েকটা ছবি তোলার পরই ঢেউ খেলানো ছন্দে উড়ে গেলেন.....উনারা যেনো এসেই ছিলেন আমার ইচ্ছাপুরণের জন্য! খঞ্জনার কাছাকাছি একটা তারের উপর বসে প্রেম করছিলো একজোড়া শালিক-ওদের ছবিও ক্যামেরা বন্দী করেছি।

চমৎকার একটা নজরুল সংগীত আছে- যা অঞ্জনা নদীর তীরে খঞ্জনার চোখ আর নাচ দেখেই কবি লিখেছিলেনঃ-
নদীর নাম সই অঞ্জনা, নাচে তীরে খঞ্জনা সই
পাখি সে নয় নাচে কালো আখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে জল আনিতে সখি লো,
ঐ আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি।।
সেদিন তুলতে গেলাম দুপুর বেলা
কলমিশাক ঢোলা ঢোলা,
হলো না আর সখি লো শাক তোলা,
আমার অমনি পড়িল মনে, ঢল ঢল তার ডাগর আঁখি
ব্যথায় ভরে উঠল বুকের তলা।
............
.............
আমার অমনি পড়িল মনে
ঢল ঢল তার ডাগর আঁখি লো,
ঝিলের জলে, চোখের জলে হলো মাখামাখি।।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




