
আজকালকার ফেসবুকের গসিপের যুগে বেশীর ভাগ লোকেরই ৪৬ বছরের বয়সী Elizabeth Parrish এর নাম না শুনার কথাই...। ইনি হলেন পেশেন্ট নাম্বার ওয়ান (misnomer) যিনি জীবনের হায়াত বাড়াতে জিন থেরাপির মাধ্যমে টেলোমারেইজ নামক gene কে নিজের শরীরে ইনজেক্ট করেছেন.(100 injections)......২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। জিন থেরাপি করার পারমিশন যেহেতু আমেরিকা তে নাই, তাই তিনি কলাম্বিয়াতে এই 'এক্সপেরিমেন্ট' করেন...উনি এখন একটা কোম্পানি ও খুলেছেন এই টেকনোলজিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য...টেলোমারেইজ কিভাবে একজন এর লাইফ স্প্যান কে বৃদ্ধি করবে???? তাহলে জানতে হবে টেলোমিয়ার কি জিনিস...
উপরের ছবিটা হল আমাদের কোষে থাকা ক্রমোজম..। ২৩ জোড়া..।২৩টা এসেছে মা থেকে আর বাকি ২৩টা বাবা থেকে। লক্ষ্য করে দেখবেন যে সবগুলি ক্রমোজমের এর শেষ মাথায় কিছু বিন্দু জ্বল জ্বল করছে....এই বিন্দু গুলিই হল telomere। কোষের মাঝে এমন জ্বল জ্বল করে না..দেখার সুবিধার জন্য তাদের কে মার্কার দিয়ে মার্ক করা হয়েছে....আমরা জানি যে ক্রমোজমের গায়ের মাঝেই পেচিয়ে পেচিয়ে থাকে ডিএনএ আর ডিনএ ই হল আপনার সকল চারিত্রিক বৈশিস্ট এর নিয়ন্ত্রক... আর টেলোমিয়ার এর কাজ ই হল ক্রমোজমের মাঝে ডিএনএ কে প্রটেক্ট করা। telomere থাকে অনেকটা গিঠের মত ক্রমোজমের শেষ মাথায় যেমনটা থাকে জুতার ফিতার শেষ মাথায় শক্ত গিঠ ইংরেজীতে যেটা কে বলে aglet...এই গিট না থাকলে ফিতা কিন্তু খুলে/ছিড়ে যাবে...আর telomere ও গিঠ দিয়ে থাকে যাতে ডিএনএ শেষ মাথা থেকে খুলে পড়া স্টার্ট না করে। তবে প্রবলেম হল যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই telomere এর সাইজ ছোট হতে থাকে....তার কারন হল নতুন কোষ বানানোর জন্য তো নতুন ডিএনএ লাগবে, তাই ডিএনএ এর রেপ্লিকেশন হয় কিন্তু প্রতিবার রেপ্লিকেশন এর সময় ক্রমোজমের শেষ মাথা থেকে telomere এর কিছু অংশ ছেটে ফেলা হয়. telomere যত ছোট হতে থাকে, কোষের জীবন কাল ও ছোট হতে থাকে...তাই এখন telomere এর সাইজ মেপে বলা হচ্ছে যে আর কত দিন হায়াত আছে!!!!! এর জন্য কোম্পানী ও আছে আর সেটা খুলেছেন স্বয়ং এলিজাবেথ ব্ল্যাল্কবার্ন যিনি টেলোমারেইজ এনজাইম এর ফাংশান কে আবিস্কার করে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। নীচের ছবি টা দেখুন

তবে টেলোমারেইজ এনজাইম আমাদের শরীরে আছে যেটা এই telomere কে ছোট হতে দেয় না...কিন্তু টেলোমারেইজ এনজাইম টা শুধু আমাদের reproductive cells (egg/sperm) এ এক্টিভ যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পিতা মাতা থেকে ছোট সাইজের ক্রমোজম ইনহেরিট না করে....কিন্তু কোনভাবে যদি এই এনজাইমটা কে আমাদের শরীরের সাধারন কোষে এক্টিভ করা যায় তাহলে telomere ছোটও হবে না আর কোষ ও মারা যাবে না...আর সেটা করার জন্যই Elizabeth Parrish তার শরীরে telomerase gene টাকে প্রবেশ করিয়েছেন এক্টিভ ভার্সান টাকে। উনার মতে এখন উনার শরীরে telomere এর সাইজ প্রায় ৯% বৃদ্ধি পেয়েছে যেটা উনার বয়স কে ২০ বছর কমিয়েছে!!!!! নিচের ছবিটা তে দেখানো হয়েছে উনার telomere সাইজ এখন একজন ৩০ বছর ব্যাক্তির সমান। উনার হায়াত কি তাহলে ২০ বছর বেড়ে গেল!!!!!!!!!

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। ক্যান্সার কোষে কিন্তু telomerase সবসময় এক্টিভ, তাই এই কোষ মারা যায় না দ্রুত বৃদ্ধি পায়... বেশীদিন উনি বাচবেন নাকি অকালেই উনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন.... আজ প্রায় ৪ বছর হতে চলল ..উনি এখনও নিজেকে সুস্হ্য বলেই দাবী করছেন... আর উনি মাত্র একজন এই কাজ করেছেন..।তার উপর উনার নিজের কোম্পানী আছেন এটা প্রমোট করার জন্য, তাই কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট তো থেকেই যায়...। যতদিন যথার্থ প্রটোকল মেনে অনেক মানুষের উপর এই এক্সপেরিমেন্ট করা না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত্য অনেকের মত আমিও skeptical. তবে হার্ভাড সহ বিভিন্ন ল্যাবে সেইম টেকনোলজি ব্যবহার করে অনেক প্রানীর হায়াত ২ থেকে ৩ গুন বাড়ানো গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


