somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ উপহারীয় সাক্ষাৎকার : হিরোইঞ্চি জহিরের মুখোমুখি

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সব নেশাখোরদের নিয়ে গঠিত হিরোইঞ্চি কাবের সহ-ভাইস প্রেসিডেন্ট, হিরোইন খেয়ে রিকশা চালাতে গিয়ে পাচঁবার খাদে পড়া অখ্যাত হিরোইনখোর, যার অত্যাচারে আবাসিক-অনাবাসিক সকল লোক সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত, যার জন্য বাড়ীর বদনা থেকে শুরু করে ফুলের টব পর্যন্ত সারারাত জেগে পাহারা দিতে হয় সেই বিখ্যাত ব্যক্তি, বাংলাদেশের ১ কোটি নেশাখোরের গর্ব, কঙ্কালসার দেহের অধিকারী হিরোইঞ্চি জহিরের সাথে। আসুন হিরোইঞ্চি জহিরের সাথে। আসুন দেখি "জাতির অহংকার" আমাদের কী বলে।

* আচ্ছা, জহির মিয়া, আপনার নামের সাথে "হিরোইঞ্চি" সংযুক্ত হবার কারণটা বলবেন কি?
হিঃ জহিরঃ আসলে সর্বপ্রথম আমার নামের সাথে হিরোইঞ্চি সংযুক্ত ছিল না। আস্তে আস্তে এক একটা টাইটেল উঠে গিয়ে একেকটা নতুন টাইটেল যুক্ত হতে থাকে। সর্বশেষে আমার নামের সাথে যে টাইটেল যুক্ত হয় তা হল "হিরোইঞ্চি"। অর্থাৎ হিরোইন যারা গ্রহন করে এক কথায় তাদের হিরোইঞ্চি বলে।
* ও, তাহলে আপনার হিরোইঞ্চি নামের আগে আরও কতণ্ডলো টাইটেল ছিল? দয়া করে সেণ্ডলো উপহার পাঠকদের বলবেন কি?
হিঃ জহিরঃ যখন আমি বিড়ি খাওয়া শুরু করি তখন আমার নামের টাইটেল শুরু হয়। যেমন: বিড়ি জহির, ডাইল জহির, গাঞ্জা জহির ইত্যাদি। তবে কয়েকদিন লোকে "হুক্কা জহির"ও বলত।
* আচ্ছা, আপনি তো হিরোইন খেয়ে একাধিকবার রিকশায় যাত্রীসহ রান্তার পাশে খাদে পড়েছেন। এমন কেন হয় বলবেন কি?
হিঃ জহিরঃ আসলে যখন নেশা করে রিকশায় উঠি তখন দেখি রাস্তাঘাট অন্যরকম। যেমন প্রথম যেদিন দূর্ঘটনা হল সেদিন দেখলাম সামনে দিয়ে একটা ট্রাক আসছে, তাকে সাইড দিলাম। আরও সামনে গেলাম দেখলাম দোতলা বাস আসছে। তাকে সাইড দিব এমন সময় দেখি সামনের রাস্তা উল্টানো। পরের কিছুই মনে নাই।
* তো আপনি এত রিস্ক নিয়ে রিকশা চালান একি ঠিক?
হিঃ জহিরঃ আসলে কি, আমার দোষ নাই। তারপরও এসব বিবেচনা করে হিরোইঞ্চি কাবের সদস্যরা চাঁদা তুলে আমাকে হিরোইন ফ্রি দেয় দৈনিক ২ বার করে।
* জনাব, আপনাকে প্রতিদিন ক'বার এ মাল খেতে হয়?
হিঃ জহিরঃ এই তো দুই কি তিনবার।
* তাহলে বাকী দুইবারের টাকা পান কোথায়?
হিঃ জহিরঃ কি যে বলেন মিয়া এলাকা আছে না!
* তার মানে চুরির আশ্রয় নেন?
হিঃ জহিরঃ ধুরু মিয়া, এইডা কইবেন না, প্রেসটিজে আঘাত লাগে।
* আপনার একটা চুরির বিরল অভিজ্ঞতা বলুন।
হিঃ জহিরঃ এক সন্ধ্যায় নেশা ধরল। আশপাশে সব বাসায় গেলাম কিন্তু কোন বাসায় সুবিধা করতে পারলাম না। মহল্লায় বিদ্যুৎ ছিল না এদিক দিয়া আমিও আর পারতাছিলাম না। রাত বাইজা গেল এগারোটা, এমন সময় দেখলাম এক বাসার বাথরুমে দেখলাম একটা শাড়ীর পাড় ঝুইলা আছে। বুঝলাম কপাল খুলছে। এমন সময় শাড়ী ধইরা দিলাম টান। শাড়ী চলে এল। এরপর শুনলাম মহিলা কন্ঠের চিৎকার আর আমার শরীরে উত্তম-মধ্যমের আওয়াজ। আর কিছু স্মরণ নাই।
* দারুণ তো! আচ্ছা, একটা হিরোইঞ্চি গান গান না? যে গান গাইলে মনে জোস ওঠে (এমন সময় আরও তিনজন হিরোইঞ্চি এল)?
হিঃ জহিরঃ শুনবেন? আসলে সমস্বরে না হইলে জমে না, কি রে তোরাও ধর-

"জয়জাগা নন্দন, ঘটিবাটি বন্ধন
হিরোইন দেয় কি শান্তি
৩০ টাকার হেরোইন কিন্না,
মনের মত নেশা লইয়া
মনে যে কি পাই শান্তি।
আমার বাপের টাকার কাড়ি
বেইচ্চা খামু হেরোইন বিড়ি।"
:)


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×