somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাবিতে ফার্স্ট ইয়ারে ফার্স্ট শব-ই-বরাতের আনন্দঅশ্রুমূলক অভিজ্ঞতা (ওপ্পা, মফস্বল স্টাইল!)

২৫ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রথম শব-ই-বরাতেই বাড়ী যেতে পারলাম না। চোখ ফেটে কান্না না এসে কি উপায়? অথচ জীবনে মায়ের হাতের হালুয়া-রুটি-মাংশ ছাড়া কোন শবেবরাত কাটাই নাই।

তখন সবে ইউনিভার্সিটিতে সবে ভর্তি হয়েছি। চোখে পানি আসলে "ও কিছু না, ময়লা" বলে কান্না এড়ানোটা তখনও রপ্ত করা হয়ে ওঠেনি। বাড়ীর জন্য হার্টের টেরাবাইট ভর্তি মায়া আর মায়া। কোনভাবে তিনদিন ছুটি মিলে গেলেই চট করে গ্রামের বাড়ী চলে যাই....

শব-ই-বরাতের রাতটা মফস্বল/গ্রামের প্রতিটি ছেলের জন্য ২৪ ক্যারটের সোনায় মোড়ানো সময়। সেই রাতে নামাজ পড়ার কথা বলে পাঞ্জাবি-টুপি পরে অসাধারণ অসাধারণ সব এ্যাডভেঞ্চার, ডাব, মুরগি চুরি করা কখনো চুরি করতে গিয়ে উসাইন বোল্ট হওয়ার দুর্দান্ত সোনায় মোড়ানো মুহূর্তের বর্ণনা সেটা খোদ রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদ ও এ্যাডগার এ্যালান পো যৌথভাবে লিখতে বসেও ফুটিয়ে তুলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

ইউনিভার্সিটির প্রথম শব-ই-বরাতে বন্ধু-বান্ধব মোটামুটি কেউ বাড়ী গেল, কেউ গেল আত্মীয় বাড়ী। আমার কোথাও কেউ নেই। ফ্যা ফ্যা করে সারা দুপুর ঘুরলাম। মোবাইলে যতক্ষণ ব্যালেন্স ছিলো ছিলো, ততক্ষণ মাকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করলাম। বিকেলে অপরাজেয় বাংলার উপর বসে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি আর ফেউ ফেউ করে কেঁদে উঠেছি। কী ভীষণ একা আর অসহায় লাগছিলো সেদিন!!!
হঠাৎ দেখি আমার ডিপার্টমেন্টের সদ্য বন্ধু শাহীন (মামা শাহীন) একপাশে ব্যাগের ফিতা ঝুলিয়ে আসছে....
দ্রুত কান্না লুকালাম। ফার্স্ট ইয়ারের বিগবয় বলে কথা!!!!

শাহীন মামা এসেই কোন ভনিতা ছাড়াই ঢাকাইয়া টানে বললো, "দোস্ত, আইজক্যা রাতে আমগো বাসায় খাবি? আমার মা তোরে শবে বরাতে বাসায় যাইতে কইছে।"
আমি: "আন্টি কেন আমাকে যেতে বলবে? তিনি আমাকে ক্যামনে চিনেন?"
শাহীন মামা: "দোস্ত, আমি মারে কইছিলাম আমগো ডিপার্টমেন্টে একটা পোলা আছে, বাবা মায়ের একমাত্র পোলা। এইবার শব-ই-বরাতে বাড়ি যাইতে পারে নাই। তখন মা কইলো তোরে নিয়া আইতে... আমরা কইলাম, গরীব, যাবি আমাগো বাড়ী?? আমার মা খুব খুশি হইবো।"

চোখের পানির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেও লাভ হলো না, ঝুপ করে কান্না নামলো। ঐ রাতে লালবাগে শাহীনদের বাসায় খেলাম শব-ই-বরাতের হালুয়া রুটি। আহ! ক্যাম্পাসে জীবনের প্রথম শবেবরাতে পুরোটা রাত খুশীতে ঘুমাতে পারি নাই।

এ বছর ক্যাম্পাসে আমার শেষ শব-ই-বরাত কাটালাম, সেকেন্ড ইয়ার থেকেই প্রতি শব-ই-বরাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে রেগুলার দাওয়াত পাই। শব-ই-বরাতেই পরেরদিন বক্সে করে হালুয়া-রুটি -মাংশও পাই। না পেলেও ক্ষতি নেই, ঢাকার সবচেয়ে ভালো রেস্তোরায় শব-ই-বরাতের মেনু খাওয়ার সামর্থ্যও আমার এখন তৈরি হয়েছে।।।

কিন্তু, প্রতিটি শব-ই-বরাতে আমার শাহীনের কথা মনে পড়ে। শাহীনের আম্মার কথা মনে পড়ে।।। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম শব-ই-বরাতের কথা মনে পড়ে। ধন্যবাদ শাহীন মামা। ধন্যবাদ আন্টি। অফিসিয়ালি তোকে (আন্টির ক্ষেত্রে পড়তে হবে আপনাকে) ধন্যবাদ দেয়া হয়নি।


কিন্তু HSBC Bank Bangladesh এর কর্মকর্তা শাহীনের কি এসব মনে আছে?
বাই দ্যা ওয়ে শাহীন, বহুতদিন হয়ে গেলো, শব-ই-বরাতে আর কিন্তু দাওয়াত টাওয়াত দিলি না.................................
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৪৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পুলিশও মানুষ, তাদেরকে সাহায্যের জন্য আমাদেরও এগিয়ে আসা জরুরী

লিখেছেন মাহমুদুল হাসান কায়রো, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৪৩

রাত বারোটা বেজে ১০ মিনিট। কাকরাইল চৌরাস্তায় একটা “বিআরটিসি এসি বাস” রঙ রুটে ঢুকে টান দিচ্ছিলো। কর্তব্যরত ট্রাফিক অফিসার দৌড় গিয়ে বাসের সামনে দাড়ালেন। বাস থেমে গেল। অফিসার হাতের লেজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দৈত্যের পতন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩১



ট্রাম্প দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরকারী সংস্হাকে কাজ শুরু করার অর্ডার দিয়েছে; আজ সকাল থেকে সংস্হাটি ( জেনারেল সার্ভিস এজনসীর ) কাজ শুরু করেছে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটার তো বাহাদুরি মমিনরা নিল, বাকি ভ্যাকসিন গুলোর বাহাদুরি তাহারা নেয় না কেন?

লিখেছেন এ আর ১৫, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:৫২



বাহাদুরির বিষয় হলে যারা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু করেন, তারা জবাব দিবেন কি?
কার্দিয়ানিরা মুসলমান নহে কিন্তু যেহেতু বাহাদুরির বিষয় তাই ডঃ সালাম হয়ে গেলেন মুসলমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

নভোনীল পর্ব-১৪ (রিম সাবরিনা জাহান সরকারের অসম্পূর্ণ গল্পের ধারাবাহিকতায়)

লিখেছেন ফয়সাল রকি, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫১



- ময়ী, ময়ী! আর কত ঘুমাবি? এবার ওঠ।
দিদার ডাকতে ডাকতে মৃনের রুমে ঢুকলো। মৃন তখনো বিছানা ছাড়েনি। সারারাত ঘুমাতে পারেনি। ঘুমাবে কী করে? রাজ্যের দুঃশ্চিন্তা ভর করেছিল ওর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৌষের চাদর – মাঘের ওভারকোট

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৬




চাদর ম্যানেজ করতে পারতাম না বলে কায়দা করে প্যাচ দিয়ে একটা গিটঠু মেরে দিলে আমি দৌড়ানোর উপযুক্ত হতাম । লম্বা বারান্দা দিয়ে ছুটতাম । অবাক চোখে পৌষের কুয়াশা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×