somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ nnএক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী। খালি পা। কখনো ছেড়া স্যান্ডো গেঞ্জি পরতেন অথবা কখনো খালি গায়ে। তবে দুইজনের শরীরে (বুক-পিঠে) পইতাটা ঠিকই থাকত- অর্থাৎ এরা সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্রাম্মন। বড় একটা বাঁশের লাঠির দুই মাথায় দুটি বড় হাঁড়ি দড়ির শিকার মধ্যে ঝুলত। একটা হাঁড়িতে থাকত ঘোল আর অন্যটাতে থাকত পানির মধ্যে ভাসমান মাখনের ছোট ছোট দলা। ঘোলের হাঁড়ির ওপরে অ্যালুমিনিয়ামের থালার ওপরে থাকত দুটি ছোট কাচের গ্লাস। যেটা দিয়ে ঘোল মেপে বিক্রি করতেন।


প্রতিদিন সকালে আমাদের সদর দরজায় এসে হাঁক দিতেন, ‘ঘোল-মাখন, ঘোল-মাখন’। এই ডাক শুনেই চাচা/ চাচী বলতেন, "কে আছো- জগ প্লেট নিয়ে যাও...."।
ঘোল মাখন বিক্রেতা জানতেন- আমাদের বাড়ির জন্য কয় গ্লাস ঘোল মাঠা এবং কতো পিস মাখন দিতে হবে....ঘোল-মাখনওয়ালা হাত দিয়ে তাঁর হাঁড়ি থেকে সব মিলিয়ে ৮/১০ গ্লাস ঘোল মাঠা এবং ১০/১২ টুকরো মাখনের দলা তুলে দিতেন। হাইজিন বলে জিনিসটা তখন কেউ তেমন তোয়াক্কা করত না। সব মিলিয়ে ৪/৫ টাকা দাম হতো। বৃহত্তর যৌথ পরিবারের বয়স্করা সবাই ঘোল মাখন মাঠা খেলেও আমরা ছোটোরা ওগুলো খেতাম না। মাঝেমধ্যে মাখন মুখে দিয়ে বিস্বাদ লাগায় তাও খেতাম না।

ছেলে বেলা থেকেই আমি দুধ খাইনা, মানে খেতে পছন্দ করি না, তবে দুগ্ধ জাত রসগোল্লা আমার খুব প্রিয়। দুধের পায়েস ফিরনীও পছন্দ করি।


ছেলে বেলায় ওয়ারী বড়ো চাচার বাড়িতে এবং লালবাগ ডজ ইন্ডাস্ট্রিতে ছোট ফুফুর বাড়িতে গেলেই সকালে বাধ্যতামূলক ঘোল মাঠা খেতে হতো, যেহেতু আমি দুগ্ধ জাত খাবার খাইনা তাই ছোট ফুফুর বাড়িতে ঘোল মাঠা খাওয়া আমার জন্য বাধ্যতামূলক ছিলো না। অনেক আদি ঢাকাইয়াদের মতো ছোট ফুফুর বাড়িতে 'প্রায় তিন বেলাই' সবাই বিরিয়ানি খায়! ছোট ফুফু জন্মগত ভাবে বরিশালের হলেও বৈবাহিক সূত্রে 'পুরনো ঢাকার ঢাকাইয়া' হয়ে গিয়েছে সেই ৪৭ এর আগে। আমাদের ছোট ছেলেও প্রতিদিনই হয় বিরিয়ানি কিম্বা পোলাও খায়!

সামান্য বেশী লবনাক্ত খাবারও আমার অপছন্দ। মাঠা- ঘোল-মাখনে বেশ কিছু অতিরিক্ত লবণ দেওয়ার কারণে এই খাবারটা আমার অপছন্দের হলেও বড়ো চাচার সামনে না বলার উপায় ছিলো না। নাক-কান-চোখ বন্ধ করে গিলে ফেলতাম।

পূর্ণ ননিযুক্ত দুধ প্রথমে জ্বালিয়ে ঠান্ডা করে দীর্ঘক্ষণ ঘূর্ণন পদ্ধতিতে মাখন আলাদা করে ফেলার পর যে চর্বি ছাড়া জলীয় অংশ রয়ে যায়, তা–ই ঘোল। আমাদের দেশে যার নাম ঘোল ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এই পানীয় ঘোল ছাড়াও 'চাস' নামেও পরিচিত। বহু যুগ আগে, বাণিজ্যিক পরিসরে মাখন তৈরির জন্য দুধের ননি ফেলে রাখা হতো প্রাকৃতিকভাবে সামান্য গাঁজিয়ে ফেনিয়ে তোলার জন্য। তারপর কম ননি বিহীন দুধের নামই ঘোল মাঠা। ঘোল হলো মাখন বা পনির উৎপাদনের একটি উপজাত। ঘোলের মাঝে দুধের প্রায় সকল উপাদানই বিদ্যমান।

গত ৩/৪ বছর যাবত পুরনো ঢাকার কোর্ট পাড়ায় যেতে হয় সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে.... ওখানে রাস্তার পাশে ঘোল মাঠা মাখন বিক্রি হয় হরদম। রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাচ্ছে অনেক মানুষ, কেউ কেউ ঘটি/জগে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে....খেতে ইচ্ছে করলেও নোংরা পরিবেশনের জন্য খাওয়া হয়নি।

বরিশাল শহরের কেন্দ্রস্থল বিবি পুকুরের উত্তর পাশের পূর্ব-পশ্চিম দিকের রোডের নাম গির্জা মহল্লা। এই রোডের উপর একটা সাদামাটা রেস্টুরেন্টের নাম দই ঘর, যা প্রায় শতবর্ষী। এই রেস্টুরেন্টের মূল আকর্ষন দই-চিড়া। সাথে আছে ঘোল-মাঠা-মাখন। প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্টে নাই কোনো চাকচিক্য, জৌলুশ। কিন্তু আছে উল্লেখ্য খাবারের সুনাম। সেই শুরু থেকে রেস্টুরেন্টে পিতল কাসার তৈজসপত্র ব্যবহার করা হয়। গ্রাহকদের বসার জন্য এখনো লম্বা হাই বেঞ্চ। কোনো চেয়ার টেবিল নাই। দোকান মালিক/ক্যাশিয়ার বসেন তোশকের গতিতে, সামনে একটা ক্যাশবাক্স নিয়ে।

অল্প মিষ্টির দই আমার পছন্দের, সেটা বগুড়ার দই। বগুড়ার আরও একটা স্পেশাল দইয়ের নাম ক্ষীরসা দই, দুধেরসর দিয়ে বানানো- অসাধারণ সুন্দর ঘ্রাণ এবং সুস্বাদু। সম্প্রতি বরিশাল শহরের 'মেহেন্দী গঞ্জ দই ঘর' নামের একটা মিষ্টির দোকানের দই খেয়েছি, খুব ভালো স্বাদের।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন বিশ্বকাপের রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৩৪



কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ পরিচালনা করলেন একজন নারী রেফারি।
এই ফরাসি নারী গ্রুপ-ই এর একটি কঠিন বাঁচা মরার খেলা কোস্টারিকা বনাম জার্মানির ম্যাচ সফলভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরেস্তারা তখন কোথায় ছিল?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭


প্রথমে ছোট্ট আয়াতকে অমানবিক ভাবে অপহরণ করা হয়। তারপর তার ছোট্ট গলাটাকে চেপে ধরা হয়। বেঁচে থাকার তীব্র আর্তনাদ একটুকুও মায়ার জন্ম দেয়নি পাষান কুকুরের বাচ্চাটির হৃদয়ে। (আমি দু:খিত কুকুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানা অজানা - হজ্জ বা ওমরা করার সময় সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসব

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৮

সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা সময় যেহেতু আগে থাকতে বলা মুশকিল তাই অনেক সময় জরুরীভাবে যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানেই সন্তান প্রসব হয়ে যায়। প্লেনের টয়লেটে, রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সুশীল ধনবান শ্রেণি।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৫৭



দারিদ্রতা দূরীকরণ বা সমাজ বিনির্মাণে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তারা সব সময়ই প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু বস্তুত অর্থে কারা সামাজকে এগিয়ে নিয়ে যান বা এগিয়ে নিতে চান, তা নিরূপণ করা কষ্টসাধ্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়োপলিটিক্স: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ফুকোডিয়ান ব্যাখ্য (শেষ পর্ব)

লিখেছেন মি. বিকেল, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:১২



সংক্ষিপ্ত এই আলোচনার দ্বিতীয় বা শেষ পর্বে এসে অনুরোধ প্রথম পর্ব টি আগ্রহ নিয়ে পড়ার। এতে করে আপনার ‘বায়োপলিটিক্স’ সম্পর্কে জানতে বা বুঝতে অনেক সুবিধে হবে। উল্লেখ্য, ‘বায়োপলিটিক্স’ তুলনামূলক ইতিবাচক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×