somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ nnএক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

"বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত".......

২৪ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত".......

"বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত কিম্বা মৃত্যু"- এমন সংবাদ প্রায়শই আমরা পত্রপত্রিকায় পড়ি, নিজের আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত জনদের কাছে শুনি। যা এতোদিন পত্রিকায় পড়েছি, শুনেছি- তেমন দুর্ঘটনার শিকার আমি নিজেই হয়েছিলাম কয়েকদিন আগে ঢাকার বাইরে একটি হোটেলে। ভাগ্যিস আমার হোটেল রুম মেট তানজিম আহমেদ আমাকে দ্রুতই ধরে ফাস্ট এইড দিয়েছিলেন।

নানা কারণে মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলতে পারে। বুকে বা মাথায় আঘাত, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, শরীরে পানিশূন্যতা বা লবণশূন্যতা, রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস, হঠাৎ রক্তচাপ হ্রাস, হৃদ্‌রোগ, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে ঘাটতি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, মৃগীরোগ ইত্যাদি কারণে মানুষ আচমকা জ্ঞান হারায়। ওষুধ বা অ্যালকোহলের প্রতিক্রিয়া, এমনকি খাবারের বিষক্রিয়াও হতে পারে কারণ।

একটা বেসরকারী টিভি চ্যানেলে 'আপনার ডাক্তার' নামে চিকিতসা বিষয়ক একটা অনুষ্ঠানে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হওয়া নিয়ে দেশের নামকরা দুইজন চিকিতসকের একটা আলোচনা দেখলাম। দেশ সেরা দুইজন সম্মানীত চিকিতসক ছিলেন- মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তার আবদুল্লাহ এবং নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এহসান মাহামুদ......

দুজন সুনামধন্য চিকিতসকের মতে 'বাথরুমে পড়ে যাওয়ার কারণগুলো' উল্লেখ করলেন- যা আমার কাছে অত্যন্ত বাস্তব সম্মত মনে হয়েছে। দুইজন বিখ্যাত চিকিতসকের মতেঃ বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বয়স্ক লোকদের বাথরুমে পড়ে যাওয়ার সময়টা হয় রাতে কিম্বা খুব সকালে।

প্রথম কারণ- অসতর্কতা। বেশীরভাগ সময়ই আমাদের প্রস্বাবের চাপ বেশী নাহওয়া পর্যন্ত ঘুম থেকে জেগে প্রস্রাব করতে যাইনা। যখন প্রস্বাবের চাপ প্রবল হয় তখন আমরা ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে যাই। সাধারনত ঘুম থেকে ওঠার পর শারিরীক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। তার উপর ঘুমের জন্য কিম্বা অযু করার জন্য তাড়াহুরা থাকে।

দ্বিতীয়তঃ মানুষ যখন ঘুমায় তখন জেগে থাকা কিম্বা কর্মব্যস্ততার সময় থেকে কম অক্সিজেন গ্রহণ করে। তার উপর বন্ধ রুমের অক্সিজেন কমে যাওয়ায় শারিরীক দূর্বলাতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। বেড রুম এবং বাথরুমের দড়জা বন্ধ থাকায় রুমের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। ঘুমের ব্যঘাত হবে বলে- অনেকেই রাতে বাথরুমের লাইট না জ্বালিয়েই বাথরুমে ঢোকে। আবার অনেকেই নিদ্রাহীনতায় মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বাথরুমে ঢোকে। ঐ অবস্থায় বাথরুমে ঢুকে শারিরীক ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়। যেহেতু পানির কলের যায়গা ভেজা কিম্বা স্যাতসেতে থাকে তাই পিছলে পড়ে যায়।

এমতাবস্থায় করণীয়ঃ ঘুম থেকে উঠেই ঝটপট বাথরুমে যাওয়া যাবেনা। ঘুম থেকে জেগে কিছুক্ষণ আড়মোড়া ভেংগে কাত হয়ে দুই হাতে ভড় করে উঠে বসতে হবে। লাইট জ্বালিয়ে আস্তে আস্তে বাথরুমে যেতে হবে।

এমন অবস্থায়, সেই মুহূর্তে আপনি কী করতে পারেন?
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তার আবদুল্লাহ এবং নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এহসান মাহামুদ স্যারদের কয়েকটি পরামর্শঃ


* প্রথমে রোগীর চেতনা কতটুকু আছে বোঝার চেষ্টা করুন। জোরে ডাক দিয়ে দেখুন সাড়া দেয় কি না।

* নাকের কাছে হাত দিয়ে বা বুকের ওঠানামা দেখে বোঝার চেষ্টা করুন শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কি না।

* আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা করে শুইয়ে দিন। বেশি নাড়াচড়া করবেন না বা স্থান বদলাবেন না। জ্ঞান না থাকলে একটু একদিকে কাত করে রাখুন, চিত বা উপুড় না করে। এতে মুখে জমা লালা গলায় আটকে যাবে না।

* ব্যবহৃত পোশাক ঢিলা করে দিন। পা দুটো একটু উঁচু করে দিন। মাথা পেছন দিকে কাত করে থুতনি উঁচু করে ধরুন।

* নিশ্বাস বন্ধ থাকলে মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে বাতাস দিতে পারেন। দেখবেন বুক ওঠানামা করছে কি না। খিঁচুনি হতে থাকলে চেপে না ধরে খোলামেলা জায়গায় কাত করে শুইয়ে রাখুন।

* অচেতন ব্যক্তিকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না, এমনকি মুখে পানিও দেবেন না।

* ডায়াবেটিস আছে জানা থাকলে সম্ভব হলে রক্তে শর্করার মাত্রা মাপুন। অথবা না মেপেই মুখের ভেতর খানিকটা চিনি দিতে পারেন।

* রোগীর ব্লাড প্রেশার মেপে দেখা যেতে পারে। বিপি হাই হলে মাথা উঁচু করে অর্থাৎ দুটি বালিশ দিয়ে এবং বিপি লো হলে মাথা নিচের দিকে অর্থাৎ বালিশ ছাড়াই শুয়ে দিন এবং পায়ের দিক উঁচু করে দিন।

প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করুন।

(যাহার/ যাহাদের জন্য প্রজোয্যঃ আমার এই পোস্টের শিরোনাম দেখে যারা খুশীতে আত্মহারা তারা ভেবেছিলেন- জুলভার্ন বাথরুমে পরে গিয়ে মারাত্মক আহত...তাদের জন্য আপসোস- আমি সুস্থ্য আছি, বেঁচে আছি) =p~
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৫৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:১৩

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের অধীনস্থ বরগুনার বামনা উপজেলায় সাব-সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুকাবুনিয়া এবং এখানকার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ। এখানে নেই স্বাধীনতা পরবর্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ইয়াজিদি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৫৮




ইয়াজিদিঃ ইয়াজিদিরা বিশ্বাস করে আদম (আ) সন্তানের সাথে বেহেশতি হুরের বিবাহের পরিণতিতে তাদের সৃষ্টি হয় আর অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষদের সৃষ্টি হয়েছে আদম আর বিবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন বিশ্বকাপের রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৩৪



কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ পরিচালনা করলেন একজন নারী রেফারি।
এই ফরাসি নারী গ্রুপ-ই এর একটি কঠিন বাঁচা মরার খেলা কোস্টারিকা বনাম জার্মানির ম্যাচ সফলভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরেস্তারা তখন কোথায় ছিল?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭


প্রথমে ছোট্ট আয়াতকে অমানবিক ভাবে অপহরণ করা হয়। তারপর তার ছোট্ট গলাটাকে চেপে ধরা হয়। বেঁচে থাকার তীব্র আর্তনাদ একটুকুও মায়ার জন্ম দেয়নি পাষান কুকুরের বাচ্চাটির হৃদয়ে। (আমি দু:খিত কুকুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানা অজানা - হজ্জ বা ওমরা করার সময় সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসব

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৮

সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা সময় যেহেতু আগে থাকতে বলা মুশকিল তাই অনেক সময় জরুরীভাবে যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানেই সন্তান প্রসব হয়ে যায়। প্লেনের টয়লেটে, রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×