তেল নিয়ে তেলেসমাতি....
সভ্যতা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল চাকা আবিস্কারের সঙ্গে। সেই চাকাকে সচল রাখতে ব্যবহৃত হয় তেল, সে তেল হতে পারে ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল(পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন কেরোসিন ইত্যাদি)। একটি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে জ্বালানি তেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই তেলের দামের ওপর আমাদের জীবন জীবিকা এখন অনেকটাই নির্ভরশীল।
পেট্রোল বা ডিজেল তৈরি করা যায় না, প্রকৃতির দান। কেউ কেউ হয়তো বলবেন -পুরনো টায়ার, প্লাস্টিক, পলিথিন পুড়িয়েও জ্বালানি তেল তৈরী করে- হ্যা সেটাও ক্রুড অয়েল এরই প্রোডাক্ট থেকে বাই প্রোডাক্ট। অবশ্য এই তেল প্রকৃতিতে যে অবস্থায় থাকে তা হল ক্রুড তেল, তা থেকে আমাদের ব্যবহার উপযোগী করে জ্বালানি তেল। সব দেশের ভাড়ারে অবশ্য তেল থাকে না। যে দেশের ভান্ডারে তেল আছে, তার থেকে বাকিদের ঐ ক্রুড অয়েল কিনতে হয়। তারপর চলে সেখান থেকে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসোলিন, জ্বালানী গ্যাস ইত্যাদি নিষ্কাষন। এই পর্যন্ত মোটামুটি তেল হীন সব দেশের একই অবস্থা। তেলের দাম নির্ধারণ করার সময় এই নিষ্কাষনের খরচটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে- সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। সব দেশেই এভাবেই হিসাব করা হয়, তবু তেলের দাম, বিশেষতঃ পেট্রোল আর ডিজেলের দাম, বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। অনেক সময় এই পার্থক্য আকাশছোঁযা হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম অন্যান্য যেকোনো দেশের চাইতে অনেক বেশী। দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই- আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকানো যাক। এক লিটার পেট্রোল/ ডিজেলের দাম মে, ২০২০ সনে চলছেঃ-
মায়ানমার $0.44/0.42
আফগান $0.54/0.48
পাকিস্তান $0.59/0.49
ভুটান $0.65/0.61
নেপাল $ 0.77/0.71
চিন $0.83/0.72
শ্রীলঙ্কা $0.84/0.56
ভারত $0.95/0.92
বাংলাদেশ $1.05/0.77
প্রশ্ন, এমন পার্থক্য কেন হচ্ছে? প্রথমেই বলেছি যাদের প্রাকৃতিক তেলের ভান্ডার কম বা নেই, তাদের সেটা কিনতে হবে। সেই কেনা দাম প্রায় সবার জন্যই সমান। যোগ রিফাইন খরচ। এই রিফাইন খরচটি যদিও দেশের তৈল শোধনাগারেই হয়, কিন্তু খরচের হিসাব করা হয় বিশ্ব বাজারের সাপেক্ষে।
বাংলাদেশ ক্রুড অয়েল আমদানি করে মূলত কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে ব্যারেল প্রতি গড়ে ২১ ডলার হিসাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ও রিফাইন খরচ। বাংলাদেশ ছাড়া সব দেশেই তেলের দাম নির্ধারিত হয় আমদানি মূল্য + ট্যাক্স, পরিবহন ইত্যাদি যোগ করে। এখানেও আমাদের পক্ষে শান্তিদায়ক কিছুই দেখা যাচ্ছে না, কারণ বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সেবা খাত না করে বানিজ্যিক খাত হিসেবে দেশের নাগরিকদের সাথে ব্যবসা করছে।
অর্থাৎ গরীব দেশ, উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হলেও আমরা রাস্ট্রীয় তেল বানিজ্যের শিকার।
আজ শুধু জ্বালানি তেল বানিজ্যের কথাই বললাম। তেলের আসল বানিজ্য হচ্ছে "তেল মারা বানিজ্য"(চাটুকারিতা)- যা আর একদিন বলবো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




