somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

কস্তুরী কাহিনী....

২৬ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কস্তুরি কাহিনী.......

একটি বিশেষ ধরনের প্রাণিজ সুগন্ধির নাম কস্তুরী।ছেলে বেলায় আমাদের বৃহত্তর যৌথ পরিবারে আমাদের বড়ো চাচার কাছে প্রথম কস্তুরী দেখি। ছোকলা সহ একটা আস্ত সুপারির সাইজ বাহির দিকে লোমশ, ভিতরে ডিপ ব্রাউন কালার কস্তুরীটি ছোট্ট একটি কৌটায় রাখা থাকতো সেই দুস্পাপ্য মহামূল্য সুগন্ধি। পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে, মিলাদ মাহফিলের সময় বড়ো চাচা সেই কৌটা খুলে হাতপাখা দিয়ে হালকা বাতাস করতে করতে সবার সামনে দিয়ে হেটে যেতেন, আর পুরো ঘরময় কস্তুরীর তীব্র ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে যেতো। আমাদের সেই ঐতিহ্যবাহী যৌথ পরিবার ভেংগে অসংখ্য পরিবার হয়েছে। কালের বিবর্তনে কস্তুরীটি কার হাতে আছে আমার জানা নাই।

কস্তুরীর প্রতি আমার একটা লোভ আছে... ২০০৬ সালে নিজেই একটা কস্তুরীর মালিক হতে গিয়ে বড়ো অংকের টাকা ধরা খেয়েছিলাম- সেই বোকামির কথা আর না বলি।

আমি একাধিক বার কস্তুরী হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখেছি। সে বহু বছর আগের কথা, মর্ডান হার্বালের মালিক মুক্তি যোদ্ধা ডাঃ আলমগীর মতি সাহেবের সংগ্রহে বেশ কয়েকটা কস্তুরী দেখেছি। ওনার সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকায় বহুবার ওনার চেম্বারে গিয়েছি, কস্তুরী সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি ওনার কাছ থেকে। সম্প্রতি একজন প্রভাবশালী এমপি সাহেবের কাছে দুটি কস্তুরী দেখে এই লেখার পটভূমি।

কস্তুরী হচ্ছে হরিণের নাভি গ্রন্থি। এক বিশেষ প্রজাতির হরিণের বয়স দশ বছর অতিক্রান্ত হলেই নাভির গ্রন্থি পরিপক্ব হয়। এ সময় হরিণটিকে হত্যা করে নাভি থেকে তুলে নেওয়া হয় পুরো গ্রন্থিটি। তারপর রোদে শুকানো হয়। একটা পূর্ণাঙ্গ কস্তুরী গ্রন্থির ওজন প্রায় ৩০-৪০ গ্রাম।

'কস্তুরী সুগন্ধি সুবিখ্যাত ঘ্রাণের জন্যই নয়, বহু ভেষজ গুণসম্পন্নও বটে' - বলেছিলেন ডাঃ আলমগীর মতি। এর ঘ্রাণ প্রকৃত যোজনগন্ধা বললে কম বলা হয়। কথিত আছে কস্তুরীর একটি দানা কোন বাড়িতে উন্মুক্ত করে রাখলে কয়েক মাস সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে সমস্ত পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরীর ঘ্রাণে।

কস্তুরী সংগ্রহকারীরা এই সুগন্ধিকে প্রায় প্রকৃত অবস্থায় রাখেন না; সচরাচর অন্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করেন। কস্তুরীর অন্যসব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রক্ত বিশেষ একটি উপাদান। শুকিয়ে যাওয়া রক্তের সঙ্গে কস্তুরীর বিশেষ সাদৃশ্য আছে । কস্তুরীর সুবাসেও আছে বৈচিত্র্য।

সুগন্ধি ফুলের মতোই যুগ যুগ ধরে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে কস্তুরী মৃগ। এই মৃগ অর্থাৎ হরিণ এক প্রজাতির পুরুষ হরিণ। ইংরেজি নাম ‘মাস্ক ডিয়ার’। এরা লাজুক স্বভাবেরপ্রাণী, তাই নিরিবিলিতে বাস করে। বিচরণ করে একান্ত নির্জনে।

হিমালয় পর্বতমালা অঞ্চলে উৎকৃষ্ট কস্তুরীমৃগ পাওয়া যায়। ওই অঞ্চলে একপ্রকার ছোট আকারের হরিণ আছে, ছাগলের চেয়ে বড় নয় কিন্তু দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। এদের পা অতি সরু, মাথা সুন্দর এবং চোখ চমৎকার উজ্জ্বল। এই হরিণ অন্য হরিণ থেকে আলাদা নয়। শীতল পার্বত্য পরিবেশে বাস করায় এদের লোম সরু না হয়ে অত্যন্ত মোটা ও পালকের মতো হয়। এ ছাড়া পামির মালভূমির গ্রন্থি পর্বতমালায় তৃণভূমি সমৃদ্ধ উপত্যকায় এই হরিণ বেশী পাওয়া যায়। কথিত আছে, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায়ও এই হরিণ পাওয়া যায়।

কস্তুরী মৃগের ওপরের মাড়ি থেকে গজদন্তের মতো দুটি ছোট দাঁত বের হয়। এ ধরনের দাঁত সব প্রজাতির হরিণের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এই দেখেই কস্তুরী মৃগ সনাক্ত করা হয়। এই প্রজাতির হরিণ আত্মরক্ষায় পটু। কিন্তু তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে না। কারণ, অভিজ্ঞ শিকারীরা এদের দেহের তীব্র ঘ্রাণ অনুসরণ করে এদের সন্ধান পেয়ে যায়।

পুরুষ হরিণের নাভি মুখের গ্রন্থিতে এক বিশেষ ধরনের কোষের জন্ম হয়। এই কোষ যখন পূর্ণতা লাভ করে তখন এ থেকেই সুঘ্রাণ বের হতে থাকে। তবে মজার ব্যাপার হলো, যে হরিণটির নাভিতে এই কোষের জন্ম, সে নিজে প্রাথমিকভাবে কিছুই বুঝতে পারে না। তার নাকে যখন এই সুগন্ধ এসে লাগে তখন সে ছুটতে থাকে এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে। অথচ সে বুঝতে পারে না যে, সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে তার নিজের দেহ থেকেই।

কস্তুরী শিকারীরা এ সময় হরিণটিকে হত্যা করে নাভি থেকে তুলে নেওয়া হয় পুরো গ্রন্থিটি। তারপর রোদে শুকানো হয়।
বেশীরভাগ কস্তুরী কোষের বাইরের দিকটা লোমশ ভিতরে এলাচির ভিতর দানার মতো অসংখ্য দানা, যা আংগুলের মৃদু চাপেই গুড়ো হয়ে যায়। আবার অনেক কস্তুরীর লোমশ হয়না, বরং ছোট ছোট দানাদার চা/কফির গুড়োর এবং রঙের হয়- যেহেতু এগুলো রক্তবর্ণ নিষিক্ত নির্যাষ।

সকল হরিণের নাভিতে একই পরিমাণে কস্তুরী উৎপন্ন হয় না; হরিণের বয়স এবং পরিবেশভেদে কস্তুরীর পরিমাণের তারতম্য হয়। এক কিলোগ্রাম কস্তুরী পাওয়ার জন্য দুই হাজারের বেশী হরিণ শিকার করতে হয়। আসলে মানুষের খাদ্য, শখ, বিলাসিতার জন্যই প্রাণিকুল বিপন্ন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:০৩
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×