somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

!!! ১৩ বছর পর তুমি !!!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব আনন্দের একটা অনুভূতি জানাতে চাচ্ছি। কিন্তু কিভাবে আসলে বলা শুরু করব??? অনেক বার লেখা শুরু করে শুরুটাকে ঠিক ভাল মনে হয় নাই। বার বার কাটাকাটি করতে হচ্ছে!!!/:)/:)/:)/:)তাই এই বার যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবেই শুরু করে দিয়েছি। বলতে তো চাই ছোটোবেলার কথা। কিভাবে হারালাম তোমায়!!!!/:)/:)/:)সেইটার আবার শুরু কিসের???

যখন আমাকে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করানো হয়, তখনকার আবেগ তো আর খুব বেশি ছিল না। শুধু এই্ টুকুই জানতাম একটি মেয়ের পাশে বসলে আমার খুব ভাল লাগে। তার সাথে গল্প করতে তো মজা তো লাগতই, আরও কেমন কেমন জানি লাগত।::P:P:P তারপর ও কিন্তু তার সাথে আমার খুব একটা কথা বলা হয় নাই। কারন ছোটবেলা থেকেই আমি মেয়েদের সাথে খুব একটা কথা বলতে পারতাম না । এই ভাবে তো খুব ভালই চলছিল। ৩ টি বছর পার করে দিলাম। চতুর্থ শ্রেণীতে উঠার পর আমার বাবার মনে হল এই প্রাইমারী স্কুলে মনে হয় প্রতিযোগিতা নাই। তাই আমার সেই ভাল লাগার অবসান হওয়ার ঘন্টা বেজে উঠল। আমার বাবা আমাকে নিয়ে আমাদের এলাকার সব চেয়ে ভাল স্কুলে ভর্তি করে দিলেন । /:)/:)/:)/:)

ষষ্ঠ শ্রেণীতে আমার সেই ভাল লাগার মানুষটাও চলে আসল আমার নতুন স্কুলে। আমাদের স্কুল ছিল ২ শিফটের। সকালে মেয়েরা, দুপুর থেকে বিকালে ছেলেরা। মেয়েরা স্কুল ছুটি হয়ার পর আমাদের সামনে দিয়ে চলে যেত। কখনো কখনো হয়ত তাকে দেখতাম, আর একটু বাঁকা হয়ে দেখতাম কোনোভাবে ওর মুখের বাঁকা ২ টা দাত দেখা যায় কিনা !!! ও আচ্ছা আসল কথাই তো বলা হয় নাই, ওকে আমার ভাল লাগার অন্যতম কারনের একটি ছিল তার সেই বাঁকা দাঁত।:):):):)

এইভাবে স্কুল জীবন শেষ হল। সে তার মত কোথায় জানি হারিয়ে গেল। কখনই আর তার দেখা পাই নাই। হয়ত তাকেই ভুলে যেতাম, কিন্তু কেন জানি ভুলতে পারি নাই। আমার ছোটোবেলার এক বন্ধুর সাথে আবার ওর খুব খাতির ছিল। ওর সাথেই ওর ভাল যোগাযোগ ছিল। ওই পোলারে আমি হিংসা করতাম, কারন ওই মেয়ে সারা দিন এ ওই পোলার সাথে থাকত। তবে ওই ছেলে আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল।এক সময় অরা এই এলাকা ছেড়ে চলে গেল।। আমাদের কাছে আর কোনো খুঁজ ই থাকল না !!! আরেকটা কথা প্রাইমারী স্কুল ছেড়ে আসার পর কিন্তু ওই মেয়ের সাথে আমার কন কথাই হয় নাই !!! আমার ওই বন্ধুর কাছে ও ওই মেয়ের আর কোনো খুঁজ থাকল না !!!/:)/:)/:)

এই ভাবে অনেকটা সময় কেটে গেল। কখনো কখনো ওই পোলারে আমি ওর কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু কোনও উত্তর পাই না। কারন আমরা কেউই তার কোনও খুঁজ জানতাম না। কিন্তু কেমন করে জানি তার খুঁজ পেয়ে গেলাম।ঈদের পরের দিন ওই মেয়ে তার পরিবারের সাথে আমার বন্ধুর বাসায় বেড়াতে আসল। আমার বন্ধুর সাথে তো ওর আগে থেকেই অনেক খাতির ছিল। আমার বন্ধু ওর ফেসবুক আইডি রাখল। তারপর আমাকে এসে দিল। আমিতো সাথে সাথেই রিকোয়েস্ট পাঠাইয়া দিলাম , আর সাথে নিজের পরিচয় দিয়ে একটি মেসেজ দিলাম। ওই মেয়ে আমার মেসেজ এর উত্তর দিল এবং আমার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করল। তারপর কথা হল। অনেক কথাই হল। কিছুক্ষন পর তার নাম্বার দিল।প্রতিদিন যোগাযোগ করার জন্য বলা হল। আমার মনটা যেন খুশিতে ভরে উঠল।;););)

কিন্তু আমার সেই খুশি বেশিক্ষন স্থায়ী হল না। মেয়েটা কিছুক্ষন পরেই আমাকে জানাল তার বিয়ে হয়ে গেছে !!! তার স্বামীর কথা বলল। আমার বুকটা যেন চৌচির হয়ে যাচ্ছে। কি আর বলব তোমায়??? এত দিন পরেও তোমাকে পেয়ে বলা হল না, আমার মনের কথা। বলতে পারলাম না, আমি তমার হাতটা ধরে ছির জীবন হাটতে চাই। যখন খুশি দেখে নিতে চাই তোমার বাঁকা ঠোঁটের হাসি।কিভাবে বলব??? আমার যে আর সেই অধিকারটুকু নেই !!! তুমি যে আজ অন্য কারো। :((:((:((:((

তবুও আমি অনেক খুশি। হয়ত তোমার হাত ধরতে পারব না। কিন্তু তাতে কি??? এখন তো তাও মাঝে মাঝে ফেসবুকে তোমার সাথে কথা বলতে পারব !!! কখনো হয়ত ফোনে তোমার সাথে কথা বলে শুনতে পারব তোমার একটু হাসি। তোমার বাঁকা দাঁত ২ টা হয়ত আমার দেখা হবে না। তাতে কি এসে যায়?? উপলব্ধি তো করতে পারব !!!! ১৩ বছর পর এইত আমার সব চেয়ে বড় পাওয়া।। এইটা তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমি কাউকে কেড়ে নিতে দেব ও না !!/:)/:)/:)
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×