somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঘুড়ি উড়ানো.....

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুড়ি উড়ানো.....

ছেলেবেলা ফিরে ফিরে আসে নানান ভাবে .........
"এখন বয়স হয়েছে, অতএব..." - এমনটা নয়, অন্ততঃ আমার জন্যে৷ ছেলেবেলা আমি ফিরে পেয়েছি সারা জীবন ধরেই, বারে বারে, ছোট ছোট ঘটনার মধ্যে দিয়ে- এমন কি নানান গন্ধেও৷ পোড়া পেট্রোলের গন্ধ, মার্বেল খেলা, লাটিম ঘোরানো, বৃষ্টি কর্মদাক্ত মাঠে ফুটবল খেলা, ভরা ভাদরে পানিতে টইটুম্বুর লেকে এমনকি বুড়িগঙ্গায় সাতার কাটা... এ সব দিয়ে ভরানো ছিল আমার ছেলেবেলা৷
আজকাল যেমন আবার পাচ্ছি- রোজ বিকেলে ছাদে গিয়ে নাতনীর ঘুড়ি ওড়ানোর ভেতর দিয়ে ... ৷


আমাদের অনেক আত্মীয়স্বজন পুরনো ঢাকায়। পুরনো ঢাকা মানেই নানানরকম উতসব! সাইকেল নিয়ে লালবাগ কেল্লা সংলগ্ন ফুফুদের ডজ ইন্ডাস্ট্রি চলে যেতাম। সেই বাড়ি থেকে কাজীনদের সাথে ঘুড়ি নিয়ে চলে যেতাম লালবাগ কেল্লার মাঠে- পৌষ মাসে গোটা পুরনো ঢাকার সব বাড়িতেই ছোটবড়ো সবার হাতে ঘুড়ির নাটাই! সেই জীবনে কী সব উন্মাদনা ছিল!

অ্যারারুট গুলে, তাতে গুঁড়ো করা কাঁচ মিশিয়ে আমার থেকে বয়সে বড় দুই ফাফাতো ভাই মিলে সুতোয় 'মাঞ্জা' দেওয়া, তারপর অন্যের ঘুড়ি কেটে দেওয়ার সুখ আর নিজেদের ঘুড়ি ভো কাট্টা (কোনো ঘুড়ি কাটা পরলেই চারিদিক থেকে উল্লাশ/চীতকার ভেসে আসতো- "ভক্কাডা" বলে) হওয়ার গভীর শোক! আবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজোর সময় কুল গাছের কাঠ পুড়িয়ে ছাই তৈরী করে তাতে হরেক মশলা মিশিয়ে বাজি বানানো(তখনকারদিনে পুরনো ঢাকার প্রায় সব তরুণেরাই বাজি বানাতে পারতো, আমার ফুফাতো ভাইরাও বড়োদের চোখ এড়িয়ে সেই বিদ্যা অর্জন করে ব্যাপক মার খেয়েছিলো)... সে ছিল এক স্বপ্নের জীবন!
ঘুড়ি ওড়ানো আর প্যাঁচ খেলা যে একটা আর্ট তা শিখেছিলাম মিঠুদার কাছেই।


ঘুড়ি ওড়ানোর চেয়েও আমাদের বেশী নেশা ছিল সুতা কাটা ঘুড়ি ধরা। সুতা কাটা ঘুড়ি ধরায় এক ধরনের থ্রিল, রোমাঞ্চ- কোন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের তুলনায় কম নয়। মেঘের ঢেউয়ে ভেলার মত ভেসে যাওয়া ঘুড়ি ধরার জন্য আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম।
আজ সে কৈশোর আর নেই। রাতের তারার মতন দিনের আকাশে ঘুড়ি ফুটে থাকা নেই। এখন শৈশবের পরেই যৌবন। ঘুড়ি নেই, লাটাই নেই, মাঞ্জা নেই। আছে Facebook , WhatsApp , Twitter । ১৫/২০ তলার হাইরাইজ ছাদ আছে কিন্তু সেই ছাদে লাটাই ধরা কৈশোর নেই। জানিনা আবার কোনও প্রজন্মের কিশোররা হাতে লাটাই তুলে নেবে কি না? তবে একথা বেশ জানি কৈশোরকে বাদ দিয়ে এসেছে যে যৌবন, সেই যৌবন আক্ষেপ করার সুখানুভুতি থেকে বঞ্চিত। মাঞ্জা সুতোর ধারে কেটে যাওয়া আঙুলে ব্যথার থেকে সুখ অনেক বেশী ছিল। অনেক সুতো সমেত একটা ময়ুরপঙ্খী ঘুড়ি ধরতে পারার উত্তেজনা ভিডিও গেমস খেলার থেকে অনেক বেশি ছিল।
আজ আর সেদিন নেই, তবে এখনও মনের আকাশে ভেসে ওঠে লাল, নীল, হলদে, সবুজ ঘুড়ির মেলা।

ঘুড়ি বয়সে খুব প্রাচীন৷ ঘুড়ির ইতিহাস ঘেটে যানা যায়- এর উদ্ভব খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে- চীন দেশে- Mozi আর Lu Ban-নামের আবিষ্কারকের হাত ধরে৷ চীনদেশ থেকে ঘুড়ি ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়ে কম্বোডিয়া, ভারত, জাপান, কোরিয়া হ'য়ে পশ্চিমের দেশগুলিতেও৷ বেশ কয়েক বছর আগেও কম্বোডিয়ার Siem Reap শহরে দেখেছি রংবাহারী, রকমারি ঘুড়ির কেনাবেচা৷পাকিস্তানের লাহোরে, ভারতের দিল্লিতে ঘুড়ি উতসবে ঘুড়ির সূতায় কাটা পরে অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা দেখেছি, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও শুনেছি।

শুনেছি, Wright Brothers যে এরোপ্লেন তৈরী করেন, তার প্রেরণাও ঐ ঘুড়ি৷
ইদানীং ঘুড়ি যে আমাকে আবার ভাবাচ্ছে, তার পেছনে নাতনীর ঐ ঘুড়ি নিয়ে মাতামাতি ... যার অংশীদার আমিও, অনেকদিন পরে৷
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:২৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×