somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুপাকাবরা: রহস্যময় রক্তচোষা ..........

১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুপাকাবরা: রহস্যময় রক্তচোষা

সাপ রাতের বেলায় গরুর দুধ খেয়ে যায় বলে একটি ভ্রান্ত ধারণা আমাদের গো-পালকদের মধ্যে বেশ প্রচলিত আছে। দুধ শুষে নেওয়ার সক্ষমতা সাপের নেই। তারপরও সকালে গোশালায় গিয়ে গাভীর বাঁটে দুধের খরা দেখলে স্বভাবতই খালি বালতি হাতে নিয়ে এক মুহূর্তের জন্য হলেও কল্পনা করতে পারেন, সাপ বোধহয় রাতের বেলা গরুর পা জড়িয়ে চুকচুক করে সব দুধ খেয়ে গিয়েছে। হয়তো একবেলা দুধ পাওয়া যাবে না বলে আফসোস হবে, কিন্তু ভাবুন তো- যদি গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতেন আপনার আদরের গাভীটি রক্তশূন্য ফ্যাকাশে অবস্থায় মেঝেতে নিষ্প্রাণ পড়ে আছে, গলার কাছে দাঁত বসানোর সরু ছিদ্র থেকে রক্তের একটা স্পষ্ট ধারা শুকিয়ে কালো হয়ে উঠেছে, তাহলে কেমন হতো?
ভাবছেন- ভ্যাম্পায়ারের কি এতটাই অধঃপতন হলো যে তারা মানুষ ছেড়ে গো-বেচারার ঘাড়ে চড়তে বসলো? নাহ্, আদতে তা নয়। ভ্যাম্পায়ারের মুখে মানুষের রক্ত ছাড়া অন্য কিছু রোচে না বইকি। সে গল্প আরেকদিন হবে, আজ তবে তার আরেকটা ভাই-বেরাদর চুপাকাবরার কথা বলা যাক!


চুপাকাবরা কী?
নামটার মধ্যেই এর অর্থ অন্তর্নিহিত। স্প্যানিশ ভাষায় 'চুপা'র মানে হচ্ছে 'চোষা'। আর 'কাবরা' অর্থ 'ছাগল'। এ দুটোকে জুড়ে দিলে যে মানেটা দাঁড়ায় তা হচ্ছে: 'ছাগলচোষা'। তবে এখানে চোষাটা কিন্তু দুধ নয়, বরং রক্ত। অর্থাৎ চুপাকাবরা হচ্ছে একধরনের প্রাণী যা ছাগলের রক্ত পান করে। অবশ্য ছাগল ভিন্ন গরু, মহিষ, মেষ ইত্যাদি গৃহপালিত পশুর রক্তেও তার কোনো আপত্তি নেই।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন চুপাকাবরা হচ্ছে স্রেফ আরেকটা কিংবদন্তী? তবে এবারেরটার উৎস সমুদ্রের গভীরে নয়, হিমালয়ের বরফের রাজ্যে নয়, আদিবাসীদের লোকগল্পে বা মধ্যযুগীয় গল্পগাথায় নয়। বরং এই চুপাকাবরা একটি আরবান লিজেন্ড। আরও আশ্চর্যজনক হলো, গায়ের রোম খাঁড়া করার কল্পদানব হিসেবে চুপাকাবরা বাকি সব সমীহযোগ্য দানো'র তুলনায় নেহায়েতই ছোকরা। এর 'জন্ম' ১৯৯৫ সালে। তার আগে চুপাকাবরা বিষয়ে কোনো জ্ঞান পৃথিবীবাসীর মধ্যে বিন্দুমাত্রও ছিল না।
দুই প্রজন্মের চুপাকাবরা
চুপাকাবরা'র কিংবদন্তির উৎস ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পুয়ের্তো রিকোতে। দেশটির কানোভানাস শহরের বাসিন্দা মেডেলিন তলেন্তিনো সর্বপ্রথম চুপাকাবরা দেখার কথা জানিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালের সেদিন তিনি তার জানালা দিয়ে ভয়ধরানো, এলিয়েনসদৃশ যে প্রাণীটি দেখতে পেয়েছিলেন সেটিই ছিল চুপাকাবরার প্রথম নমুনা। দুই পায়ের ওপর দাঁড়ানো প্রাণীটির প্রাথমিক বর্ণনা অনুযায়ী এটি লম্বায় চার থেকে পাঁচ ফুট, বড় বড় চোখ, ধূসর লোমবিশিষ্ট, পিঠে সূচালো কুঁজ, লম্বা লম্বা থাবা।

সে সময় পুয়ের্তো রিকোর মাঠঘাটে হঠাৎ করে রক্তশূন্য মরা পশুর লাশ পাওয়া যেতে থাকল। এ জন্য দায়ী করা হলো এই নতুন রহস্যময় প্রাণী চুপাকাবরাকে। গল্প ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। গণমাধ্যম অব্দি পৌঁছে গেলো এ ঘটনার কথা। দ্বীপদেশ পুয়ের্তো রিকো থেকে লাতিন আমেরিকা, সেখান থেকে আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলো। তারপর আরও পরে ইন্টারনেটের কল্যাণে সারাবিশ্বে।
এটি ছিল চুপাকাবরার প্রথম প্রজন্ম। এরপর নতুন করে চুপাকাবরার গল্পগাছা ছড়াতে শুরু করল ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে। ২০০৪ সালে মার্কিন টেক্সাস অঞ্চলে চুপাকাবরার উপস্থিতি টের পাওয়া গেল। কৃষকেরা ও র‍্যাঞ্চের মালিকেরা তাদের গবাদিপশুর মৃতদেহ খুঁজে পেতে শুরু করলেন। ঠিক আগের ঘটনার মতো, কিছু যেন মৃত পশুগুলোর শরীর থেকে সব রক্ত খেয়ে গেছে। তবে এবারের নতুন ধরনের চুপাকাবরা আগের প্রজাতির তুলনায় অতটা কিম্ভূতকিমাকার নয়। দুই পা থেকে এবার একেবারে চতুষ্পদীতে রূপ নেওয়া এই নতুন চুপাকাবরা কুকুরের মতো দেখতে একধরণের নির্লোম প্রাণী। কিন্তু অবাক হবার পালা এখানেই শেষ নয়। এবার শিকার আর শিকারী; দুটোর মৃতদেহেরই দর্শন লাভের সৌভাগ্য হলো মনুষ্যকুলের। টেক্সাসের বিভিন্ন স্থানে মৃত গবাদিপশুর পাশাপাশি ছয়টি মৃত ‘চুপাকাবরা’রও সন্ধান পাওয়া গেল।
সুতরাং, কল্পদানব হিসেবে চুপাকাবরাকে তোয়াজ করে চলবার মতো কিছুই রইল না। লক-নেস মনস্টার বা ইয়েতিকে একটিবার দেখার জন্য মানুষ যে পরিমাণ হন্যে হয়ে সন্ধান করেছে, চুপাকাবরার বেলায় সে উত্তেজনায় ভাটা পড়লো।
কিন্তু তারপরও চুপাকাবরা বিগফুট, ও লক-নেস মনস্টার-এর পরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিখ্যাত কল্পদানব।



চুপাকাবরার রহস্যভেদ;
প্রথমদিকের চুপাকাবরা দেখতে মোটামুটি ভয়ধরানো ছিল। কিন্তু টেক্সাসের দ্বিতীয় প্রজন্মের চুপাকাবরার আকৃতি দেখা গেল কুকুরের মতো নিরীহ গোছের। বেঞ্জামিন রেডফোর্ড নামের একজন লেখক ও গবেষক চুপাকাবরার রহস্যভেদের জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। কমিটি ফর স্কেপটিক্যাল ইনকোয়ারির রিসার্চ ফেলো রেডফোর্ড প্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ অনুসন্ধান চালান চুপাকাবরা নিয়ে। রেডফোর্ড বলেন:
এটা বরং বলা যায় অনেকটা গাঁয়ের বাইরের বটতলার রহস্যের মতো ছিল আমার জন্য। আমাকে এর শেষ দেখার জন্য সাতসমুদ্র, তের নদী পেরোতে হয়নি। একদম বাঘের ঘরে ঘোগের বাসার মতো হয়েছিল ব্যাপারটা।
টেক্সাসে কুকুরসদৃশ যেসব মৃতদেহ চুপাকাবরার বলে চাউর করা হলো সেগুলো পরীক্ষা করা শুরু হলো। রেডফোর্ড বলেন, ‘মৃতদেহ পাওয়া মানে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলা। ডিএনএ নমুনা, অস্থির নমুনা, অঙ্গসংস্থানবিদ্যা- এসবের সাহায্য নিয়ে অনেক তথ্যই উদঘাটন করা সম্ভব।’
অবশ্য রেডফোর্ড যে ধরেই বসেছিলেন চুপাকাবরা নেহায়েতই আমাদের পরিচিত পরিবেশেরই কোনো বাসিন্দা, তা-ও নয়। তার ভাষায়, তিনি আগে থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। চুপাকাবরার অস্তিত্ব বিষয়ে তার সন্দেহ থাকলেও তিনি এটাও মাথায় রেখেছিলেন যে এখনো অনেক প্রাণীই আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে।
ব্যাপারটা পুরোপুরি অন্যদিকে মোড় নিতো যদি রেডফোর্ডের দ্বিতীয় বিশ্বাসটুকু সত্য হতো। কল্পদানব খুঁজতে গিয়ে বাস্তবের নতুন প্রাণী আবিষ্কৃত হয়ে যেত। কিন্তু তা হয়নি। রেডফোর্ড তার অনুসন্ধানে যা পেলেন, তাতে দেখা গেল চুপাকাবরা না আদতে কোনো কল্পদানব, না কোনো নবআবিষ্কৃত প্রাণী। বরং এটি আমাদের পরিবেশের একটি সত্তা যার এই ভিন্নধর্মী আবির্ভাবের পেছনে রয়েছে বিবর্তনের ছোঁয়া।

টেক্সাসের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা কথিত চুপাকাবরার লাশগুলো দেখতে ছিল অস্থিচর্মসার, কালচে, ও লোমহীন। এ মৃতদেহগুলোর অবস্থা এমন হয়েছিল যে হঠাৎ দেখলে যে কারোরই ভয় লাগার কথা। টেক্সাস চুপাকাবরার গুজব শুরুর পরে মানুষ যেকোনো অদ্ভুতদর্শন প্রাণীকেই চুপাকাবরা বলে অভিহিত করতে শুরু করেছিল। কিন্তু সব ভয়, উত্তেজনা, উৎসাহে জল ঢেলে দিল আধুনিক বিজ্ঞান। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেল মৃতদেহগুলো মূলত ছিল কুকুর, কায়োটি (কুকুরসদৃশ একধরনের প্রাণি), র‍্যাকুন ইত্যাদি পার্থিব জীবের।

কিন্তু প্রাণীগুলোর শরীর এরকম রোমশূন্য হয়ে পড়েছিল কেন? ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা গেল মৃত প্রাণীগুলো কচ্ছু তথা সার্কোপটিক মাঞ্জ (Sarcoptic mange) রোগে ভুগছিল। সার্কোপটেস স্ক্যাবি (Sarcoptes scabiei) নামক পরজীবীর আক্রমণে এ চর্রোমগটি হয়ে থাকে। এ রোগের ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শরীরের চামড়ায় আক্রমণ করার ফলে একসময় প্রাণীর দেহের সব রোম উধাও হয়ে যায়। আর শেষ পর্যন্ত শরীরের বাহ্যিক গঠন এমন হয় যে এটি দেখে মৃতদেহটি কোনো সাধারণ প্রাণীর নয় বরং ভয়ঙ্কর কোনো দানবের বলে ভ্রম হয়।

আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের সার্কোপটেস মাইটস (Sarcoptes mites) একসময় মানুষের শরীরে বাসা বাঁধত। কিন্তু বিবর্তনের সাথে সাথে এটি মানুষ ছেড়ে কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীতে স্থানান্তরিত হয়। এর কারণ হচ্ছে মানুষ ধীরে ধীরে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। সেজন্য স্ক্যাবির মতো ত্বকের রোগগুলোতে মানুষের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু প্রাণীদেহ এ জীবাণুর বিরুদ্ধে এখনো কোনো শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি বলে সার্কোপটিক মাঞ্জ-এর কারণে প্রাণীর মৃত্যু হওয়াটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না। আমাদের দেশের গবাদিপশুর গায়ে থাকা এঁটুলি পোকা (Tick) আর মাইট প্রায় সমবৈশিষ্ট্যের মাকড়।



কিন্তু যদি মেনেও নেওয়া হয় যে যেসব মৃতদেহগুলোকে চুপাকাবরা বলা হচ্ছিল সেগুলো আসলে সাধারণ প্রাণীর মৃতদেহ, তাহলে গলায় ছিদ্রবিশিষ্ট, রক্তশূন্য গবাদিপশুগুলোর মৃতদেহ এল কোত্থেকে? এর উত্তরটাও আসলে বেশ সরল। এ মৃত গবাদিপশুগুলো আদতে সাধারণ কোনো শিকারী প্রাণীর শিকার। ছাগল, ভেড়া, মুরগি ইত্যাদির ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় কুকুর ঘাড়ে কামড় দেয়, তারপর শিকারকে ছেড়ে চলে যায়। তখন শিকার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের দরুন মারা যায়। বাইরে থেকে কেবল দাঁত বসানোর চিহ্ন ভিন্ন আর কোনো আঘাতের দাগ দেখা যায় না।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গবিজ্ঞানী ব্যারি ও’কনরের মতে, কচ্ছু রোগে আক্রান্ত প্রাণীগুলো শারীরিকভাবে দুর্বল হয়। তাই এ সময় তাদের সচরাচর শিকার ধরার পরিশ্রম থেকে সরে এসে সহজে গৃহপালিত পশুপাখি শিকারের প্রবণতা বেশি হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।

ঘাড়ে শ্বদন্তের ক্ষত দেখলে সবার আগে ড্রাকুলা বা ভ্যাম্পায়ারের কথাই মনে পড়া আশ্চর্যের কিছু নয়। তবে বাস্তবের কোনো রক্তচোষা প্রাণীর আচরণের সাথে চুপাকাবরার আচরণের মিল নেই। কুকুরের মতো দেহাকৃতিবিশিষ্ট কোনো প্রাণীর পক্ষে স্রেফ রক্ত খেয়ে জীবনধারণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন নিউ ইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অভ ন্যাচারাল হিস্টোরি-এর বিল শুট।
বেঞ্জামিন রেডফোর্ড দিয়েছেন আরেকটি ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, যখন একটি প্রাণী মারা যায় তখন এর হৃদপিণ্ড ও রক্তচাপ থেমে যায়। ধীরে ধীরে রক্ত শরীরে নিম্নভাগে চলে যায় এবং ক্রমশ জমে যেতে থাকে। সুতরাং রাতের বেলা কোনো গবাদিপশু তথাকথিত চুপাকাবরার আক্রমণে মারা গেলে পরেরদিন এর শরীর কেটে ফেললেও এক ফোঁটা রক্ত বের হবে না। সুতরাং এমনটা দেখে গ্রামীণ কৃষক হয়তো ভেবেছিলেন তাদের পশুগুলোর রক্ত কোনো রহস্যময় দানব খেয়ে গেছে।

১৯৯০ এর দশকে পুয়ের্তো রিকোর একটি রেইনফরেস্টে আমেরিকানরা গোপন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অনেকে মনে করেন চুপাকাবরা সেই গবেষণারই ফলাফল। কেউ কেউ অবশ্য চুপাকাবরাকে এলিয়েন হিসেবেই ভাবেন। তবে চুপাকাবরাকে স্রেফ মিথ হিসেবে মানার লোকেরও অভাব ছিল না। প্রথম যখন ১৯৯৫ সালে চুপাকাবরা দেখা গিয়েছিল তখন স্পিসিজ নামে একটি হলিউড সায়েন্স ফিকশন সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমাটি পুয়ের্তো রিকোতেও দেখানো হয়েছিল। আর সিনেমায় দেখানো এলিয়েনের সাথে চুপাকাবরার আশ্চর্য মিল আছে। খোদ তলেন্তিনো-ও ছবিটি দেখেছেন বলে স্বীকার করেছিলেন। তাই অনেকে মনে করেন কোনো সাধারণ প্রাণীকে ভালোমতো ঠাহর না করার কারণেই হয়তো সিনেমার এলিয়েনের মতো ভেবে বসেছিলেন মেডেলিন তলেন্তিনো।

চুপাকাবরার রহস্যভেদকারী রেডফোর্ড তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখেছেন। ২০১১ সালে প্রকাশিত ট্র্যাকিং দ্য চুপাকাবরা: দ্য বিস্ট ইন ফ্যাক্ট, ফিকশন, অ্যান্ড ফোকলোর বইতে তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন চুপাকাবরার আদ্যোপান্ত। কিন্তু প্রাণীটি নিয়ে এত স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও চুপাকাবরার কিংবদন্তী কেন ছোট্ট পুয়ের্তোরিকো ছাড়িয়ে, আমেরিকার গণ্ডি পেরিয়ে একেবারে রাশিয়া, ফিলিপাইন অব্দি ছড়িয়ে পড়লো? রেডফোর্ড এর জন্য দায়ী করেছেন ইন্টারনেটকে। তার মতে, আরও যদি ১০ বছর আগেও চুপাকাবরা প্রথম দেখা যেত, তাহলে কিংবদন্তী স্থানীয় থেকে কখনোই বৈশ্বিক ঘটনা হয়ে উঠত না। কিন্তু ইন্টারনেটের সূচনাপর্বের সময়েই চুপাকাবরার শুরু। ইন্টারনেটের হাত ধরেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। রেডফোর্ড তাই চুপাকাবরাকে ‘প্রথম ইন্টারনেট কল্পদানব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তথ্যসুত্রঃ এনিমেল প্ল্যানেট চ্যানেলে প্রচারিত ডকুমেন্টারি।
ছবিঃ ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:০১


ছবিঃ আমার তোলা।

আজ দুপুরে বাসায় রুই মাছ রান্না হয়েছে।
আমার চাচা বাসায় বিশাল এক রুই মাছ পাঠিয়েছেন। ওজন হবে সাড়ে পাঁচ কেজি। এত বড় মাছ বাসায় কাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ময়ূর সিংহাসন: পৃথিবীর সবচেয়ে দামী সিংহাসনের গল্প

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৩

ময়ূর সিংহাসন: পৃথিবীর সবচেয়ে দামী সিংহাসনের গল্প.......

সম্রাট শাহ জাহান সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যকে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেলেও ইতিহাস তাকে বিখ্যাত সব স্থাপত্য ও কীর্তির জন্য মনে রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

………..শুধু সেই সেদিনের মালী নেই!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৩২



আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

আমেরিকা প্রবাসী আমার বড় বোনের প্রথম সন্তান হবে। এই ধরাধামে আমাদের পরের জেনারেশানের প্রথম সদস্যের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে, আব্বা-আম্মা প্রথমবারের মতো নানা-নানী হতে যাচ্ছেন……...সবাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রতিবাদী প্রজন্ম লইয়া আমরা কী করিব...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৪৮




১. একজন ছাত্র মাসে কত টাকা খরচ করে বাস ভাড়ায়, আর কত টাকা খরচ হয় তার বেতন, জীবনযাপন, কোচিং বা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য কেউ কি এটা ভেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু বই না পড়া অন্যায়

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে নভেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৪



১। স্কুলে 'হাজার বছর ধরে' আর ইন্টারে পড়েছি 'পদ্মা নদীর মাঝি'।
দুটোই পরকীয়া প্রেমের গল্প। হাজার বছর ধরে উপন্যাস নিয়ে সিনেমা হয়েছে। উপন্যাসে অঙ্কিত গ্রামের মানুষ গুলোর সকলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×