SMS ম্যানিয়া.....
মোবাইল ফোন আমার কাছে অন্যতম একটি রহস্যময় যন্ত্র! মোবাইল ফোনের একটি দিক নিয়ে আমার আজকের এই লেখা, যার নাম SMS.
SMS কি?
মনের আকাশে হাজারো ভাবনার আনাগোনা। কথার পিঠে কথা সাজিয়ে সেই ভাবনার গায়ে এঁকে দেই পূর্ণতার ছোঁয়া। তবে এ পূর্ণতায় হরহামেশাই অপূর্ণতার অস্তিত্ব টের পাই। মনের অব্যক্ত ভাবটি মন বাতায়ন খুলে কণ্ঠ পর্যন্ত উঁকি দিতে পারেনা অনেক ক্ষেত্রেই। আর তখনই হাতের কাছে থাকা মুঠো ফোনটির ম্যাসেজ অপশনটির কাছে খুঁজে পেতে চাই এ অপারগতার সমাধান। হাজার শব্দের ফুল ঝুড়ি দিয়ে নয়, মাত্র কয়েকটি শব্দ কখনো বা কয়েকটি অক্ষর দিয়ে না বলা কথাটি মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে দেয় আজব এক যন্ত্র। আজব যন্ত্রের অভিনব এ খেলাকে বলে শর্ট ম্যাসেজ সার্ভিস বা SMS.
SMS এর নতুন ভার্সন MMSও বেশ জনপ্রিয়। এমএমএস বা মাল্টিমিডিয়া ম্যাসেজিং সার্ভিসেস "SMS"র মতোই ম্যাসেজিং সার্ভিস। MMS টেক্সট ম্যাসেজের সঙ্গে সাউন্ড, ইমেজ এবং ভিডিও ম্যাসেজ করা যায় এবং ই-মেইলেও পাঠানো যায়। এক্ষেত্রে টেক্সেটের ফরম্যাটে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ফন্ট এবং কালারস। ইমেজ সাধারনত পাঠানো হয় JPIG বা GIF ফরম্যাটে। অডিওর ফরম্যাটে এমপিথ্রি বা MIDI ব্যবহৃত হয়। আর ভিডিও পাঠাতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে MPIG ফরম্যাট।
আদিম যুগে মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতো আকার-ইঙ্গিতে। অবাচনিক যোগাযোগের মাধ্যমে মনের আকুতি পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তারা এক সময় আবিষ্কার করলো গুহার গায়ে দাগ কেটে মনের ভাব প্রকাশ করার পন্থা। গুহা মানবরাই ধীরে ধীরে ভাষার প্রচলন ঘটান। ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে লৈখিক রূপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে গাছের পাতা বা পশুর চামড়ার উপর লেখা-লেখির প্রচলনটি ভিন্নমাত্রা পায় কাগজ শিল্পের সহজলভ্যতায়। মনের ভাব কাগজ-কালির সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা অর্থাৎ চিঠি লেখার ধারাটিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেই সময় থেকে। প্রযুক্তির কল্যাণে চিঠি লেখার বিষয়টি কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কম্পিউটার এর স্ক্রীনে জায়গা করে নেয়। ই-মেইলের প্রচলনে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। স্ক্রীনে লেখার এই পদ্ধতি আরো খানিকটা আপডেটেড হয় মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনটির উদ্ভব ও বিকাশ। ৮০'র দশকে SMS সেবা প্রবর্তন করে ইংল্যান্ডের ভোডাফোন।
SMS কালচারঃ
ধরুন, আপনি কোনো মিটিং, ক্লাশে মোবাইল সাইলেন্ট করে রেখেছেন, কিন্তু ফোন অনবরত বেজেই চলেছে। কি আর করা, চুপি চুপি ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে লিখে ফেলুন I'm in meeting /Class, call u later,(এধরণের মেসেজ ইনস্টল করাই থাকে)! কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিং পন্ড হয়ে গেছে সহকর্মীদের জানাতে হবে, এক্ষেত্রে প্রত্যেককে বারে বারে ফোন না দিয়ে SMS করে দিন Meeting is cancelled। শুধু তাই নয় বন্ধুকে কোনো কাজের জন্য উৎসাহ দেয়ার জন্য দীর্ঘ উৎসাহ বানী উচ্চারণ না করে All the best লিখে একটি SMS করে দিন। কিংবা বন্ধুটির ফোন বন্ধ অথচ জরুরি দরকার। এক্ষেত্রে বন্ধুর উদ্দেশ্যে একটি SMS করে দিন। ফোন খোলা মাত্রই আপনার এসএমএস পেয়ে যাবে। বিশেষ দিবসগুলোতে প্রিয়জনদের সাথে শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও এখন অধিক জনপ্রিয় SMS.
এটি ব্যবহারে আমরা এতোটাই সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠছি যে চাকরির ইন্টারভিউর সময়সূচি কিংবা অফিসের কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য আমরা পেয়ে যাচ্ছি এ সার্ভিসের কল্যাণে। এ বিষয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলো নিজেদের আপডেটেড সার্ভিসগুলো যেমন গ্রাহকদের জানিয়ে বিরক্ত করছে তেমনি গ্রাহকের বিলের ফিরিস্তিটাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ফলে SMS এর গন্ডি শুধু বন্ধু বান্ধবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও এর স্মার্ট ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। SMS কালচারে এখন অভ্যস্ত আমরা সবাই। আর এ কালচারের বলয়েই আমরা প্রতিদিন এসএমএসের বহুমুখী ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি।
ভাষার রকম ফেরঃ
SMS হচ্ছে এমন একটি সার্ভিস যেখানে "স্বল্প" শব্দটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ কম সময়ে কম খরচে কম শব্দ ব্যয় করে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম এটি। এ ধারাটি দিন দিন এতোটাই জনপ্রিয় ও স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠছে ফলে এ কালচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিজস্ব একটি ভাষাও। ফলে Call me লিখতে গিয়ে- Cm', 'Think positive= 'T+', 'As soon as possible= 'Asap', bye for now= b4n প্রভৃতি সংক্ষিপ্ত রূপগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের ভাষা তরুণ প্রজন্মদের কাছে জনপ্রিয় হলেও এর মাধ্যমে ভুল ইংরেজির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠছে তরুণরা।
পক্ষেও যুক্তি আছে। ১৫/২০ টি অক্ষর ব্যয় করে মনের ভাব যদি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে সমস্যা কোথায়। বরং ১০/১৫ শব্দ লিখে সময় নষ্ট করার চেয়ে সমান সংখ্যক অক্ষর ব্যবহার করে কৌশলে মনের কথাটি বোঝাতে পারাটাই স্মার্টনেস। শুধু কি ইংরেজি, আজকাল বাংলাতেও এসএমএস করার সুযোগ ঘটছে আমাদের।
ভাষা আর ব্যকরণ রীতি বাদ দিয়ে মনের ভাব আদান-প্রদানের সহজতর উপায় SMS.
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




