somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বেদানার ভিতরে লাল.........

১৯ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেদানার ভিতরে লাল.........

অসংখ্য লাল দানায় ভরা ফল, নাম বেদানা। ইংরেজী নাম Punica granatum। মধ্য প্রাচ্যের শুকনো জমিতে রসে টইটুম্বুর বেদানার আদি নিবাস। সিল্ক পথের পথিকদের সঙ্গে এই গাছ পৌঁছে যায় তুরস্ক হয়ে স্পেন। এদিকে ইরান আফগানিস্তান হয়ে কাশ্মীর থেকে উত্তর ভারত পেরিয়ে পাকিস্তান জুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে এই Punica granatum।
আরো নাম আছে বেদানার,
ডালিম আর আনার।


ছেলে বেলায় আমরা যেটাকে ডালিম বলতাম, সেটাই আনার কিম্বা বেদানা। বেদানা কোন ভাষা আমার জানা নাই। ফার্সি ভাষায় বলে আনার, হিন্দিতে বলে দাড়িম্ব। ভেতরের লাল দানার সৌন্দর্যের সাথে গারনেট পাথরের সাথে তুলনা করেছে এক ইংরেজ কবি। তিনি আদর করে ডেকেছে 'গার্নেট ফ্রুটস'। মহার্ঘ এই ফলটি ফারাওদের খুব প্রিয় ছিলো। তাই মিশরে মমির সঙ্গে দেওয়া হত বেদানা, এমন প্রমাণ মিলেছে মমি গুলো গবেষণা করে। একদা আমাদের দেশে এ ফলের জোগান ছিল অত্যন্ত সীমিত।
এখন বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ ফল আমদানি হয়, দেশেও হাইব্রিড আনার চাষে বাড় বাড়ন্ত। চার পাঁচ বছর আগে আসাদগেট হর্টিকালচার থেকে আমি দুটি টিস্যু কালচার চারাগাছ কিনে অর্ধেক ড্রাম টবে লাগিয়ে ছিলাম। হর্টি কালচার সেন্টারের একজন কৃষিবিদ বলেছেন, আনার চাষ করে কমপক্ষে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে ফুল- ফলের জন্য। গত বছর দুই গাছে ৮ টা ফুল এসেছিলো কিন্তু ফল ধরেনি। এবছর দুইটা গাছে ১৮ টা ফুল আসলেও মোট ৬ টা ফল পূর্ণতা পেয়েছে। কিন্তু দুটি ফল অজ্ঞাত কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।


এক সময় আফগানিস্তান ও ইরানে বেদানার বাগিচা আলো করে ফুটত লাল রঙের আনার কলি(ডালিম ফুল)। মোঘল সম্রাট আকবর পূত্র সেলিম(সম্রাট জাহাঙ্গীর) নাদিরা বেগম, প্রকারান্তরে শরফ-উন-নিসার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে 'আনার কলি' নাম দিয়ে ছিলেন।
এশিয়ার সমস্ত সংস্কৃতিতেই বেদানার লাল রসের কদর ছিল চড়া। এর রঙের জন্যই হয়তো আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ডালিমের রক্ত পরিশোধক গুণের উল্লেখ ও প্রশংসার অভাব ছিল না। আধুনিক জৈবরসায়নবিদরা গবেষণা করে বলছেন- বেদানা সত্যি এক বিস্ময়কর ফল! এর দানার লাল রসাল অংশে রয়েছে পিউনিক্যালাজিন নামের এক ফেনলিক যৌগ। যা আমাদের খাদ্য নালী থেকে রক্তে মিশে যেতে কোন বাধা নেই।

পিউনিক্যালাজিনের হাজারো উপকারের কথা গুগল সার্চ করলেই জানা যায়। এই রাসায়নিক যৌগটি ক্যান্সার, বিশেষত কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যাকে আয়ত্তে রাখতে এর জুড়ি নেই। রক্তের লোহিত কণিকা তৈরির জন্যে প্রয়োজনীয় ফোলেট আর রক্তপাত রোধ করার জন্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন K সবই বেদানার দানায় ভালো পরিমাণে মজুত আছে।

বেদানার লাল দানার একেবারে মাঝখানটিতে আছে একটু শক্ত কিন্তু ছোট্ট বীজ। আশ্চর্যের বিষয় বেদানার বীজে আছে এক অসামান্য পুফা অর্থাৎ পলি-আনস্যাচুরেটেড-ফ্যাট যার নাম পিউনিসিক এসিড। যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা উর্ধমুখী, তাঁরা দানা গুলিকে বীজ সহ বেশ করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। পারলে রোজই খান। ওই বীজের পিউনিসিক এসিডকে বলা হচ্ছে ওমেগা ৫ ফ্যাটি এসিড। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট ও রক্তের লিপিড কোলেস্টেরল ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারদর্শী। আনারের বীজের তেলে আরেকটি খুব চেনা পুফা লিনোলিক এসিডও আছে অল্প পরিমাণে, যাকে বলা হয় ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড। বীজ চিবিয়ে খেলে শুধু এইসব পুফা নয়, বেশ খানিক ভিটামিন E পাওয়ারও সম্ভাবনা বাড়ে।

ইংরেজি পমোগ্রেনেট শব্দের মানে 'বীজ ভর্তি আপেল'। এন এপেল এ ডে, কিপস ডক্টর এওয়ে। এ ব্যাপারে বেদানা আরো কয়েক কদম এগিয়ে। আনারে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দুগুণ আয়রণ। জিঙ্ক এবং ভিটামিন সি-র পরিমাণও বেশি। আমার চাষ করা আনার তেমন রসালো নয় বরং অনেকটা চাউল ভাজার মতো মুড়মুড়ে!

বেদানার দানা থেকে গাছের চারা তৈরী করা হয় না। সেটা করা হয় টিস্যু কালচারের সাহায্যে। এতে মা গাছের জিনগত সমস্ত বৈশিষ্ট্য হাজার হাজার সন্তানের মধ্যে হুবহু কপি হয়ে যায়। আমাদের সকল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সুলভ দামে কৌটো বন্দী বেদানার রস পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোন ফলের রস ফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফাইবার বাদ দিয়ে তৈরি। বেদানার বীজের সেই অনবদ্য এন্টিক্যানসার উপাদান বেদানার রসের মধ্যে অনুপস্থিত। তাই পারলে যে কোন ফলই চিবিয়ে খান, আর সেটা অনেক বেশি পুষ্টিকর অভ্যাস।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×