somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাদুর গবেষনা

০১ লা এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীতে সবচেয়ে ডেডলী ভাইরাস যেগুলিতে আক্রান্ত হলে খুব কম লোকই বেচে ফিরতে পারে, তার প্রায় সবগুলিই কিন্তু বাদুর এর মাঝে নিরিবিলি বসবাস করতে দেখা যায়...ডেডলি ভাইরাস যেমন নিপাহ, হেন্ড্রা, ইবোলা, রেবিস, মারবার্গ, এবং সবার 'প্রিয়' করোনাভাইরাসকে দেখা যায় যে অনায়াসে বাদুর এর মাঝে সহঅবস্হান করছে কিন্তু মানুষের মাঝে আসলেই সেটা ডেডলি আকার ধারন করে। বাদুরও মানুষ এর মতই ম্যামাল (কিন্তু উড়ন্ত) প্রচুর এনার্জি তে ভরপুর, উড়াউড়ির কারনে তার হার্টবিট মিনিটে ২০০ পর্যন্ত্য উঠে, এর ফলে তার শরীরে প্রচুর হাইলি রিএ্যাক্টিভ ক্যামিক্যাল তৈরী হয়, যার ফলে অনেক ডিএনএ ভেংগে যায়....। মানুষের যদি এর ১ শতাংশ পরিমান ডিএনএ ভেংগে যেত, তাহলে তার 'অক্কা' পেতে খুব একটা বেশী সময় লাগত না....সেখানে এই অবস্হায় থাকার পরও বাদুর এর কোন ক্যান্সার বা ভাইরাস দ্বারা মৃত্যু হওয়ার কোন এভিডেন্স নাই........তাহলে তার ইমিউন সিস্টেম কিসের বলে এমন শক্তিশালী রেসপন্স সিস্টেম গড়ে তুলেছে??? মানুষের বয়স এর সাথে তার ওজন এর অনুপাত চিন্তা করে দেখা যায় যে একটা বাদুর প্রায় মানুষ এর ২০০ বছর এর সমান বেচে থাকে...তাই এবার বিজ্ঞানীরা নড়ে চড়ে বসেছে বুঝার জন্য কিভাবে বাদুর এমন সহজেই এমন বিধ্বংসী ভাইরাস দের কে হ্যান্ডেল করে....।
বিভিন্ন প্রজাতির বাদুর এর জিনোম (ডিএনএ) সিকেয়েন্স করার পর কিছু কিছু কারন পাওয়া যাচ্ছে যেটা মানুষ আর বাদুর এর মাঝে ভিন্ন ভাবে উপস্হিত। মানুষ এর ডিএনএ কোন কারনে ভেংগে গেলে সেটা সেন্স করার জন্য যে সেন্সর প্রোটিন আছে, আর যার ফলে এই সেন্সর স্ট্রং রেসপন্স (প্রদাহ- ইনফ্লেমেশন) তৈরী করে ভাল কোষ ও ধ্বংস করে দেয়, সেই সেন্সর বাদুর এর মাঝে নাই। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে বেশীর ভাগ মানুষই ভাইরাস দ্বারা মৃত্যুর কারন হয় ইমিউন সিস্টেম এর স্ট্রং রেসপন্স এর জন্য।

বাদুর এর মাঝে 'সেলফ-ভ্যাক্সিনেশন' হিসাবে বিভিন্ন ভাইরাস এর ডিএনএ তার নিজের ডিএনএ এর মাঝে পার্মানেন্টলি যোগ হয়ে গিয়েছে, তাই তার ইমমিউন সিস্টেম, খুবই পরিচিত এইসব ভাইরাস এর সাথে (ভ্যাক্সিনেশন), তাই তার কোন অসুবিধা হয় না সেই সব ভাইরাস এর 'আক্রমনে'।

ইন্টারফেরন নামক 'হরমোন' হল ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মানুষ এর ইমিউন সিসটেম ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে ইন্টারফেরন তৈরী করে তবে সেটা অনেক সময়ই ফেইল করে সময় মত তৈরী না হওয়াতে...কিন্তু বাদুর এর মাঝে ইন্টারফেরনকে দেখা যাচ্ছে যে সবসময়ই তৈরী হচ্ছে আর প্রচুর পরিমানে তৈরী হচ্ছে ইভেন কোন ভাইরাস এ আক্রমন না করলেও..। আর তাদের ইন্টারফেরন গুলিও মানুষ এর থেকে একটু ডিফারেন্ট আর বিজ্ঞানী রা চাচ্ছেন সেই সব ইন্টারফেরন ইদুর এর মাঝে তৈরী করতে আর সফল হলে পরে মানুষের মাঝে (ইন্জেকশন দিয়ে???)।

তবে সবচেয়ে ইম্পোর্টেন্ট 'আবিস্কার' হল যে মানুষের ইমিউন সিস্টেম যেভাবে স্ট্রংলি ভাইরাস এর বিরূদ্ধে রিয়াকশান দেখায় হাই প্রদাহ - ইনফ্লেমেশন (যাতে বেশীর ভাগ মানুষই প্রান হারায়ও) হিসাবে যেটা একেবারেই অনপুস্হিত বাদুর এর মাঝে...কি কারনে সেটা এত 'টেইমড', সেটা খুজতে গিয়ে দেখা গেল যে ইমিউন সিস্টেম এর সাথে জড়িত একটা জিন তার নাম ACS2 সেটা সব প্রজাতির বাদুড় এর মাঝে খুব স্ট্রংলি এক্টিভ (এক্সপ্রেসড)। এই জিন এর প্রধান কাজই হল ইমিউন সিস্টেম কে ওভার রিয়াকশান করা থেকে বিরত রাখা। কিন্তু মানুষের মাঝে এই জিন সেভাবে কাজ করে না। মানুষ আর বাদুড় এর ACS2 জিনকে তুলনা করে দেখা গেল যে মাত্র চারটা ছোট যায়গায় (৪টা এমাইনো এসিড) তে বেমিল আর খুব সহজেই মানুষএর ACS2 জিনকে বাদুর এর ACS2 জিন এ রূপান্তর করা যাচ্ছে এই চার যায়গায় (ল্যাবে মানুষ এর কোষের মাঝে)। ইন ফ্যাক্ট যখন ইদুর এর ACS2 জিনকে চ্যান্জ করে বাদুর এর ACS2 জিন এ রূপান্তর করা হল, তখন সেই ইদুরকে ইদুর এর জন্য ডেডলি ফ্লু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত করার পরও সেই ইদুর বাদুর এর মতই নরমাল ভাবে বেচে রইল। যখন ল্যাবে মানুষের কোষে মানুষের ACS2 জিনকে বাদুর এর ACS2 জিন এ রূপান্তরিত করা হল, তখন দেখা গেল যে সেই সেল গুলি ডেডলি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরেও ইমিউন রেস্পন্স বাদুর এর মতই তেমন স্ট্রং ভাবে শো করে না। দিস ইজ ভেরী এনকারেজিং রেজাল্ট। বিজ্ঞানী রা মনে করছেন যেহেতু মানুষ শরীর এর মাঝে সরাসরি বাদুর এর ACS2 জিন কে স্হায়ী ভাবে প্রবেশ করানো যাচ্ছে না তবে ACS2 কে কেন্দ্র করে ড্রাগ ডিসকভারী হয়ত বেশী দুরে না..। যেহেতু ACS2 জিন তৈরী করে একটা পেপটাইড ( ছোট প্রোটিন মলিকুল), এটাকে ইনহেলার এর সাহায্য শরীরে প্রবেশ করানোর কথা ভাবা হচ্ছে অথবা নিকোটিন প্যাচ এর মত স্কিন এর ভিতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করানো যায়... সেই দিন হয়ত বেশী দুরে না........তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতিতে ইমিউন রেস্পন্স কে কমালে হয়ত ভাইরাস থেকে বাচা যাবে তবে সামান্য অন্য কোন ইনফেকশন এ (যেমন ব্যাক্টিরিয়াল) হয়ত রোগী মারা যেতে পারে খুব কুইকলি ইমিউন রেস্পন্স না থাকাতে.... বেশী আর কম ইমমিউন রেস্পন্স এর মাঝে একটা 'গোলডি লক' জাতীয় ব্যালান্স খুজে পেলেই হয়ত মানুষকে অনেক অনেক রোগ থেকে সহজেই মুক্ত করা যাবে।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৭:১১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি কি পথখাবার খান? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য

লিখেছেন মিশু মিলন, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:৩৪

আগে যখন মাঝে মাঝে বিকেল-সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম, তখন খাবার নিয়ে আমার জন্য ওরা বেশ বিড়ম্বনায় পড়ত। আমি পথখাবার খাই না। ফলে সোরওয়ার্দী উদ্যানে আড্ডা দিতে দিতে ক্ষিধে পেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯



দেহটা মনের সাথে দৌড়ে পারে না
মন উড়ে চলে যায় বহু দূর স্থানে
ক্লান্ত দেহ পড়ে থাকে বিশ্রামে
একরাশ হতাশায় মন দেহে ফিরে।

সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে অবিরত
কি অর্জন হলো হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : মদ্যপান !

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

প্রখ্যাত শায়র মীর্জা গালিব একদিন তাঁর বোতল নিয়ে মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। বেশ মৌতাতে রয়েছেন তিনি। এদিকে মুসল্লিদের নজরে পড়েছে এই ঘটনা। তখন মুসল্লীরা রে রে করে এসে তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

= নিরস জীবনের প্রতিচ্ছবি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৪১



এখন সময় নেই আর ভালোবাসার
ব্যস্ততার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে নিথর বসেছি,
চাইলেও ফেরত আসা যাবে না এখানে
সময় অল্প, গুছাতে হবে জমে যাওয়া কাজ।

বাতাসে সময় কুঁড়িয়েছি মুঠো ভরে
অবসরের বুকে শুয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Instrumentation & Control (INC) সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫




শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে বাংলাদেশে এক্কেবারেই খারাপ তা বলার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন শিক্ষার মান নিয়ে চেঁচামেচি করলেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সার্ভিস দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×