somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ এ কি আদৌ কখনো রাজাকার দের বিচার হওয়া সম্ভব? আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কের ইতিহাস কি বলে?

২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ এ কখনো কি জামায়াত ইসলামী এর নেতাদের বিচার হবে?

কেন এ প্রশ্ন, তা বলার আগে কিছু জিনিশ একটু খোলাশা করতে চাই। যদিও বাংলাদেশ এর রাজনীতির প্রধান দুই দল আওয়ামী লিগ ও বি এন পি, কিন্তু এই আলোচনায় আমি বি এন পি কে উহ্য রাখব। কারন, বি এন পি যে ভাবে একটি জামাত নির্ভর অন্তঃসার শুন্য দুর্নীতি গ্রস্ত হয়ে পরেছে, যার মুল কান্ডারি এখন পবনের বাপ, তাতে আমার ধারনা আর দুই তিন টা নির্বাচন বা তারও আগে বি এন পি জাসদ বা মুসলিম লীগ এর মত বিলুপ্ত হবে। বি এন পির মুল শক্তি ছিল শহুরে মধ্যবিত্ত আর আওয়ামি বিরোধী জনগন। এদের মধ্যে প্রথম গ্রুপ দুই টার্ম বিএনপির ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে এখন অন্য কাউকে খুজছে, যার ফলাফল এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে। আর দ্বিতীয় গ্রুপ, যারা এখন অনেকটাই বয়স্ক, তারা ঝুকছেন জামায়াত এর দিকে। তাই বলছি, বি এন পির ভবিষ্যত ভাল কিছু না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আমার মতে বাংলাদেশ এ জামায়াত এর পুনর্বাসন হয়েছে তিন টা মুল ধাপে। প্রথম টা অতি অবশ্যই জিয়া সরকার এর আমলে। বহু দলীয় রাজনীতি উম্মুক্ত করার সাথে সাথে শাহ আজিজ এর মত রাজাকার কে প্রধান মন্ত্রী বানানোর মাধ্যমে জামায়াত এবং তাদের সাথে রাজাকার দের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ এ প্রকাশ্য হওয়ার সু্যোগ দেয়া হয়। এ বিষয়ে আমার মনে হয় কারোই কোন দ্বিমত নেই।

আমরা যারা জামায়াত কে পছন্দ করতাম না, তাদের কাছে সব সময়ই আশা হয়ে ছিল আওয়ামী লীগ। কলেজে যখনি শিবির এর দাবড়ানী খেয়েছি, প্রশাসন এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অসহযোগিতায় মার খেয়ে নিজের হাত নিজে কামড়েছি, মনে প্রানে প্রার্থনা করেছি আওয়ামী লিগ একবার ক্ষমতায় আসুক, বাছারা টের পাবে। এল ১৯৯১ এর নির্বাচন। বি এন পি জিতলো। আমরা জানতাম যে বি এন পি কখনো রাজাকার এর বিচার করতে পারবে না, কারন তার ঘর ভরতি তো ওই জিনিষ এ। রাজনীতির আসল খেলা দেখলাম কিছু দিন পরে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়। সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারনে রাজাকার আব্দুর রহমান বিশ্বাস এর জয় যেখানে নিশ্চিত, সেখানে আওয়ামী লীগ এর প্রার্থি বদরুল হায়দার চৌধুরী জামায়াত এর নেতা গো আজম এর সাথে তার মগবাজার এর বাসায় সাক্ষাত করে দোয়া চাইলেন। এই ঘটনা টা আমার মতে বাংলাদেশ এ রাজাকার দের পুনর্বাসনের দ্বিতীয় গুরুত্ত্ব পুর্ণ ধাপ।

আমার ও আমদের মনে তখন ও আশা ছিল। ভেবেছি যে এটা হয়ত আওয়ামী লীগ এর মুল নেত্রিত্ব এর নিয়ন্ত্রন এর বাইরের ঘটনা হতে পারে। বদরুল হায়দার সাহেব হয়ত নিজের উদ্যোগে এই কান্ড ঘটিয়েছেন। কিন্তু পরে বুঝলাম, এটা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রিত্বের অনুমতি নিয়েই হয়েছিল।

শেষ গুরুত্ব পুর্ন ধাপ হল ১৯৯৬ এর নির্বাচন। সেই নির্বাচন এ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত জোট গঠন করেনি ;) করেছে "যুগপত আন্দোলন"। বাংলার সকল রাজাকার বিরোধি পাবলিক কে বুঝ দেওয়ার জন্য (একই সাথে জামায়াত এর ক্ষেত্রে আওয়ামী বিরোধি ভোটার দের বুঝ দেয়ার জন্য) আবিষ্কৃ্ত সুন্দর শব্দ্গুচ্ছ। দুই দলের অফিস থেকে প্রেস রিলিজ আসে, পাশাপাশি রাখলে সন্দেহ হতে বাধ্য যে দুটো একই ব্যাক্তির লেখা।
কোন নেতার বাসায় নেতারা গোপন মিটিং করেন তা নিয়ে ওপেন সিক্রেট খবর নিয়মিত পাই। এখনো কানে আমার একটা কথা বিষ এর মত লাগে, আমার এর পরিচিত, তখন ছাত্রলীগ এর মাঝারি পর্যায়ের নেতা, কথা প্রশংগে বলেছিল যে তাদের নেত্রিত্বর দৃষ্টিভংগি এ রকম " ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যদি গো আজম কে প্রেসিডেন্ট বানাতে হয়, তাও সই"। তার কথা বিশ্বাস করিনি, কিন্ত পরে দেখলাম লীগ ঠিকই ক্ষমতায় গেল, কিন্তু রাজাকার এর বিচার করার কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করলো না। এর পর থেকে আমি এই দেশ এ রাজাকার দের কোন বিচার এর সম্ভাবনা কে শুন্যের কোঠায় রেখে দিয়েছি।

আমি মনে প্রানে চাই আমার এ অনুমান ভুল প্রমানিত হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৪১
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×