প্রত্যেক বিষয়ে এক একজনকে উচ্চ অভিজ্ঞ থাকে, ঐ ব্যক্তির হাতে এমন যাদু থাকে, যেটা কোন প্রযুক্তি বা জ্ঞানীর পক্ষে বের করা সম্ভব নয়।
জিহাদদের উদ্ধার ঘটনা নিয়ে আমার মনে হয় এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে। এখানে কাউকে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। প্রত্যেকেই তার সাধ্য অনুযায়ি কাজ করেছে, শীতের মধ্যে কষ্ট করেছে। তবে আমাদের স্বাভাবিক ধারণা, যেহেতু ফায়ার সার্ভিস সরকারি প্রতিষ্ঠান তাই তাদের কাছে উচ্চ প্রযুক্তি আছে, বিশেষজ্ঞ আছে। তাই সেই বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু এখানেই আমাদের ভুল। মশা মারতে যেমন কামানের কোন ভূমিকা নেই, ঠিক তেমনি সব কাজ প্রযুক্তি ও নামধারী বিশেষজ্ঞ দিয়ে করা সম্ভব না। কিছু মানুষের মনুষ্য টেকনিকাল যোগ্যতা এতটাই বেশি যে, সেটার সামনে আধুনিক প্রযু্ক্তি ও নামধারী বিশেষজ্ঞরা অসহায়। সেটাই আমরা দেখলে পেলাম, উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরা, ক্রেন অনেক কিছু দিয়েই চেষ্টা হলো, কিন্তু জিহাদ নাই এটাই তাদের সর্বশেষ ফল। অথচ সাধারণ পাবলিকের মধ্যে কিছু উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন লোক মাত্র ১৫ মিনিটেই বিষয়টির সমাধান করে ফেললেন !!
ঘটনা নিয়ে কাদা ছুড়াছুড়ি না করে এ ঘটনা থেকে কি শিক্ষা গ্রহণ করা যায় সেটা বুদ্ধিমানে কাজ। যেমন-
১) যে লোকগুলো একাজে সফল হলো, সরকারিভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা হোক। এ লোকগুলো অবশ্যই জাতির জন্য উপকারি। বিভিন্ন ঘটনায় তাদের বুদ্ধি কাজে লাগানো যাবে।
২) তারা যে পদ্ধতি ব্যবহার করে মাত্র ১৫ মিনিটে জিহাদকে উদ্ধার করলো সেই পদ্ধতিটি আমাদের ফায়ার সার্ভিসকেও শিখিয়ে দেওয়া হোক।
৩) রানা প্লাজা, মুন্সিগঞ্জে লঞ্চডুবির সময়ও কিছু পাবলিক অসাধারণ কাজ করেছেন। অনেক জীবিত লোককে উদ্ধার করেছেন। এ লোকগুলোকে উচ্চ বেতন দিয়ে আমাদের ফায়ার সার্ভিস বিভাগে চাকরি দেওয়া যেতে পারে। তারা জাতির জন্য তাদের মেধাকে কাজে লাগাবে।
সর্বশেষ একটা ঘটনা বলবো, বাংলাদেশে কোন হ্যাকার ধরা পড়লে তার জেল হয়, আর চীনে কোন হ্যাকার পাওয়া গেলে, সরকার তাকে টাকা দিয়ে কিনে নেয় দেশের জন্য কাজ করার জন্য। আমাদের দেশে মেধার কোন মূল্য নেই, কিন্তু চীনে মেধাকে সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করা হয়, এজন্য চীন আজ প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত।
তাই শোক নিয়ে কাদাছোড়াছুড়ি নয়, প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
