somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

তবুও বেঁচে থাকুক ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট প্রাণ....

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তবুও বেঁচে থাকুক ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট প্রাণ....

হায় ফিলিস্তিন!

"ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা" প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তির (Treaty of Versailles) চাইতেও "অসম ও অপমানজনক" চুক্তি হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হবে। তবুও বেঁচে থাকুক ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট প্রাণ।

ভার্সাই চুক্তিকে "অসম ও অপমানজনক" বলার কারণ, যুদ্ধের দায় একতরফাভাবে জার্মানির উপর চাপানো হয়, বিশাল ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়, সেনা-শক্তি ভেঙে দেওয়া হয়, বহু ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয় এবং আলোচনায় জার্মানির কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। এটি ছিল প্রতিশোধমূলক এবং অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া শান্তিচুক্তি।

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার ২০টি দফাঃ

(১) গাজা একটা অ-কট্টরপন্থী, সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হবে যা তার পাড়া-প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হবে না।

(২) গাজা গাজার লোকজনের ভালোর জন্য পুনর্গঠন করা হবে, যারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে।

(৩) দু’পক্ষ যদি এই প্রস্তাব মেনে নেয়, যুদ্ধ ততক্ষণাত বন্ধ হবে। ইসরায়েলি বাহিনী জিম্মি ছাড়ার জন্য সম্মত লাইনে সরে যাবে, এবং সমস্ত সামরিক অপারেশন বন্ধ হবে।

(৪) ইসরায়েল এই চুক্তি পাবলিকলি মেনে নেয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মি, জীবিত বা মৃত, ফেরত দেয়া হবে।

(৫) সব জিম্মি ছাড়ার পর, ইসরায়েল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি লাইফ সেন্টেন্স কয়েদি এবং অক্টোবর ৭, ২০২৩ পরবর্তী গ্রেফতারকৃত ১,৭০০ জন গাজানদের ছেড়ে দেবে, সেই সাথে ছেড়ে দিবে সব নারী এবং শিশু।

(৬) সব জিম্মি ফেরতের পর, হামাস সদস্যরা যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অস্ত্র ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের ক্ষমা দেয়া হবে। যারা গাজা ছেড়ে যেতে চায়, তাদের নিরাপদ প্যাসেজ দেয়া হবে।

(৭) চুক্তি মেনে নেয়ার পর, গাজায় পুরোপুরি সাহায্য পাঠানো হবে, যা নিদেনপক্ষে জানুয়ারি ১৯, ২০২৫ চুক্তির মতো হবে।

(৮) সাহায্য বিতরণে কোনো পক্ষ হস্তক্ষেপ করবে না, এবংএইড বিতরণ করবে ইউএন, রেড ক্রিসেন্ট।

(৯) গাজা একটা টেকনোক্র্যাটিক, অরাজনৈতিক প্যালেস্টাইনিয়ান কমিটির অধীনে অস্থায়ী শাসন চলবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে ট্রাম্প এর নেতৃত্বে “বোর্ড অফ পিস” সাথে টনি ব্লেয়ার।

(১০) ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল দিয়ে তৈরি হবে।

(১১) একটা বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি হবে, অংশগ্রহণকারী দেশের সাথে স্বল্প ট্যারিফ নেগোসিয়েট করা হবে।

(১২) কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, যারা যেতে চায় তারা যেতে পারবে এবং ফিরে আসতে পারবে।

(১৩) সামাহা এবং অন্যান্য গ্রুপ গাজার শাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না, সব সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে, গাজা নিরস্ত্রীকরণ হবে।

(১৪) আঞ্চলিক অংশীদারদের দিয়ে গ্যারান্টি দেয়া হবে যে সমাহা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং নতুন গাজা হুমকি হবে না।

(১৫) যুক্তরাষ্ট্র, আরব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) তৈরি করবে গাজায় ততক্ষণাত ডেপ্লয়ের জন্য।

(১৬) আইএসএফ প্যালেস্টাইনিয়ান পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা গ্যারান্টর হবে যতক্ষণ না প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি রিফর্ম করে নেয়।

(১৭) ইসরায়েল গাজা দখল বা annex করবে না, এবং আইডিএফ ধীরে ধীরে অঞ্চল হ্যান্ডওভার করবে।

(১৮) যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনিয়ানদের মধ্যে ডায়ালগ স্থাপন করবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনৈতিক হরাইজনের জন্য।

(১৯) প্যালেস্টাইনিয়ানদের গাজা থেকে জোর করে বিতাড়িত করা হবে না।

(২০) পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পুরো শক্তি দিয়ে সমর্থিত হবে, না মানলে গুরুতর পরিণতি হবে।

এবার ফিরে যাই ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির শর্তগুলোতে-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles) ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত এবং "অসম ও অপমানজনক" চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। কেন তা বলা হয়- তা বোঝার জন্য কয়েকটি দিক বিশ্লেষণ করা দরকার:


(১) যুদ্ধের দায়ভার জার্মানির কাঁধে চাপানোঃ
চুক্তির ধারা ২৩১ (War Guilt Clause) অনুসারে যুদ্ধের সম্পূর্ণ দায়ভার জার্মানির উপর চাপানো হয়।
অথচ যুদ্ধ শুরুতে শুধু জার্মানি নয়, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, রাশিয়া, সার্বিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড- সবার ভূমিকাই ছিল।
শুধুমাত্র জার্মানিকে দায়ী করা জার্মান জনগণের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক মনে হয়েছিল।

(২) বিশাল ক্ষতিপূরণঃ
জার্মানিকে বিশাল অংকের যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয় (প্রায় ১৩২ বিলিয়ন গোল্ড মার্কস)। তাদের অর্থনীতি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেও চুক্তি তাদের আরও নিঃস্ব করে দেয়। ফলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও দারিদ্র্য তৈরি হয়।

(৩) সামরিক সীমাবদ্ধতাঃ
জার্মান সেনাবাহিনীকে মাত্র ১ লাখ সৈন্যে সীমাবদ্ধ করা হয়। বিমান বাহিনী, সাবমেরিন, ট্যাংক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নৌবাহিনীও ছোট আকারে সীমিত করে দেওয়া হয়। এই সামরিক অপমান জার্মানির জাতীয় গৌরবকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।

(৪) ভূখণ্ড হারানোঃ
জার্মানি তার বহু ভূখণ্ড হারায়। আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে দেওয়া হয়। পোল্যান্ড সৃষ্টি করতে গিয়ে "পোলিশ করিডোর" কেটে নেওয়া হয়, ফলে জার্মানি দুটি অংশে বিভক্ত হয়।
আফ্রিকার উপনিবেশগুলো ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জাপানের কাছে চলে যায়। এতে জার্মানি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদই নয়, রাজনৈতিক মর্যাদাও হারায়।

(৫) আলোচনা থেকে জার্মানিকে বাদ দেওয়াঃ
প্যারিস শান্তি সম্মেলনে (Paris Peace Conference, ১৯১৯) জার্মানিকে আলোচনায় বসতে ডাকা হয়নি।
বিজয়ীরা (বিশেষত ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা) নিজেদের ইচ্ছামতো শর্ত চাপিয়ে দেয়। ফলে এটি প্রকৃত শান্তি চুক্তি নয়, বরং বিজয়ীদের প্রতিশোধমূলক চাপ হিসেবে দেখা হয়।

(৬) জার্মান জাতীয়তাবাদে প্রভাবঃ
এই চুক্তি জার্মান জনগণের মনে অপমান, ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা জন্ম দেয়। তাদের মনে হয় দেশটিকে জোরপূর্বক হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এই অপমানজনক অবস্থার সুযোগ নিয়ে অ্যাডলফ হিটলার জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে পৃথিবী ধাবিত হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৫ দুপুর ২:১৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×