somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছি:নেমা আর সিনেমা : রিভিউ সমগ্র

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কালামনের ধলা মানুষের ঐতিহাসিক রিভিউ সমূহের সংকলন !!

Jab tak hai Jaan (2012) : যতক্ষন শ্বাস, ততক্ষন বাঁশ !!

প্রথম সীন যথেষ্ট কৌতুহল জাগানিয়া।
লাদাখের রাস্তায় স্পেসস্যুট পড়া এক এস্ট্রোনাট, চপস্টিক দিয়ে নুডুলস খাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন সময় বাইকে করে হাজির হোল খোচা খোচা দাড়িওয়ালা ভবঘুরে টাইপের একলোক। এসেই বল্লো, আমারে দে...! ধীরে ধীরে হলের অন্ধকার চোখে সয়ে এলে বুঝতে পারলাম, বোমা বিশেষজ্ঞ বোমার তারের প্যাচ খোলার চেষ্টা করছিল!
ভবঘুরের নাম, মেজর সমর আনন্দ, যিনি হেলাভরে বোমার ইজ্জত হরণ করেন, কোন ‘প্রটেকশান’ ইউজ করেন না। The Man who cannot Die; যিনি মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ করেন প্রতিদিন...!

কাউন্টার এটাক অন হিন্দী ছিঃনেমা : Dabangg

: অই মুটকি, এই মাটির মটকি’র দাম কত?
: ২৫০ টেহা।
: কস কি? এত দাম ক্যা?
: লইলে লন, না লইলে যান গা!
: হুম, দুইডা দে। এই ল টেহা
: ভাংতি নাইক্যা।
: বাকি টেহা রাইখ্যা দে।
: নেহি…আমি গরীব হইতারি, তয় ফকিন্নী না!
: ডায়লগ দেস? চটকানা খাবি কইলাম!
: শুনেন সাহেব, আমি চটকানা ডরাইনা, আমি ডরাই পেরেম…পেরেম…পেরেম !!

ক্রেমার ভার্সেস ক্রেমার (১৯৭৯) : একটি ক্ল্যাসিক মুভির রিভিউ লিখার দু:সাহস !!

মানবিক অমানবিক সব যুক্তিতর্ক শেষে এবার কোর্টের রায় দেবার পালা। কার পক্ষে যাবে এই রায়? চিরন্তন মাতৃসত্যের পক্ষে নাকি দায়িত্বশীল পিতৃত্বের পক্ষে?

ছবিটি অনন্য সাধারন হয়ে উঠেছে ফিনিশিং’এ একটি ছোট্ট কিন্তু অসম্ভব সুন্দর হৃদয় ছুয়ে যাওয়া টুইস্টের কারনে।

আশিকী ২ : অতলান্তিক অশ্রুর মরিচীকা; বিশুষ্ক সাহারায়...

এতগুলো দাগা খেয়ে খেয়ে আমার হৃদয়টা হয়ে পড়লো বেশ স্পর্শকাতর। তাই যেকোন সিনেমায় একটু আবেগঘন দৃশ্য দেখলেই আমি ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদি আর বিছানার চাদর দিয়ে চোখ মুছি!! আবহাওয়ার পূর্বাভাসে যা শুনেছি তাতে আশিকী ২ দেখার পর চোখের পানিতে ঘর ভেসে যাওয়ার নাকি সমূহ সম্ভাবনা। ফেসবুকে ছিঁচকাঁদুনে মেয়েরা (আমার চেয়েও বেশি) হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে স্ট্যাটাস দিচ্ছে এই সিনেমা দেখে! তাই সতর্কতামূলক প্রস্তুতি হিসেবে একটা এক্সট্রা বিছানার চাদর নিয়ে দেখতে বসলাম আশিকী ২

678 (2010): যৌন নিগ্রহের টুকরো ছবি

যৌন হয়রানী। এই অভিশপ্ত সাপের দংশনে দংশিতরা যেতে পারেনা কোন যাদুকর ওঝার কাছে, যারা নিমিষেই নামিয়ে দেবে বিষ। গোপনে পুষতে থাকে দংশনের জ্বালা। কেউ জেনে ফেললে যে তাড়িয়ে দেবে দূর দূর করে। একঘরে হয়ে যাবে সমাজ থেকে। বিষক্রিয়ায় দংশিতরা হারিয়ে ফেলে সাহস, আত্মসম্মান, বেচে থাকার ইচ্ছা। তিলে তিলে শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রনায় দগ্ধ হয়ে শেষ হয়ে যেতে থাকে। সামাজিক অবস্থান, শিক্ষাদীক্ষা কিম্বা বিত্ত - যতই ভিন্নতা থাকুক, যৌন নিগ্রহের অভিশপ্ত ছোবল সবাইকেই বন্দী করে ফেলে অদ্ভুত এক অন্ত্যমীলে; যেখানে দংশিতদের চোখের পানির রঙ এক।

EXPENDABLES 2 : বয়স DOESN’T MATTER; SHOOTING গুল্লি !!

এসেছে সকল মুরুব্বী, ছেড়ে দিতে হবে স্থান
তারপর বুড়া বয়সে ভীমরতি ধরায়, বুড়া হাড়ের ভেলকি দেখাতে; দুনিয়ার মুরুব্বী এক হও – এই স্লোগান দিয়ে বিমান নিয়ে সোজা শত্রুদূর্গে হামলা। আর্থ্রাইটিস, বাতের ব্যাথা, চোখে ছানি, কোমরের হাড় লুজ হয়ে যাওয়া, হাত কাপাকাপি – এইসব রোগের মুখে ছাই দিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন এই হলিউডি বয়োবৃদ্ধরা।
এই শেষ বয়সে এসে মুরুব্বিদের দৌড় ঝাপ, ঘুষা ঘুষী, লাফালাফি দেখে এই যুগের তরুণ দের রাণীক্ষেতাক্রান্ত মুরগী মনে হোল! যাইহোক, সবশেষে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী গোলাগুলি, মারামারি, খুন খারাপি আর রক্তপাত শেষে দুষ্টের পতন, মুরুব্বীদের পাতন।

খোঁজ দ্যা TALAASH

উঁচুতলার আরমানের মৃত্যু রহস্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে নিচুতলার কিছু মানুষের স্বপ্ন, লোভ আর অস্পৃশ্য একটি মেয়ে; পার্থক্য বিলীণ হয়ে যায় বাস্তব অবাস্তবের; জীবন আর মৃত্যুর। মৃত্যুর পরে কি হয়? আত্মারাও কি অতৃপ্ত থাকে? তারাও কি কষ্ট পায় ফেলে আসা প্রিয় মানুষের কষ্টে? মৃত্যুনদীর ওপার থেকে কখনো ফিরে আসে পুরনো পাপ? প্রায়শ্চিত্তের নেশায়! অথবা ফিরে আসে কোন হারানো ভালোবাসা? দুঃখ ভুলিয়ে দিতে!

‘ভূতের’ সংগ্রামমুখর জীবন এবং অনিশ্চিত ‘ভবিষ্যত’ !!

আমরা বন্ধুরা মিলে একবার ঘুরতে গিয়েছিলাম দার্জিলিং। ঘোরাঘুরির পাশাপাশি বীরবিক্রমে চলা আমাদের শপিং স্প্রী’এর একপর্যায়ে সেখানকার কোলকাতানিবাসী এক ‘বাঙ্গালী’ দোকানদারের দোকান থেকে কেনাকাটা করছিলাম। ভীণদেশে বাংলায় দামাদামি করে আমরা বেশ রোমাঞ্চিত। এক দোকানে লেদার জ্যাকেটের দাম শুনে বিমর্ষ হয়ে বাইরে বেরুতে বেরুতে শুনি, জনৈক দাদাবাবু আরেক দাদাবাবুকে বলছে, “দেকেচেন, আজকালকার এই বাংলাদেসেড় ছেলেগুলো কিরকম লম্বা চওড়া, স্মার্ট হয়। কিন্তু এড়া সালা’র মুক কুললেই না, স্রদ্দা ভক্তি ছব উবে যায়!!”

“কয় কি হালায়?” মনটা চাইসিল ফেরত গিয়া বইলা আসি, “ওরে হাউয়ার নাতি, তোদের বাংলা উচ্চারন শুনলেই আমাগো প্যাটের ভিত্রে মোচড় দেয় !! গা শিরশির কইরা উঠে!! গালের মিধ্যে বাতাস ভইরা মুখ গোল কইরা আমরা বাংলা কথা কইনা!”

Declaration of War (2011): একটি সিনেমা’র গল্প অথবা আমার গল্প

তখন ২০০১। আমার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার টেস্ট সামনেই। বাবাকে অনেক ডাক্তার দেখান হল, অনেক ওষুধও খাওয়ানো হল।কিন্তু অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে লাগল। কোন ডাক্তারই এর কারন বের করতে পারলেন না, এমন কি অন্য স্পেশালিস্টের কাছে রেফারও করলেন না!পরে এক আত্বীয়ের পরামর্শে নিউরোসার্জনকে দেখান হল। করানো হল সিটি স্ক্যান এবং ধরা পড়ল খুব ক্রিটীক্যাল পজিশনে একটি টিউমার; ব্রেন টিউমার! শিরদাড়া বেয়ে নেমে যাওয়া ঠান্ডা সেই অনুভূতিটা আজো অনুভব করতে পারি। রোমিও জুলিয়েট আর তাদের পরিবার, বন্ধুদের এই আকস্মিক দু;সংবাদের বুলেটের মত আঘাত আর অদম্য আবেগের নাটুকে বহি;প্রকাশ আমার কাছে অতিরঞ্জিত মনে হয়নি মোটেও। দু;সময়ে সামনে এসে দাড়ায় দায়িত্ববোধ, ঠিক করা হয় কর্মপন্থা। ঘোষণা দেয়া হয় যুদ্ধের। ঠিক যেমনি দিয়েছিল আমাদের পরিবার। যে যুদ্ধে একবিন্দুও ছাড় দেয়া হবেনা মৃত্যুকে।

“যখন হরির লগে সুজেলের দেখা হইল” – হিন্দী ছিঃনেমা রিভিউ

- হরি হরি,
- ইয়েস পাপা,
- স্লিপিং টুগেদার?
- ইয়েস পাপা,
- ডুইং নটি নটি?
- নো পাপা,
- টেলিং লাইজ?
- হাহাহা

The Raid: Redemption – একটি একশনধর্মী রিভিউ !!

এই অসম যুদ্ধের শেষ দেখার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় বেচে থাকা শেষ তিনজন এলিট। সিদ্ধান্ত নেয় মরণ কামড় দেয়ার। এন্ডিকে বাচাতে খালি হাতে ঝাপিয়ে পড়ে রামা অসম্ভব ক্ষিপ্র আর কৌশলী এক যোদ্ধার ওপর। শুরু হয় খুনের নেশায় মত্ত এক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দুই ভাইয়ের অমানুষিক সংঘর্ষ; চোখে বিভ্রম সৃষ্টিকারী কৌশল, ক্ষিপ্রতা, শক্তিমত্তা আর দমের লড়াই।

দ্যা ফার্স্ট গ্রেডার :মুভি রিভিউ ও আমার অভিষেক পোস্ট

কিমানি মারুগে...একজন কাল মানুষ। ব্রিটিশ'দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হারিয়েছেন স্ত্রী, সন্তান।...নির্যাতিত হয়েছিলেন অমানুষিকভাবে।...লক্ষ ছিল একটাই...কেনিয়া'র স্বাধীনতা।
বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ, স্বাধীন সরকার তাকে প্রদান করে একটি সার্টিফিকেট। ...৮৪ বছরের অশিক্ষিত বৃদ্ধ মারুগে, অনুধাবন করতে চায় এই সার্টিফিকেট, যাতে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে তার অবদান আর স্ত্রী-কন্যা হারানোর অপূরনীয় ক্ষতিকে।
মারুগে স্বীদ্ধান্ত নেয় স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়তে শিখবে। কিন্তু তাকে মুখোমুখি হতে হয় সরকারী দূর্ণীতি আর অপ শাষণের। ......শুরু হয় তার নতুন যুদ্ধ।

আপাতত এটুকুই। ধন্যবাদ সবাইকে।


সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৭
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×