সালঃ ৩০১৪
স্থানঃ উ-৩৫ ১০’ ৫৩”, পূ-১৩৬ ৫৪’২৩”
রুশনা তার সামনে মনিটরের দিকে তাকিয়ে আছে। এটা আসলে একটা কন্ট্রোল প্যানেল।সে একাধারে চারটি ড্রেজার মেশিন চালাচ্ছে। এই মেশিনগুলো চালানোর জন্য তার পর্যাপ্ত ট্রেনিংও আছে। মেশিনগুলো মাটিতে বিশাল গর্ত তৈরি করছে। রুশনা দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকাটার মাটির নীচের ধ্বংশাবশেষ নিয়ে কাজ করছে। যদিও রুশনা এখন এই এলাকা থেকে বহু দূরে তার ইউনিভার্সিটির ল্যাবে বসে আছে। এখন লাঞ্চের সময় তাই সে মেশিনগুলোকে এক ঘন্টার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে বেরিয়ে এল।
রুশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে পড়াশোনা করছে। এই কাজটি তার একটা এসাইনমেন্ট। তার প্রফেসর খুবই বিখ্যাত একজন প্রফেসর। শুধুমাত্র অত্যন্ত মেধাবী এবং ভাল ছাত্র বা ছাত্রী না হলে তিনি তাঁর ল্যাব-এ কাউকে নেন না। যদিও তাঁর সাথে কাজ করা অত্যন্ত সন্মানের, কিন্তু তিনি অসম্ভব রাগী এবং বদমেজাজী। তিনি রুশনাকে বলে দিয়েছেন যে, এইবারও যদি রুশনা কোন কিছু মাটির নীচে খুঁজে না পায় তাহলে তিনি রুশনাকে আর কোন ভাবেই সাহায্য করতে পারবেন না। তবে রুশনার ধারনা এবার সে কিছু একটা খুঁজে পাবেই। কারণ সে এখন যে শহরের ধ্বংশাবশেষে কাজ করছে তার ইতিহাস নিয়ে রুশনা ইতিমধ্যে প্রচুর পড়াশোনা করেছে। এই শহরটি ছিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের শহর যা কিনা বিরাট এক ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছিল। তাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পারমানবিক বোমায় এই শহরের খুব একটা ক্ষতি হয়নি।
পথে রাইনার সাথে দেখা হয়ে যাওয়াতে রুশনা তার সাথেই ক্যাফেটেরিয়ারে গেল। সেখানে আরও বন্ধু বান্ধবদের সাথে রুশনা লাঞ্চ খেতে বসল। ওদের লাঞ্চ যখন প্রায় শেষ তখন রুশনার মডিউলে একটা ম্যাসেজ এল। যাতে বলা হচ্ছে চারটি ড্রেজার মেশিনের একটি- নতুন কিছুর সন্ধান পেয়েছে। উত্তেজনায় রুশনা লাঞ্চ শেষ না করেই ল্যাবের দিকে রওনা হল।
বস্তুটিকে কন্ট্রোল প্যানেলের স্ক্রিনে রুশনা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। একটা চারকোনা চ্যাপ্টা বস্তু যার একদিকটা খুবই মসৃণ এবং সম্পূর্ণ কালো রঙের। অপরদিকটা রুশনা এখনো দেখতে পারছেনা। সে কয়েকটি প্রোগ্রাম সেট করে দিল স্ক্রিনে যাতে খুবই সাবধানতার সাথে বস্তুটিকে উলটানো হয়। হ্যাঁ, রুশনা এবার বস্তুটির অপরদিকটাও দেখতে পারছে। সেখানে একটি ছবি আছে যা কিনা দেখতে একটা বিলুপ্ত প্রজাতির ফলের ছবি। এর নিচে একটি শুধু শব্দ লেখা আছে।
শব্দটি হল “iPhone”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

