somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

আম্বানি পরিবারের একটুখানি চালচিত্র.........

২৫ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আম্বানি পরিবারের একটুখানি চালচিত্র.........

লকডাউনে মুম্বাইয়ের অ্যালমাউন্ট রোডের ৪লক্ষ স্কয়ার ফিটের ২৬তলা বাড়ি অ্যান্টিলিয়া তে থাকতে থাকতে দমবন্ধ অবস্থা আম্বানি পরিবারের! একটু খোলামেলা, একটু আলো বাতাস, একটু হাত পা ছড়িয়ে আরাম করে সুখ দুঃখের কথা বলার জায়গার খোঁজে মুকেশ আম্বানি গত নভেম্বরে লন্ডনের আউটস্কার্টে কিনে ফেলেছেন বাকিংহ্যামশায়ারের স্টোক সিটি কাউন্ট্রি ক্লাব মাত্র ৫৯২ কোটি রুপি দিয়ে। ৪৯টা লাক্সারি রুম, ৩টা ওয়ার্ল্ড কুইসিন রেস্টুরেন্ট, ১৩টা মাল্টি সারফেস টেনিস কোর্ট, হ্যালিপ্যাড, ২৭ হোলের গলফ কোর্স- সব মিলিয়ে ঐ ৩০০ একর! একটু হাত পা ছড়িয়ে বসার জায়গা লাগবে বলে কথা!

মরগ্যান ফ্রিম্যানের ভক্ত ইশা আম্বানি বাবার কাছে আবদার করেছিল হলিউড স্টারদের ফেভারিট ডেস্টিনেশন নিউ ইয়র্কের ম্যান্ডেরিয়ান ওরিয়েন্টাল লাক্সারি হোটেলে কদিন কাটিয়ে আসার। কলম্বাস সার্কেলে ম্যান্ডেরিয়ান ওরিয়েন্টাল হোটেলে ২৪৮টি স্যুইট, ১৫হাজার স্কয়ার ফিটের স্পা, ৭৫ ফুটের ল্যাপ পুল! এক রাত কাটানোর জন্য সর্বনিম্ন ৮০ হাজার দিলেই লাউঞ্জে বসে ক্রাফটেড বিয়ার হাতে আপনি উপভোগ করতে পারবেন ম্যানহাটনের স্কাইলাইন! ২০০০ কোটি রুপি দিয়ে মুকেশ আম্বানি কিনেই নিয়েছেন হোটেলটা। রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্টমেন্ট তার উপর মেয়ের আবদার বলে কথা!

বাবার কাছে আবদার করেছিল জয়ন্তী বাউলিও। জয়ন্তী জলপাইগুড়ির ডাবরিপাড়া গ্রামের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী। লকডাউনে অনলাইন ক্লাসের জন্য জয়ন্তী আবদার করেছিল জাস্ট একটা স্মার্টফোনের। দিনমজুর বাপ অভিরাম বাউলির তখন কাজ হারিয়েছেন। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়! মেয়ে কে একটা স্মার্ট ফোন কিনে দিতে পারেননি অভিরাম বাবু। অনলাইনে ক্লাস করতে না পেরে মানসিক অবসাদে বছর কুড়ির জয়ন্তী আত্মহত্যা করে বাড়িতেই। পুলিশকে অভিরাম বাবু বলেছিলেন, "মেয়ের পড়াশোনায় আগ্রহের জন্য আমি ধারকর্জ করে একটা মোবাইল কিনে দিতে চেষ্টা করেও দিতে পারিনি!”

আসলে সব আবদার তো সমান নয়। আবদারেরও ধনী-গরীব আছে। উঁচু-নিচু আছে। আবদারেরও বৈষম্য আছে! জয়ন্তী বাউলি আর ইশা আম্বানির আবদার যে এক হতে পারে না, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ‘অক্সফাম ইন্ডিয়া’র সর্বশেষ Inequility Report।

‘অক্সফাম’ মানে, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের উপর গবেষণাকারী ২০টি স্বাধীন সংস্থার কনফেডারেশন। ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের দাভোস বৈঠকের আগে ‘অক্সফাম ইন্ডিয়া’, এই বছরের রিপোর্ট, ‘Inequility Kills’-এ লিখেছে, ভারতের ধনীতম ১০জন ব্যক্তির সম্পদ আগামী ২৫ বছর দেশের সমস্ত স্কুল-কলেজের সম্পূর্ণ খরচা চালানোর জন্য যথেষ্ট!

‘অক্সফাম ইন্ডিয়া’র গবেষণা বলছে, দেশের ৯৮টি ধনীতম পরিবারের সম্পদের উপর মাত্র ১% ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ আদায় করলেই, ইউনিভার্সাল ভ্যাক্সিনেশনের ৫০হাজার কোটি জোগাড় এবং বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতকে টানা সাত বছর বিনামূল্যে চালানো সম্ভব। আর ধনীতম ১০% ব্যক্তির সম্পদের উপর এই ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ দিতে পারে ১৭.৭লক্ষ অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ! ব্যাসিক্যালি, এদেশে গরীবদের দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট লাগে, আম্বানি-আদানিদের লাগে না!

আর লাগবেই বা কেন বলুন? প্যান্ডেমিকেও ভারতের ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির প্রতি ঘণ্টায় আয় ৯০ কোটি। এই সময়েই ভারতে দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদ বেড়েছে আট গুণ। ভারতের বিলিওনেয়ারদের ২২৯.৭%।

এবার আপনি বলুন, আপনার সম্পদ এই সময়ে কতগুণ বেড়েছে? আপনি ঘণ্টায় কত টাকা আয় করেছেন? হতাশ হবেন না, কারণ আপনি একা না। এই সময়ে, দেশে নতুন করে দারিদ্রে ডুবেছেন ৪.৬ কোটি মানুষ! এরাতো ‘আম জিন্দেগি’। ‘অক্সফাম ইন্ডিয়া’ বলছে, ভারতের ১০জন ধনীতম ব্যক্তি প্রতিদিন যদি ১ মিলিয়ন ডলার করে খরচা করেন, তাহলেও তাদের বর্তমান সম্পদ শেষ হতে ৮৪ বছর সময় লাগবে!

লোকে পরিশ্রম করবে, পয়সা কামাবে -এতে আপত্তি কি? আম্বানি-আদানিরা কি কর্মসংস্থানও তৈরি করে না? না, বাকস্বাধীনতার নামে বিলিওনেয়ারদের ভিক্টিমাইজ করাই জায়েজ? ‘ট্রিকল ডাউন’ পলিসির গ্যাস খেয়ে এঁচোড়ে পাকা ছিঁচকে মস্তানরা এসব বাণী দিলে কান মুলে বলবেন আম্বানি-আদানিদের ‘পৌষমাস’ আর সাধারণ মানুষের ‘সর্বনাশের’ ফর্মুলায় আদপে কোনও পরিশ্রম নেই, আছে কর্পোরেটদের পা চাটা সরকারী নীতি! যে সরকার ‘ফিসক্যাল ডিফিসিট’-র গালভরা গল্প দিয়ে, জ্বালানির ওপরে ৭৯% ট্যাক্স বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, তারাই অতি-ধনীদের সম্পদের কর তুলে দিয়েছে ২০১৬ তে। কর্পোরেট ট্যাক্স ৩০% থেকে কমিয়ে করেছে ২২%। আর তাই, কেন্দ্রের রাজস্বে ক্রমশ কমছে কর্পোরেট ট্যাক্সের অনুপাত। ১২ বছরে এই প্রথমবার কর্পোরেট ট্যাক্সের পরিমাণ ইনকাম ট্যাক্সের তুলনাতেও কম।

ব্যাঙ্কে মামুলি একটা হোম লোন জোগাড় করতে সে আপনার চোদ্দ পুরুষ যতই উদ্ধার হয়ে যাক না কেন, শেষ ১৮ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্পোরেট হাউসগুলোর ১০.৮ লক্ষ কোটির ঋণ স্রেফ মকুব করেছে সরকার। ব্যাঙ্কের টাকা যে গাছে ধরে না সেটা জানতে আপনাকে মানি হেইস্টের প্রফেসর হতে হবে না, শুধু ঘাসে মুখ না দিয়ে চলাটা অভ্যাস করলেই যথেষ্ট! সাধারণ একটা পাটিগণিতে এই সম পরিমাণ টাকায় MNREGA প্রকল্প ১৪ বছর চালানো সম্ভব। MNREGA-য় কর্মসংস্থান ৫.২ কোটি। কর্মসংস্থান -‘আম জিন্দেগির’!

সোভিয়েত কিম্বা বার্লিনের প্রাচীর ভাঙায় 'অ্যানিম্যাল ফার্মের' অর্গাজমে স্বর্গসুখ আপনি পেতেই পারেন, স্তালিনের নাম শুনলে তেলে-বেগুনে জ্বলে আপনি উঠতেই পারেন, বলিভিয়ার নিবিড় অরণ্যে ঐ দাড়িওয়ালা গ্ল্যামারাস ডাক্তার ছেলেটার মৃত্যুর প্রতি নিরাসক্ত আপনি থাকতেই পারেন, তীব্র শৈত্য প্রবাহে রেড আর্মির লং-মার্চ কিংবা পাভেল করচাগিনের ইস্পাত কঠিন লড়াই কে ব্যঙ্গ আপনি করতেই পারেন, ইউটিউবে পাতি একটা সার্চ করে সমাজতন্ত্রের ১০৮টা দুর্বলতা গাঁতিয়ে রম্য রচনা আপনি লিখতেই পারেন; কিন্তু তাতে এই সরল সত্যটা বদলাবে না যে আপনার দেশ এখন গোটা পৃথিবীতে ধন বৈষম্যের পীঠস্থান। তাতে এই সরল সত্যটা বদলাবে না যে শ্রমের শোষণেই দেশ জোড়া সম্পদের এই প্রবল বৈষম্য। তাতে এই সরল সত্যটাও বদলাবে না যে ক্যাপিটালিজমটাই বকলমে প্যান্ডেমিক! আসলে বালিশে মুখ গুঁজে আপনি যতই ফ্যান্টাসাইজ করুন না কেন, আম্বানি-আদানি আর বাকি ৯৯% সাধারণ মানুষ কোনদিন একসাথে বড়লোক হতে পারেনা। হয় আম্বানি-আদানি আর না হয় ৯৯%। প্রশ্নটা শ্রেণীর! অপশেন দুটো! চয়েস একটাই!

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক আজকাল, কোলকাতা।

((নিজের দেশের কথাতো বলতে পারিনা, তাই অন্য দেশের কথা শেয়ার করেছি))
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১১:৫২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×