somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ভয়ঙ্কর কিছু কুপ্রথার সংস্কার.......

০৬ ই মার্চ, ২০২৩ সকাল ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভয়ঙ্কর কিছু কুপ্রথার সংস্কার.......

ইংরেজরা দুইশো বছর ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছে, অকথ্য অত্যাচার করেছে। অনেক সম্পদ লুট করেছে। আবার সেই বৃটিশরাই নিম্ন বর্ণের মানুষের জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদীদের সৃষ্টি করা অনেক ভয়ঙ্কর কুপ্রথা দূর করেছে। তা যদি না হতো, তাহলে ওইসব কুপ্রথা থেকে নিম্ন বর্ণের মানুষ হয়তো আজও মুক্তি পেত কিনা সন্দেহ । সেই সব ভয়ঙ্কর প্রথার কয়েকটি তুলে ধরলাম:-

(১) কন্যা সন্তান হত্যা:-
তখন কন্যা সন্তান হলেই মেরে ফেলা হতো। ১৮০৪ সালে ইংরেজ সরকার আইন করে বন্ধ করে এই প্রথা।

(২) শিক্ষার অধিকার:-
নিম্ন বর্ণের মানুষের শিক্ষার অধিকার ছিলনা। ১৮১৩ সালে ইংরেজ সরকার সবার জন্য শিক্ষার আইন তৈরি করে।

(৩) বিচার:-
অপরাধ করলে ব্রাহ্মণদের কোন শাস্তি বিধান ছিল না। ১৮১৭ সালে সবার জন্য আইন সমান চালু করে।

(৪) শূদ্র রমনীদের শুদ্ধিকরণ:-
শুদ্রদের বিবাহ হলে, শূদ্র বধু স্বামীর ঘরে যাওয়ার পূর্বে কমপক্ষে তিন রাত ব্রাহ্মণকে শারীরিক সেবা দিতে হতো। ১৮১৯ সালে ইংরেজ সরকার আইন করে তা বন্ধ করে।

(৫) নরবলি:-
দেবতাকে প্রসন্ন করার জন্য, শূদ্র স্ত্রী-পুরুষ কে বলি দেওয়া হতো। ১৮৩০ সালে নরবলি প্রথা বন্ধ করে ইংরেজ সরকার।

(৬) প্রথম পূত্র সন্তান আইন:-
ব্রাহ্মণরা আইন বানিয়েছিল শুদ্রদের ঘরের প্রথম পুত্রকে গঙ্গায় ফেলে দিতে হতো যাতে শুদ্ররা কোনদিনই শক্তিশালী হতে না পারে। ১৮৩৫ সালে এই প্রথা বন্ধ হয়।

(৭) অধিকার:- নিচু জাতির মানুষের চেয়ারে বসার অধিকার ছিল না। ১৮০৫ সালে নিচু জাতির জন্য এই অধিকার চালু হয়।

(৮) সতীদাহ প্রথা:- স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর চিতায় বিধবাকে পুড়িয়ে মারা হতো। ১৮২৯ সালে ইংরেজদের হাত ধরে রাজা রামমোহন রায় এই প্রথা বন্ধ করেন।

(৯) গৌরিদান, বহুবিবাহ, নারী শিক্ষা:-
তখন নয় বছরের মধ্যে কন্যার বিবাহ না দিলে, সমাজে পতিত হতে হতো। ব্রাহ্মণরা অসংখ্য বিবাহ করত। এক কথায় বলা যায় ওটাই ছিল তাদের জীবিকা। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ছিল না। ১৮৬৭ সালে বহু বিবাহ বন্ধ হয়। ১৮৭২ সালের আইন তৈরি হয় ১৪ বছরের কম মেয়ে এবং ১৮ বছরের কম ছেলেদের বিবাহ দেওয়া চলবে না। ১৮৪৯ সালে কলকাতায় প্রথম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।

(১০) দেবদাসী প্রথা:-
এক ভয়ঙ্কর প্রথা, নিচু বর্ণের মানুষের ঘরের সুন্দরী কন্যাদের মন্দিরে সেবার জন্য দিতে হতো। মন্দিরের পুরোহিতরা এবং জমিদাররা ওইসব মেয়েদের ভোগ করতেন। তাদের বাচ্চা হলে ফেলে দেওয়া হতো। যদি কেউ বেঁচে যেত তাদের বলা হতো হরিজন'।
এখনো দক্ষিণ ভারতের কোন কোন মন্দিরে এই প্রথা চালু আছে।

(তিন বছর আগে ফেসবুকে লেখা পোস্ট ব্লগে শেয়ার করলাম)

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৩৫
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মিনি পোস্ট!

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ইদানীং ব্যস্ততার কারণে সামুতে আসা হয়না। মাঝে মাঝে ঢু মারলেও লগইন করা হয়না।
আজ একটা ভাবনা মনে উদয় হওয়ায় সবার সাথে শেয়ার করতে এলাম-

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×