somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

গল্প নয় বাস্তব....

০৪ ঠা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প নয় বাস্তব....

ভুজিসিক নিক(Nick Vujicic), তার সবই আছে, শুধু দুটি হাত আর দুইটি পা নেই। তৃতীয়ত তার কোনো অজুহাত নেই। নিক ভুইয়টসিক (ইংরেজি: Nick Vujicic; জন্মঃ ডিসেম্বর ৪, ১৯৮২) একজন অস্ট্রেলিয়ান খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক এবং অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা। বিরল টেট্রা-আমেলিয়া সিনড্রোম(ইংরেজি: Tetra-amelia syndrome) এর কারণে চার হাত-পায়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্ম হয়। স্বাভাবিকভাবেই এতে শিশুকাল থেকেই তাকে মানসিক ও দৈহিকভাবে সংগ্রাম করতে হয়।


ভুজিসিক নিক, শামুকের মত শরীর বাকিয়ে চলাফেরা করেন। মাথা প্রথমে ফ্লোরে ঠেকান। তারপর শরীরটাকে ভাঁজ করে সামনে এগিয়ে যান। পা না থাকলেও সৃষ্টিকর্তা তার শরীরের এক চিপা দিয়ে দুইটি আঙ্গুল বের করে দিয়েছেন। উনি দুই আঙ্গুল দিয়ে মিনিটে ৪৭টি ওয়ার্ড টাইপ করতে পারেন।

মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার লুগানের গ্রিফথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন নিক। সেখান থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং ফাইনান্সিয়াল প্লানিংয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়স তিনি তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নানা বয়সী, নানা পেশার মানুষদের শোনাতে থাকেন কিভাবে মনের জোরে বিশ্বের সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিকে দূর করা যায় তার গল্প। কিভাবে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে তার গল্প। মানুষ তাঁকে দেখে আশার আলো খুঁজে পেত, খুঁজে পেত জীবনের বৃহৎ মানে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন থেকে লস এঞ্জেলসে চলে যান তিনি। সেখানেই প্রতিষ্ঠা করেন বিকলাঙ্গদের নিয়ে কাজ করে যাওয়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘Life Without Limbs’ এবং মোটিভেশনাল স্পিকিং কোম্পানি ‘Attitude Is Altitude’। যেখানে তাঁর মোটিভেশনাল স্পিচ শুনে অস্ট্রিলিয়ার তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে আলোড়িত হয়। উনি তার ছোট্ট দুই আঙ্গুল নিয়ে দুইবার গ্রাজুয়েশান করেছেন- ফাইনান্সিয়াল প্লানিং ও অ্যাকাউন্টিং সাব্জেক্টে। আমরা অনেকে অবশ্য দুইবার জন্ম নিয়েও দুইবার গ্রাজুয়েশনের কথা ভাবতেই পারি না।


ভুজিসিক নিক, একজন মটিভেশনাল স্পিকার। ৫৩ বার রিজেক্ট হওয়ার পর উনি প্রথম বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পান। বক্তৃতার মঞ্চে নুলা লোককে উঠতে দেখে ১০০০ জন শ্রোতার মধ্য থেকে ৯৯০ জন উঠে চলে যান। ঐদিন কেবল মাত্র ১০ জন শ্রোতা অবশিষ্ট ছিলেন। কিন্তু উনি লক্ষ্যে অবিচল থেকে, মাত্র ৩০ লক্ষ লোককে অনুপ্রাণিত করেছেন।

নিক জনসাধারণের কাছে নিজের কাজগুলো পৌঁছে দিতে টিভি শো এবং লেখার আশ্রয় গ্রহণ করেন । ২০০৫ সালে নিক তাঁর নিজের জীবনযাত্রার উপর ভিত্তি “Life’s Greater Purpose” নামে একটি ডক্যুমেন্টারি চলচ্চিত্রের ভিডিও বাজারে ছাড়েন। তাঁর রচিত প্রথম বই “Life Without Limits: Inspiration for a Ridiculously Good Life” প্রকাশিত হয়। এছাড়াও যুব সমাজকে লক্ষ্য করে “No Arms, No Legs, No Worries!” নামের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর ‘লাইফ উইদাউট লিমিটস’, ‘ লাভ উইদাউট লিমিটস’, ‘স্ট্যান্ড স্ট্রং’, ‘লিমিটলেস’ এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস এর বেস্ট সেলার ‘আনস্টপ্যাবল’ নামক বইগুলো সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় ত্রিশটি ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন।

“দ্যা বাটারফ্লাই সার্কাস” (The Butterfly Circus) নামের একটি চলচ্চিত্রে নিক ভুইয়টসিক নিজে অভিনয় করেছেন। যে চলচ্চিত্র ২০০৯ সালে “Doorpost Film Project’s” এ প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন।

ভুজিসিক নিক, লাভ ম্যারেজ করেছেন। তার স্ত্রীর নাম Kanae-Miyahara। উনার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, "আপনার ছেলে মেয়ে হলে তাদেরও যদি হাত পা না থাকে, তাহলে কি হবে?"
তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "আমি তাকে আরেকটি ভুজিসিক নিক বানাবো।"


নিক ভুজিসিক এর বিখ্যাত উক্তি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি:-
১. “তুমি ভালো না, এটা মিথ্যে কথা। তুমি কোনোকিছুর যোগ্য না এটা মিথ্যে কথা।"

২. “আমি তোমাকে জোর গলায় এটা বিশ্বাস করতে বলতে পারি যে হয়তো তুমি এই মুহূর্তে রাস্তা খুঁজে পাচ্ছ না কিন্তু তার মানে এই নয় যে রাস্তা নেই।”

৩.”আমি কখনোই একজন রুক্ষ স্বভাবের মানুষ দেখিনি যিনি কৃতজ্ঞ, অথবা একজন কৃতজ্ঞ মানুষ দেখিনি যিনি স্বভাবে রুক্ষ।”

৪.” ঈশ্বরের ভালোবাসা এতটাই সত্য যে তিনি তা প্রমাণ করার জন্য তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।”

৫. “অনেক যন্ত্রণাই দ্রুত কমে যেতে থাকে , যদি তুমি না থেমে যাও।”

৬.“আমি বেঁচে থাকতে ভালোবাসি , তাই আমি সুখী।”

তথ্যসূত্র এবং ছবিঃ Nick Vujicic উইকিপিডিয়া এবং গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ১২:৩২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বাঁধ নেই সে বাধ নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের মিথ্যাচার।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:২৮

[যে বাঁধ নেই সে বাধ নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের মিথ্যাচার।
------------------------------------------------------------------------
একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সংসদ হওয়া উচিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে শেষ প্রতিরোধক। এখানে তথ্য যাচাই হয়, তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নাবিকের মনের নোঙর

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২২

ছুটি শেষে যে নাবিক গৃহত্যাগ করে
ফিরে চলে পোতাশ্রয়ে নোঙর করা
তার জাহাজ পানে, জিজ্ঞেস করোনা
তাকে কখনো তার গন্তব্যের কথা।

তার মনে গেঁথে থাকে ফেলে আসা
প্রিয়জনের কান্নাভেজা মুখ আর চোখ,
বাংলার শ্যামল প্রান্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই পাড়েতে পদ্মা বহে, ঐ পাড়ে গঙ্গা।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৩

এইযে নদী দেখছো!
নদীর এ পাড়ে বহে পদ্মা।
আর ঐ পাড়েতে গঙ্গা।
একই নদীর ভিন্ন নাম
ভিন্ন জাগায় ভিন্ন কাম।
এই পাড়ে যা গা ভেজানো
ঐ পাড়ে তা পাপ ঘুচানো।
গঙ্গা-স্নানে পবিত্র হয় তাদের সারা গা।
এই পাড়েতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×