শেখ মুজিবর রহমান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ক্ষমা ঘোষণা দেন এবং বলেন যে, বাংগালীরা জানে কিভাবে ক্ষমা করতে হয়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে শেখ মুজিবর রহমানের শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশ মিলে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন সদস্যকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তাদের অপরাধের ফিরিস্তিও তৈরি হয় এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য ১৯৭৩ সালে International (Crimes) Tribunal Act নামে একটি আইনও পাস করা হয়। প্রেস নোট জারী করে সরকার বিচার শুরুর একটা তারিখও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর অনুরোধে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির ভিত্তিতে চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। শেখ মুজিবর রহমান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ক্ষমা ঘোষণা দেন এবং বলেন যে, বাংগালীরা জানে কিভাবে ক্ষমা করতে হয়। একইভাবে Collaborator Act এর অধীনে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের জন্যও তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তবে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট-- এই চারটি অপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিল সংগত কারণে তাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সুবিধা প্রযোজ্য ছিল না। ঐ সময় দালালীসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭৪৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। এর মধ্যে পুলিশী তদন্তে ৩৪৬২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুকূলে কোনো সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২৮৪৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশীট গঠন করে এবং অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় এর মধ্য থেকে ২০৯৬ জন বেকসুর খালাস পান। অবশিষ্ট ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারী অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপির আবালীপনা।


চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।