এখানে প্রান্তর ছিল— হাই-রাইজ কংক্রিটেরা দখলে নিয়েছে,
আকাশের নীল অতপর বন্দী জানলার কাঁচের ফ্রেমের স্কেচে।
অবারিত নদী-খাল, হিজলের ছায়া আর নিশি-রাতের কুহক—
সব ধুয়ে-মুছে নিয়ে গেলে ভাগাড়ে ব্যস্ত-সমস্ত শুকর শাবক।
মাটির সেই সোঁদা গন্ধ, ছোট নদীটির শান্ত জলের ভেজা ঘ্রাণ,
রুপালি মাছেদের ঝাঁক বেধে চলাচল— সব আজ ম্রিয়মাণ।
থিকথিকে কাদা-মাখা নর্দমা কিংবা এক মরা লেক শুধু—
এই দৃশ্যপট চারিদিকে; শহরের আকাশে আজ চৈত্রের ধুঁধুঁ।
বাঁশবাগানের মাথার ওপর জেগে ওঠা চাঁদ কিংবা আকাশ,
আমরা দেখি না, শুধু দেখি ওপাশে ধোঁয়াশা, মশাদের আবাস।
চোরের মতন এক অন্ধকার ওত পাতে নাগরিক নিজ ঘরে,
দমবন্ধ কুঠুরিতে আমাদের দীর্ঘশ্বাস একা একা ঝরে।
পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ— সে তো এক চেনা কোনো দূরের কঙ্কাল,
খোঁজ নেওয়া গ্রাম্যতা; অবিশ্বাস বুনে যায় কুটিল জঞ্জাল।
এখানে মানুষ ঘোরে বিষণ্ণ চক্রে এক— একা, অবিরাম,
নিজেকেই দেখে শুধু, চেনে না কেউ, নেই কোনো ডাকনাম।
আদতে এখানে নিরর্থক কোলাহলে জন্ম নেয় নবীন পাথর,
স্মৃতিহীন, ভাসমান, বিবর্ণ এই যে এক নাগরিক আয়নাঘর ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



