somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনকে দেখি, জীবনের দাম দিয়ে

১৪ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যরাত, সবাই ঘুমিয়ে। নেট এ বসে অলস সময় পার করছি। হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে উঠলো। ভয়ে ফোনটি ধরতে পারলাম না। প্রিয়জনের ফোন, এভাবে কেউ ভয় পেতে পারে জানা ছিল না। মোবাইলটি হাতে নিয়ে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম অনেকক্ষন। আবারো বেজে উঠলো। অনেক দিন পর প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে ফোন আসছে, কোথায় আমার আনন্দিত হবার কথা, তা না হয়ে আমার গলা কেবলই যেন শুকিয়ে আসছে, প্রচণ্ড পানির পিপাসা।

ফোনটি ধারার সাহস হলো না। এসএমএস দিলাম, "ভালো আছো তো?..."

ফিরতি এসএমএস-
"ভালো আছি, ভেবেছিলাম আমার বাবাকে অনেক পছন্দ কর, তোমার প্রিয় মানুষদের তালিকায় নাকি আমার বাবার নাম রয়েছে, কোন একদিন বলেছিলে মনে পরে। আমার বাবার ব্যবসা বসুন্ধরায়, তা তুমি ভালো করে জানো। এতকিছুর পরও কেন জানি আমি তোমার কাছ থেকে একটা ফোন আশা করেছিলাম, সারাটা দিন অপেক্ষায় ছিলাম, বলবে "বাবা কেমন আছে? তার তো কোন সমস্যা হয়নি?" কিন্তু হায়, অনেক বদলে গেছো তুমি। ভালো থেকো..."

এসএমএস দিলাম-
"মনে পরে? গত দু'বছর আগে প্রথম যে দিন কারফিউ হলো, তোমার সে কি উৎকণ্ঠা। আমি কোথায় আছি, কিভাবে আছি? অফিস থেকে বের হয়ে যেন সোজা বাসায় চলে আসি। তারপর প্রতি ৫ মিনিট পর পর তোমার ফোন। কতটুকু আসলাম? রিক্সা পেলাম কিনা? কেন রিক্সা পাচ্ছি না এ নিয়ে তোমার সে কি কান্না। অফিস থেকে সেদিন বাসায় ফিরতে আমার ৪ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এই ৪ঘন্টায় তুমি চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়েছিলে জায়নামাজ। আমি বাড়ি ফেরার পর শোকরানা নামাজ আদায় করেছিলে। ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিয়ার বিদ্রোহের দিন অনুভব করলাম, আমি কি হারিয়েছি। সবার ফোন বেজে ওঠে শুধু আমারটি ছাড়া। বোবার মত সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে শুধু অনুভব করলাম তোমার আমার প্রতিটি মুহুর্ত। ক্ষমা কর, ক্ষমা কর আমায়। ভালো থেকো।"

ফিরতি এসএমএস-
"আমি দুঃখিত, তোমায় কষ্ট দেবার জন্য। কেমন আছো শুটকা মামা?"

আবারো ফিরতি এসএমএস-
"তুমি কেন আমার জীবন থেকে চলে গেলে? আমার তো আর সহ্য হয় না বাবু। কেন এমন করলে তুমি?"

এসএমএস দিলাম-
তুমি এত কেঁদছো যে আজ তোমার চোখের জল শেষ হয়ে মরুভুমি হয়ে গেছে, আমার তো আজও শেষ হয়নি, ভালো থেকো"

আবারো এসএমএস দিলাম-
"ক্ষমা করো কাঁঠবিড়ালি। আমি ছাড়া আমার বাবাকে দেখার আর কেউ নাই। দোয়া করো, ভালো থেকো"


তারপর আবারো নিরবতা সময় পেরিয়ে কখন যে ভোর হলো? টের পেলাম ফজরের আজানের শব্দ শুনে। এলিয়ে দিলাম ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায়।



৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×