somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন আমার লাড়েলাপ্পা

২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাঝে মধ্যে ভাবি আমি, প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই যেরকম ভাবে পড়ি মড়ি করে টয়লেটের দিকে ছুটে যাই,ঠিক সেইরকম ছুটতে ছুটতে খুলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে ঝুলে থাকা লুঙ্গির কোছা পাকড়ে টয়লেটের দিকে যাত্রা করবেন রাষ্ট্রপতি। টয়লেটে কোন লাইন নেই দেখে প্রসন্ন একটা হাসি দিয়ে ঢুকে যাবেন তিনি। তারপর পরম আবেগে চোখ মুখ কুচকে শান্তির ত্যাগ সেরে তিনি অসামান্য এক বাতেনী জ্ঞানের অধিকারী হবেন। সাত সকালে কেন টয়লেটের সামনে কোন লাইন ছিল না নিমিষেই সে রহস্য বুঝে ফেলবেন তিনি। কেননা কলে পানি নেই। বদনা-এ-সাহারা। কিন্তু ততক্ষনে যা হবার হয়ে গেছে। অত:পর বাধ্য হয়ে লুঙ্গির খুট দিয়ে...।
তারপর ঠিক আমার মতন করে প্রায় ফুটো হয়ে আসা প্লাষ্টিকের থলে হাতে নিয়ে বাজারের দিকে হাটবেন। বাজারে গিয়ে দুটো মাত্র টাকা বাচানোর জন্য ক্যাচাল করে ঘর থেকে বয়ে নিয়ে আসা মান ইজ্জতের সবটুকু মাছওয়ালা,সব্জিওয়ালাদের কাছে খুইয়ে অবনত মস্তকে বাড়ি ফিরবেন ঠিক আমারই মতন। ব্যাগের কোনায় লজ্জায় লুকিয়ে থাকা সামান্য কটা কাঁচকি মাছ আর পোকার সাথে যুদ্ধ করতে করতে কোন রকমে বেচে যাওয়া গুটিকয় বেগুন দেখে পাম অয়েলে(সয়াবিন তেলের অনেক দামতো!) বেগুনে জ্বলে ওঠা বউয়ের মুখ ঝামটা খেয়ে ছুটবেন শেভ করতে।দুনম্বর ব্লেডে ধার নেই। তাড়াহুড়োয় সেই ভোতা ব্লেডের পোচ খেয়েই রক্তারক্তি গাল চেপে সকালের নাস্তার প্লেট নিয়ে বসে যাবেন তিনি। শুকনো রুটি, রাতের বিস্বাদ বাসি তরকারিতে চুবিয়ে চুবিয়ে নাকে মুখে গুজবেন খুব করে। তারপর ভয়ানক গন্ধওয়ালা জুতো মোজা পায়ে গলিয়ে টারজানের মতন ঝেড়ে দৌড় লাগাবেন বাসের পেছন পেছন। দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস থাকায় তিনি অবশেষে একটা বাসের হাতল ধরে পা দানিতে ঠিক ঠিকই ঠাই করে নেবেন। তারপর অভিজ্ঞ কনুইবাজের মত লোকের চোখে মুখে কনুই মেরে মেরে ঢুকে যাবেন বাসের গভীর থেকে গভীরে। কিন্তু নিউটন বলেছেন প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অত:পর তিনিও নাকে মুখে কনুই খেয়ে...।
অফিসে পৌছে তিনি হাত পা ছেড়ে দিয়ে বসে পড়বেন নিজের ঘুন ধরা ক্যাচ ক্যাচে চেয়ারে। যেখানে কমান্ডো ট্রেনিং পাওয়া ছারপোকারা সফল গেরিলা হামলা করে হাত পা মোরব্বা ক্যাচা করে দেয়, সেই চেয়ারে বসেও তিনি হাফ ছেড়ে ¯স্বস্তারvi দৈনিকটা টেনে নেবেন। কিন্তু কোথাও কোন ভালো খবর নেই। খুন, খারাবি,রাজনৈতিক জোচ্চুরি আর ধান্দাবাজ কলামিষ্টদের একঘেয়ে বক বকে চোখ বুলিয়ে তিনি যাবেন খেলার পাতায় মুক্তির আশায়। কিন্তু সেখানেও তার প্রতিক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল লজ্জাষ্কর কোন পরাজয়ের খবর নিয়ে। ধ্যাত্!- বলে ছুড়ে ফেলবেন যখন কাগজটা,ঠিক তখনই বড় সাহেবের পেয়াদা ফাসির আসামীর মত ধরে নিয়ে যাবে বড় সাহেবের রুমে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ঠিক আমারই মতন কাঁপা কাঁপা কলজে নিয়ে দাড়িয়ে থাকবেন অবনত মুখে। যতটুকু ভুল তারচেয়ে অন্তত দশগুন বেশি ধমকা ধমকি করে বড় সাহেব যখন গাধার সামনে মুলো ধরার মতন বেতন বাড়াবার ঐতিহাসিক মিথ্যে প্রবোধ দিয়ে ছেড়ে দেবেন তখনও কিন্তু তার রাগ এক ইঞ্চিও কমবে না। অত:পর চেয়ারে ফিরে এসে তিনি নিজেও তার অধিনস্তদের একই কায়দায়...।
অফিস ফুরোলে পর বিকেলের দিকে একটু মুক্তির ¯স্বাদ পাওয়া যাবে অবশেষে। তাড়া নেই, ভিড় ভাট্টার বাসে না উঠে তাই তিনি হাটতে থাকবেন বাসার দিকে। তখন সংসারের নানান চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকবে মাথাময়। বড় ছেলেটা ভালো চাকরি করে। কিন্তু বিয়ের পর বউ চিনেছে। সে এখন আলাদা বাসা নিয়ে থাকে। ছোট ছেলেটা ছাত্র তেমন ভালো না। তার উপর সেশন জ্যামে আটকে আছে দুটো বছর। কবে পাশ করবে কবে চাকরি পাবে সেই ভাবনায় ঘুম হয় না রাতে। বছর ঘুরতে রিটায়ারমেন্ট। তখন এই সংসারের হাল ধরবে কে?
মেয়েটা তার এমন মেধাবী, ডাক্তারীতে টিকে গেছিল। পয়সায় কুলাতে পারবেন না, সেই জন্য শেষতক সলিমুল্লাহ মেডিকেলের মেয়ে সলিমুল্লাহ ডিগ্রী কলেজে গিয়ে পড়ল। মেয়েটা তার এমন লক্ষী, ভালো ফল করে পাশ টাশ দিয়ে বসে আছে তবু বিয়ে হচ্ছে না। গায়ের রংটা কালো তো। মেয়ের মা অবশ্য উজ্জল শ্যামলা বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অন্যসবার মত তিনিও জানেন তার মেয়ের গায়ের রং কালো। পাত্রীর বাজারে তার মেয়ে একেবারে শেষের কাতারে দাড়িয়ে। কিন্তু হঠাৎ এই পড়ন্ত বেলায় তার চোখ চলে যাবে রাস্তার ধারে, যেখানে কিনা দিনে দিনে রং ফর্সা করার আশ্বাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে সুবিশাল কোন সাইনবোর্ডের। অতপর তিনি কোন একটা দোকান থেকে...।
বাড়ি ফিরে কাপড় পাল্টে, হাত মুখ ধুয়ে তিনি লোডশেডিং এর অপেক্ষায় থাকবেন। পুরোপুরি অন্ধকার না হলে জিনিসটা হাতে দেয়ার সময় মেয়েটার চোখের পানি দেখতে হবে যে। আর মেয়েটা সেই আশ্বাসের কৌটোটা হাতে নিয়ে বুঝে ফেলবে গতমাসের মতন এ মাসেও বাবার বাস ভাড়ার ফসল তার হাতের তালুতে বন্দি। বৃথা যদিও, তবুও এ চেষ্টার কোথায় যেন একরমের প্রগাঢ় ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। মেয়েটা পরম মমতা নিয়ে তার দুখী দুখী চেহারার বাবাটির মুখের দিকে তাকাবে। কিন্তু সেই মেয়েটা কিছুই দেখতে পাবে না। কারন লোডশেডিং এর অন্ধকার এই ¯স্বস্তারvi ভাড়াবাড়িতে অনেক বেশি গাঢ় হয়ে ধরা দেয়। অতপর মেয়েটা সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে দাড়িয়েই ওড়নায় মুখ লুকিয়ে...।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×