
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেত্রী নাসিমা খান গত রোববার ১১ অক্টোবর ৮২ বছর বয়সে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
৫ দশকের অভিনয় জীবন ও পথচলাঃ ঢাকার লালবাগের সভ্রান্ত পরিবারের উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে পাকিস্তানের উর্দু ফিল্মে অভিনয় শুরু করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। ততকালীন পূর্বপাকিস্তানে চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তন ও শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। তখন ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিত মুখ।
পর্দায় অভিষেকঃ ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন তিনি। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
নায়িকা হিসেবে পরিচিতিঃ ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।
ষাটের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত তিনি সমান তালে বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের 'প্রথম সম্পুর্ণ রঙিন' ছবিটিও তাঁর অভিনীত খুবই জনপ্রিয় ছবি "রোড টু সোয়াত"। এই ছবির নায়ক কামাল ও নায়িকা নাসিমা খান। "রোড টু সোয়াত" ছবির একটি গান খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল-"ইয়ে আদা ইয়ে নাজ ইয়ে আন্দাজ আপকা ধীরে ধীরে পেয়ার কা বাহানা বান গিয়া"।
নাসিমা খান অভিনীত অনেক ছবি আমি দেখেছি। স্কুল জীবনে তাঁর অভিনীত একটি বাংলা ছবি দেখেছিলাম- "ঢেউ এর পর ঢেউ"। ছবির কাহিনী এখনও কিছুটা মনে আছে- নাসিমা খানকে ধর্ষণ করতে আসে ভিলেন। তখন তার কিশোর সন্তান কিংবা ছোট ভাই ছুরি দিয়ে ভিলেনকে হত্যা করে নাসিমা খানকে রক্ষা করে। নাসিমা খান সেই চাকু হাতে তুলে নিয়ে বলতে থাকে "আমি খুন করেছি"- এবং জেলে যায়।
শেষ চলচ্চিত্রঃ দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর, ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাকে শেষবারের মতো পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যায়।
উল্লেখযোগ্য সিনেমাঃ নাসিমা খানের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- জাগো হুয়া সাভেরা, তানহা, রোড টু সোয়াত,
সূর্যস্নান, ধারাপাত, কার বউ, উজালা, বেগানা, আপন দুলাল, উলঝন, ম্যায় ভি ইনসান হু, দুই ভাই, গৌরী, আমার বৌ, ঢেউয়ের পরে ঢেউ, নয়ি লায়লা নয়া মজনু, গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ, আঁসু বন গয়ে মোতি- ইত্যাদি।
নাসিমা খানের প্রয়াণে ঢালিউডের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



