somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ভালোবাসা দিবসে হারিয়ে গিয়েছে জয়নাল দীপালি সাহার আত্মত্যাগ….

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসা দিবসে হারিয়ে গিয়েছে জয়নাল দীপালি সাহার আত্মত্যাগ….

১৪ ই ফেব্রুয়ারী ছিলো শহীদ জয়নাল-দীপালীর আত্মত্যাগের দিন। কিন্তু কোথাও এই দিনটি পালিত হবার খবর দেখলাম না। তবে শহীদ জয়নাল-দেলোয়ারের বন্ধু ডক্টর ওয়াদুদ এর হাতীরপোল ইস্টার্ণ প্লাজা সংলগ্ন বাড়ির সামনে তাঁদের স্মরণে একটা বড়ো ব্যানার দেখলাম। ধন্যবাদ ডক্টর আবদুল ওয়াদুদ।
১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ এরশাদ সামরিক শাসন জাড়ি করার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ মুখর হয়েছিল।
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ২১ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশে কুদরত -ই- খোদা শিক্ষানীতির বিপরীতে স্বৈরাচারী এরশাদের নির্দেশে আবির্ভূত হল মজিদ খান শিক্ষানীতি। মজিদ খানের প্রস্তাবিত শিক্ষা নীতির ছোট্ট একটাই নীতিই বলি- 'আপনি যতই দূর্বল ছাত্র হন- সমস্যা নাই, আপনি যদি টাকা ঢালতে পারেন তবে আপনি যতই ফেল করুন, আপনি উচ্চ শিক্ষা পাবেন। আপনার টাকা নাই, আপনার শিক্ষা পাওয়ার অধিকার নাই। শিক্ষার মাপকাঠি মেধা নয়, অর্থ।'

এই নীতির বিপক্ষে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন সহ সকল ছাত্র সংগঠন এক হয়ে যায় ১৯৮২ এর ১৭ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনের ২০ বছর পূর্তি। ২১ তারিখেই গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। জানুয়ারিতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিকে গ্রেফতার করা হলে আন্দোলন আরো বেগ পায়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচী দেওয়া হয়।
ভালোবাসা দিবস পালনের ‘মহা’ গুরুত্ব আমার বলা অপ্রয়োজন। কারণ হাজার হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভালবাসা দিবসের ‘গুরুত্ব’ কে আলোকিত করতে সহস্র শ্লোগানের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে প্রতি বছরই। এই দিনে ফুল থেকে শুরু করে কার্ড, চকলেট, ডায়মন্ড, প্লাটিনাম মার্কেটিং দিনকে দিন অসাধারণত্ব পেয়েই চলছে। হয়তো ভবিষ্যতে ফুল, চকলেট, ডায়মন্ড, প্লাটিনামের
মতোই ইউরোনিয়াম, চাঁদের মাটিও বিক্রি হবে যা মৌসুমি ভালোবাসা ক্রেতা বিক্রেতাদের পছন্দের গিফট হবে। এইদিনকে ঘিরে নাটক, কনসার্ট এর ধুম নতুন কিছু নয়। এই দিন যেহেতু এত আয়োজনপূর্ণ সেহেতু ভালাবাসা দিবস ছাড়া ভালোবাসার যথার্থ প্রকাশ অসম্ভব- আমরা তা ধরেই নিতে পারি।

১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন লন্ডনে। পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরু করেন। এ নিয়ে অনেক ধরনের মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে মূলত দৈনিক প্রথম আলো এবং যায়যায়দিন পত্রিকার ব্যপক প্রচারে। ১৪ ফেব্রুয়ারিকে শফিক রেহমান আমাদের দেশে ‘ভালোবাসা’ দিবস হিসেবে পরিচিত করানোর আগে দিনটি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ’ দিবস হিসেবেই পালিত হত।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাঙলাদেশের মাটি লাল হয়েছিল জয়নাল এবং শিশু দীপালি সাহার রক্তে- এ ইতিহাস আমাদের জানা সত্ত্বেও আরেকবার স্মরণ করতে কোন ক্ষতি নাই।

এখনো আমার স্মৃতিতে দগদগে- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারি করা হলে সকল রাজনৈতিক দল এবং তাদের কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে। নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তৎকালীন ছাত্র সমাজ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম থেকেই সামরিক শাসনের বিরোধিতা করে আসে। ৮ নভেম্বর ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে তার পরদিন মধুর ক্যান্টিনে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’। ১১ দফার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের’ অন্যতম প্রধান দাবী ছিল এরশাদ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ড.আব্দুল মজিদ খান কর্তৃক ১৯৮২ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর প্রণীত শিক্ষানীতি বাতিল করার।

এরশাদ এবং তার শিক্ষানীতির বিরোধিতা জোড়াল হয়ে ওঠে ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়ে ওই দিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ঢাকার বুকে নেমে পড়ে। বিশাল এক মিছিল সচিবালয়ের অভিমুখী যাত্রা করে স্মারকলিপি পেশ করার উদ্দেশ্যে। মিছিলটি পুলিশের দ্বারা বাধা-প্রাপ্ত হয় হাইকোর্ট-মোড়ে। পুলিশের বসানো কাঁটাতারের বেড়ার উপর উঠে পড়ে অনেক ছাত্র। জ্বালাময়ী সব শ্লোগানে কেপে ওঠে পুরো এলাকা। হঠাৎ করেই মিছিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই সাথে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস আর গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলির আঘাতে প্রাণ হারায় জয়নাল। আহত হয় জাফর, আইয়ুব, কাঞ্চনসহ আরো অনেকে। শিশু একাডেমীতে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে জীবন হারায় ছয় বছরের শিশু দীপালি সাহা।বতখন ছিল কেবল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিটিভি। সেই বিটিভির খবরেই স্বীকার করা হয় ১০ জনের মৃত্যুর কথা, ১৩১০ জনকে এই এলাকা থেকে গ্রেফতারের কথা।

দীপালি সাহা, জয়নালদের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এর পরের বছর মানে ১৯৮৪ সাল থেকে মোটামুটি ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করা হতো ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভালবাসা দিবস’ বাংলাদেশে প্রচলিত হওয়ার পর থেকে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ইতিহাস অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়। তারপরও কেউ কেউ জয়নাল- দেলওয়ার-দীপালীদের মনে রেখেছেন।
‘ভালবাসা দিবস’ যার খুশি সে পালন কিংবা অ-পালন করতেই পারে তবে ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি যারা জীবন দিয়েছিলেন তাঁদের স্মরণ আমরা করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে পারি।।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:০০
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×