somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাল্টিমোরের প্রতিরোধঃ মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী অবদানের এক অজানা অধ্যায়.।

০৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুুক্তিকামী বাঙ্গালীদের সাহায্য করেছিলো কিছু বিদেশী রাষ্ট্র। আবার কিছু দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করলেও সে দেশগুলোর জনসাধারণ ঠিকই নির্যাতিত বাঙ্গালীদের সমর্থন জানিয়েছিলো। শুধু সমর্থনই জানাইনি, তাদের সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাঙ্গালীদের পক্ষে কাজ করেছিলো। তাদেরই কয়েকজন বাল্টিমোর বন্দরের শ্রমিকরা। আজ জানাবো বাল্টিমোর বন্দরের শ্রমিক প্রতিরোধের অজানা গল্প-


তারিখটা ১৯৭১ সালের ১৫ জুলাই।
পাকিস্তানি ফ্রেইটার জাহাজ পদ্মা বাল্টিমোর বন্দরে নোঙর করে আছে। এই ফ্রেইটারটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য বিপুলসংখ্যক অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাল্টিমোর বন্দর ত্যাগ করবে করাচির উদ্দেশে।
কিন্তু একি! বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলা পদ্মায় তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালেন বাল্টিমোর বন্দরের শত শত শ্রমিক। নেতৃত্বে রয়েছে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।
তাঁদের কথা একটিই। যে অস্ত্র তাঁদের জাহাজে তুলে দেওয়ার কথা, সেই অস্ত্র দিয়েই তো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই অস্ত্রের গুলিই তো কেড়ে নেবে নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষের অমূল্য প্রাণ। বাল্টিমোরের শ্রমিকেরা এতটা বিবেকহীন নন যে তাঁরা মানুষ হয়ে মানুষ হত্যার রসদ সরবরাহের অনুষঙ্গে পরিণত হবেন।
অচলাবস্থা দেখা দিল বাল্টিমোর বন্দরে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও শ্রমিকেরা পদ্মায় অস্ত্র তুলে দিলেন না। করাচি থেকে পাকিস্তান শিপিং করপোরেশনের জরুরি টেলিগ্রাম এল বাল্টিমোর পোর্ট অথরিটির কাছে। শ্রমিকদের এই ধৃষ্টতা ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই মনে করতে থাকল পাক শিপিং করপোরেশন। ইয়াহিয়ার শিখিয়ে দেওয়া বুলি তখন আওড়াচ্ছে শিপিং করপোরেশনের কর্তা-ব্যক্তিরাও।
মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের বন্ধু। কিন্তু তারা তো আর নিজ দেশের মানুষের শত্রু নয়! বাল্টিমোরের শ্রমিকদের পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনকে কিন্তু তারা ‘সরকারি কাজে বাধাদান’ হিসেবে না দেখে শ্রমিকদের কর্ম ও চিন্তার স্বাধীনতা হিসেবেই দেখল। তবে বন্ধুকেও তো খুশি করতে হবে। লোক দেখানোর মতো করেই অস্ত্র বোঝাই করে দিতে অস্বীকৃতি জানানো শ্রমিকদের কয়েকজনকে হাজতে নিয়ে পোরা হলো। এক রাত জেল খেটে তাঁরা পরের দিন সকালেই মুক্তি পেয়েছিলেন।
বাল্টিমোর বন্দরের শ্রমিকদের এই অসাধারণ প্রতিরোধ স্থান পেয়েছে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের চতুর্দশ খণ্ডে।

তথ্যসুত্র- প্রথম আলো আর্কাইভ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:২৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাময়িক পোষ্টঃ ব্লগে পর্নোগ্রাফি আক্রমন সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষন।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৩৭

গত কয়েকদিন ধরে ব্লগে আবার পর্নোগ্রাফিক আক্রমন শুরু হয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ যিনি এই কাজটি করছেন, তিনি বরাবরের মতই বিভিন্ন পোষ্টে গিয়ে এই ধরনের বাজে মন্তব্য করছেন। ছবিগুলো এত ভয়াবহ যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:১৭




গত ২৪শে মার্চ ২০২০ এর কথা।

সকালে ঘন্টাদেড়েক দেরী করে অফিসে গিয়েছি। ক্রিস এসে দাত বের করে বললো, বস তোমারে খুজতাছে। সকাল থিকা দুই বার খুজছে।

আমি বললাম, খুজছে ভালো কথা। খোজাটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারেরা নিজের ও আশপাশের মানুষদের সাহায্য করার চেষ্টা করুন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৪



বর্তমান পরিস্হিতি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী তথ্য পেয়েছেন ব্লগারেরা, এঁরা আজকের পরিস্হিতিকে অন্যদের চেয়ে বেশী সম্যকভাবে অনুধাবন করার কথা। যদিও ব্লগারদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য, তারপরও তাঁদের ধারণা, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা ছুটির তৃতীয় দিনে

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ২৯ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৪


ডিসপেনসারির মালিক আমার সাথে হাত মেলাতে চাইল, গ্রামের ভাষায় ওদেরকে আমরা ডাক্তার বলেই ডাকি। আমি বললাম ডাক্তার আপাতত হাত মেলানো যাবে না। সে তার সুরমা মাখা চোখ তুলে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি মায়া! কি অদ্ভুত মায়া।

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ৩০ শে মার্চ, ২০২০ রাত ২:২৯


১।
সকালে রাস্তায় তাকায়। ফাঁকা রাস্তা । কয়েকটা কুকুর পায়চারী করে। রাস্তার রাজত্ব পেয়ে গেছে তবু ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে তাকায় এদিক ওদিক । অস্বাভাবিকতা কুকুরগুলোও পছন্দ করছে না। খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×