somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা যদি না জাগি মা...

০৩ রা মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


eyj‡Mwiqvi গ্যাব্রোভোর বাসীন্দাদের কিপটেমি নিয়ে নানান রকম মশকরা চালু আছে পৃথিবীময়। যেমন ওরা নাকি ম্যাচের একটা কাঠিকে দুই ভাগ করে নেয়। যাতে করে একটা কাঠি দিয়ে দুইবার আগুন জ্বালানো যায়। শুনে ঠোট ওল্টাচ্ছেন- ‘এহ ব্যাটারা কেমন চিপ্পুস, একটা ম্যাচের কাঠি, কয় পয়সাই বা তার দাম? তাও নাকি দুই ভাগ করে ব্যাবহার করতে হয়!’ অথচ একবার নিজেদের দিকে তাকান। দেখতে পাবেন ওরা আমাদের চেয়ে হাজার গুনে ভালো। ভাবছেন কি করে? এটা বুঝতে হলে আপনাকে সামান্য কষ্ট করে ঢুকতে হবে আপনার রান্নাঘরটায়। দেখুন চুলায় কিচ্ছু চাপানো নেই, তবু্‌ও জ্বলছে চুলাটা। আপনি ভাবছেন, ওহ! এই ব্যাপার? এর আর এমন কি? মাথাটা একটু খাটান, টের পাবেন ওটাই একটা বিরাট ব্যাপার। কি করে? শুনুন তবে।

তিতাসের হিসেব মতন প্রতিবছর সারাদেশে দরকার হয় প্রায় ১৪০০মিলিয়ন MMCFD গ্যাস। সেখানে পাওয়া যায় মাত্র ১০০০ মিলিয়ন MMCFD গ্যাস। ঘাটতি থাকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকাতেই ঘাটতি থাকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। চাহিদার বিপরীতে এই ঘাটতি তো রয়েছেই। সেই সাথে আছে আমাদের অপচয়ের বাতিক। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ২০১৫ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে গ্যাসের উৎস। আর তখন সারা দেশে নেমে আসবে অচল অবস্থা। নতুন কোন গ্যাসের উৎস খুজে না পাওয়া পর্যন্ত গ্যাসের নিত্যসংকটই হবে আমার, আপনার, আমাদের সবার সঙ্গী। এমন কি নতুন উৎস খুজে পেলেও সংকট লেগেই থাকবে, যদি না আমরা আমাদের এই অপচয়ে বাতিক না বদলাই। আপনি ভাবছেন আপনার বাড়ির কোন কোনায় একটা মোটে চুলা, সেটা সারাদিন জ্বললেই বা কি আসে যায়।

বিষয়টা বোঝাতে সেই পুরোনো কলসি আর পানি বিষয়ক উদাহরনটাই টেনে আনি। ধরাযাক একটা কলসিতে দশজন লোকের জন্য দশ গ্লাস পানি রাখা আছে। এখন পাঁচজনকে সুযোগ দেয়া হল পানি খাওয়ার। সেই পাঁচজন একগ্লাস করে পানি খেল, আর এক গ্লাস করে ঢেলে ফেলে দিল। তাহলে শেষ পর্যন্ত ঘটলো কি? বাকি পাঁচজন আর পানি খেতে পারলো না, আগের পাঁচজনের অপচয়ের কারনে। গ্যাসের বিষয়টাও ঠিক সেরকম। আপনি যদি গ্যাস ব্যাবহারের সুযোগ পেয়ে তার অপচয় করেন তাহলেও ঐ একই ঘটনা ঘটবে। অর্থাৎ আপনার বাড়িতে রান্না হবে ঠিকই, কিন্তু আপনার পড়শির ঘরে আর চুলো জ্বলবেনা।

আমাদের এই শহরে গ্যাসের অপচয় হয় নানান অসিলায়, নানান উপায়ে। প্রথমত বলি আমাদের বাড়িওয়ালাদের ফাকি বাজির কথা। খুঁজলে পরে এরকম অসংখ্য বাড়ি পাওয়া যাবে যেখানে একটি চুলোর অনুমতি নিয়ে চালানো হচ্ছে দুটি চুলো। কেননা যেখানে গ্যাসের বিল দিতে হয় মিটারের বদলে চুলোর হিসেবে(প্রতিচুলা ২০০ টাকা), সেখানে যে সুযোগসন্ধানীরা একটার জায়গায় দুটো চুলো বসিয়ে নেবে এটাই ¯^vfvweK| এসব ক্ষেত্রে দেখার কেউ নেই, অভিযোগ করারও কাউকে পাওয়া যায় না। হেশেলের এই দূর্নিতি শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে জাতীয় পর্যায়ে। কেননা গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে যে পরিমান, টাকা কিন্তু সে পরিমান আসছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ সরকার, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশ।

এরপর আসা যাক দ্বিতীয় পর্যায়ের অপচয়ে। বাঙালী নাকি মাগনা পেলে আলকাতরাও সাদা লুঙ্গিতে করে নিয়ে নেয়। এর খানিকটা হলেও দেখতে পাবেন আমাদের রান্নাঘর গুলোয়। যেখানে মাত্র একটা ম্যাচের কাঠি বাঁচানোর জন্য রান্নাঘরের কর্তৃরা দিনরাত চুলো জ্বালিয়ে রাখে। শিক্ষিত গৃহিনী আর অশিক্ষিত কাজের বুয়ারা কেউ এই পাল্লায় কারো চেয়ে পিছিয়ে পড়বে না। সেই সাথে সামান্য আলসেমী করে ছাদের বদলে রান্না ঘরে চুলা জ্বেলে কাপড় নাড়ার ঘটনাতো হরহামেশাই ঘটছে। তারচেয়েও বড় কথা এ ঘটনা গুলো অহরহ ঘটে আমাদের চোখের সামনেই।
এভাবে আমরা প্রতিনিয়ত গ্যাসের অপচয় করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছি। অথচ এসব দেখার যেন কেউ নেই। না থাকুক। আমরা কি তাই বলে এমন করতেই থাকবো? কারো বাড়িতে ঢুকে আমরা কি টুক করে কোন একটা জিনিস পকেটে পুরে ফেলি এই ভেবে যে কেউ তো দেখছে না! তাহলে জাতীয় সম্পদ গ্যাসের ক্ষেত্রেই বা কেন এমন হবে? আমাদের সম্পদ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। আমরা যদি না জাগি...তাহলে সকাল হবে কেমন করে মা?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×