বছর তিনেক আগে বড় শখ করে QWERTY কি-প্যাড ওয়ালা একটা মোবাইল কিনেছিলাম! কয়েকদিন যেতে না যেতেই Track Ball টা কাজে ইস্তফা দিল। ডানে যায়, বামে যায়, উপরেও উঠে কিন্তু নিচে নামে না! মহা মুসিবত! শখের মোবাইলটা বুঝি এবার যায়। সার্ভিসিং করলাম। ফিরে দু’দিন ঠিকভাবে কাজও করল। তারপর হঠাৎ একদিন হেডফোনের লাইনটা ডাইরেক্ট হয়ে গেলো! হেড ফোন না থাকলেও হেড ফোনের সিম্বল শো করে। হেড ফোন প্লাগইন না করলে কথা বলা যায় না। আবার হসপিটালে পাঠালাম। ডাক্তার বললেন, ‘মা এবং বাচ্চাকে একসাথে বাঁচানো সম্ভব না’। মানে হেডফোন থাকলে স্পিকার কাজ করবে না, আবার স্পিকার ইউজ করতে চাইলে হেডফোনের লাইন রাখা যাবে না!’ কি আর করার! নিরুপায় হয়ে আমার সাধের মোবাইলটাকে অকালে পঙ্গু বানিয়ে ঘরে ফিরলাম! ফিরে দেখি Track Ball মাইন্ড করে গো ধরে বসে আছে! ডানে-বামে, উপরে-নিচে কোন দিকেই যায় না! :-(
“WHERE THERE IS A WILL, THERE IS A WAY” - ট্র্যাক বলের বিকল্প হিসেবে শর্টকাট সিস্টেমটা বেশ ভালো ভাবেই আয়ত্ব করে নিলাম। ট্র্যাক বলহীন মোবাইলের সিকিউরিটিও বেড়ে গেল অনেকগুণ। আমার মোবাইল আমি ছাড়া কেউই চালাতে পারে না! এভাবেই চলল দু’বছর।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পঙ্গু মোবাইলটা বিছানায় নেই। খাটের নিচে ব্যাটারিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। অন করে দেখি ভাইব্রেশন মুড কাজ করছে না। নিউটনের তৃতীয় সূত্র ফলো করে মোবাইলটাকে আবার বিছানা থেকে ফেলে দিলাম! ঠেলার নাম বাবাজী! অন করে দেখি ভাইব্রেশনের দাদা সহ ভোঁ ভোঁ করছে!
গত কাল একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করলাম। আমার ফোনের ৪২ টা বাটনের মধ্যে কয়েকটা একদমই কাজ করছে না! গায়ে মাখলাম না। বিপত্তি টা ঘটলো তখন যখন আমার এক বন্ধু টেক্সট করলো।
বন্ধুর একটা টেক্সটের উত্তরে বললাম,- ‘Ky?’
বন্ধু অবাক হয়ে রিপ্লাই দিল, - ‘ :O Ky???’
পড়লাম মহাবিপদে। বন্ধুকে আমি কিভাবে বুঝাই যে আমার ফোনে ‘I’ বাটন কাজ করছে না! এটা বলতে গেলেও তো ‘i’ লিখতে হবে। বললাম, - ‘ j er ager letter ta kaj korche na tay y babohar korchy!’ বন্ধু মনে হয় ‘এত্ত গুলা’ মজা পেল। ওর অট্টহাসির স্মাইলি গুলো দেখে আমার কান্নাও অট্টহাসি দেয়ার চেষ্ঠা করছিল!
এক পর্যায়ে বন্ধু বলল, সে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে।
আমি বললাম, - ‘jol dao porjapto!’
বন্ধু আকাশ সমান বিস্ময় নিয়ে বলল, -‘jol!!
আমি নিরুপায় হয়ে লিখলাম, - ‘X, t er ager ta & y er porertao kaj korche na’ (আসলে sufficient water লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু w & s ও কাজ না করায় জল লিখতে বাধ্য হয়েছি!)
বন্ধুর ফ্রী SMS ছিল। বললাম, ‘barta r koyta ache?’
আমার বেবুঝ বন্ধু উত্তর করল,- ‘bujhlam na?’
লিখলাম,- ‘barta mane mechage!’ (S কাজ না করায় Message ও ঠিকভাবে লিখতে পারলাম না! এ দুঃখ আমি কারে দেখাই :-( )
আমার প্রতিটা রিপ্লাইয়ে বন্ধু হেসে কুটিকুটি হচ্ছিল। মজা আমিও কম পাচ্ছিলাম না! এক জিনিস আর কতক্ষণ ভালো লাগে। বন্ধু একসময় নিজ থেকেই ইস্তফা দিয়ে দিল। আর আমি অনেকদিন পর মোবাইলটা পরিবর্তন করার গুরুত্ব নতুন করে অনুধাবন করতে থাকলাম। পরিবর্তনের কথা মনে করতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল! মায়া পড়ে গেছে মোবাইলটার উপর। গত তিনবছরের কত সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনার নীরব স্বাক্ষীই না এ যন্ত্রটা! অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ মোবাইলটা ঘিরে, যে স্মৃতিগুলো বারবার ইচ্ছে করলেও মুছে ফেলা যায় না। এত তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে ইচ্ছে করছে না আমার এ নীরব বন্ধুটাকে। মন যেন কেমন কেমন করে! :-(

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


