somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

অপ্রিয় সত্য কথা....

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপ্রিয় সত্য কথা ....

লেখাটা পড়ে অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন, লিখতেই যেখানে আমার অস্বস্তি হচ্ছে- সেখানে বিরক্ত এবং অস্বস্তি দুটোই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার কারার সুযোগ নাই।

মুক্তিযুদ্ধের আট মাসের বেশী সময় আমি মুক্তিযুদ্ধের নয় নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর হেড কোয়ার্টার সদর দপ্তরে ছিলাম। আমার কাজ ছিলো- সদর দপ্তরে আগত রিক্রুট মুক্তিযোদ্ধাদের এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এবং ছকবাধা কিছু তথ্য তালিকাভুক্ত করা। এছাড়াও আমার সৌভাগ্য, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের নির্দেশে সদর দপ্তরের পাশাপাশি মঠবাড়িয়া, কাঠালিয়া, রাজাপুর, বেতাগী, বাকেরগঞ্জ থানার প্রত্যন্ত এলাকায় অসংখ্য বার যেতে হয়েছে। কৌশলগত কারণে নয় নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর হেড কোয়ার্টার সদর দপ্তর বর্তমান বরগুনা জেলার বামনা থানাধীন বুকাবুনিয়া, চালতা বুনিয়া, সিংড়াবুনিয়া এবং মঠাবাডিয়া থানাধীন দাউদখালী, মিরুখালী ইউনিয়ন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। নতুন রিক্রুট মুক্তি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হতো ইন্ডিয়া, আবার ইন্ডিয়া থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা চলে যেতেন। উল্লেখিত এলাকায় সব সময় গড়ে এক হাজারের বেশী মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করতেন। যেহেতু বেশীরভাগ সময়ই আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করতাম- তাই তাদের সম্পর্কে একটা ধারণা আমার তৈরী হয়েছিলো.........

পায়ে হাটা এবং নৌকা যোগাযোগ ছাড়া অন্যকোন যাতায়াতের মাধ্যমহীন বিচ্ছিন্ন অজপাড়াগাঁ এলাকায় এতো মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন এবং খাওয়া দাওয়া ছাড়াও নুন্যতম কাপড় চোপড়ের যোগান দেওয়া ছিলো এক মহাযজ্ঞ। বামনা এবং মঠবাড়িয়া থানা সংখ্যালঘু হিন্দু অধ্যসিত এলাকা হলেও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। অথচ, এমন কোনো মুসলমান পরিবার ছিলো না, যে পরিবারের সক্ষম একজন কিম্বা একাধিক সদস্য কোনো না কোনো ভাবে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। হিন্দুধর্মাবলম্বী কিশোর যুবক এবং বয়স্করা মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে তারা চুটিয়ে ব্যবসা করেছে....হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সহ সকল প্রকার প্রয়োজনীয় পণ্য সাপ্লাই দিয়ে। এরা টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নৌকায় করে সীমান্ত এলাকা পাড়ি দিয়ে ইন্ডিয়া পৌঁছে দিতেন এবং নিয়ে আসতেন- সেটাও কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিলোনা।

বর্তমান ঝালকাঠি জেলার সদরের বাসন্ডা ইউনিয়নে ৩০% এবং স্বরুপকাঠী থানাধীন আটঘর কুড়িআনা এলাকায় ৮০% জনসংখ্যাই হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও সেখানকার হিন্দুদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ১০ ভাগের বেশী ছিলো না। বাকেরগঞ্জ থানায় হিন্দু এবং খৃষ্টান ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ৩০% হলেও হিন্দুদের মধ্যে ৫% মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও আমার জানা মতে খৃষ্টানদের মধ্যে কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেনি। আমাদের বৃহত্তর যৌথ পরিবারের সাথে এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমার অসংখ্য সনাতনধর্মী এবং খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী পরিবারের মধ্যে দুইজন সনাতনধর্মী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং দুইজন শহীদ হয়েছেন।

এই পর্যবেক্ষণ একান্তই আমার নিজের হলেও, সততা থাকলে অনেকেই স্বীকার করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:২৬
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×