somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খোরশেদ খোকন
আমার জন্ম টাঙ্গাইলের হামজানি গ্রামে। শৈশব, কৈশোরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ছিলাম; বাবার সরকারী চাকুরীর জন্যে। কলেজ ছিল টাঙ্গাইল জেলায়। তারপর পড়াশুনা ঢাবি'র ফিন্যান্স বিভাগ। গত নয় বছর যাবত প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মজীবন চলছে। www.facebook.com/khokonz

আত্মকথা-৯: ইস্কুল জীবনের স্মৃতি...

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মনে পড়ে ১৯৮৮ সালের কথা, সে বছর আমি ই.বি. (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) শিশু স্কুল, সন্তোষ, টাঙ্গাইলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হই। আমাদের স্কুলটা ছিল বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমরা ৫০ জনের মতো আবাসিক থাকতাম। স্কুলটার নাম শিশু স্কুল হলেও তার নিয়ম এবং পরিবেশ ছিল একটি পরিপূর্ণ মাদ্রাসার মতো। স্কুলের পোশাক ছিল সবুজ রঙের পাঞ্জাবী আর সাদা রঙের পাজামা। ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে ইসলামের দাওয়াত সম্পর্কিত মিছিল করতে করতে আবাসিক হোস্টেল থেকে মাওলানা ভাষানী’র মাজারের পাশের বড় মসজিদে ফজরের নামাজের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হতো। সারাদিন পাঞ্জাবী পড়ে থাকার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ-সহ সকল ইসলামী নিয়ম কানুন মানতে হতো।

স্কুলের ইতিহাস হচ্ছে, আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ডিসেম্বর ১২, ১৮৮০ - নভেম্বর ১৭, ১৯৭৬) আমাদের স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল টাঙ্গাইলের সন্তোষে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সেটা করতে পারেন নাই কিন্তু স্কুলের নামের সাথে ই.বি. (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) কথাটা রয়ে গেছে।

এরশাদ সরকারের শাসন আমলে ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশে সরকারীভাবে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় গাজীপুর জেলায় (বর্তমানে যেখানে জাতীয়/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) তারপর সেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার শান্তিডাঙ্গা-দৌলতপুর এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। যাই হোক স্কুলে পড়তে এরশাদ সাহেব কেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইলের সন্তোষে করলেন না এই নিয়ে আমাদের বন্ধুদের মনে অনেক দুঃখবোধ ছিল।

আমাদের আবাসিক স্কুলটা ছিল হাফ বিল্ডিংয়ের। আমরা এক রুমে ১০ জন থাকতাম। আমার রুমমেট ছিল ১। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ইয়াকুব, ২। ঢাকার আগার গাও এর রবিন, ৩। ঢাকার মিরপুরের মাসুম, ৪। গাজীপুরের টঙ্গীর চেয়ার-আলির আতিক, ৬। পুরাণ ঢাকার ইউসুফ, ৭। টাঙ্গাইলের কালিহাতির বল্লার আজিজ, ৮। টাঙ্গাইলের কালিহাতির এলাংগা এর শওকত, ৯। টাঙ্গাইল সদরের নাসির।

ই.বি. শিশু স্কুলে আমি মাত্র ২ বছর মানে, চতুর্থ আর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়েছি। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন ১। হুজুর স্যার (নাম হযরত আলী) ২। পিটি/অঙ্ক স্যার (নাম কুতুব উদ্দিন) ৩। সঙ্গীত স্যার (নাম মনে নাই) ৪। ডাক্তার স্যার (নাম মনে নাই) ৫। গায়েত্রি ম্যাডাম ৬। শিরিন ম্যাডাম ৭। ইংলিশ ম্যাডাম (নাম আবিদা খানম)। আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষটির নাম আবিদা খানম, তিনি ছিলেন প্রধান শিক্ষিকা, পড়াতেন ইংলিশ আর আমাকে প্রায় প্রতিদিন মারধর করতেন। সেই সাদা মুখ, সুন্দর লাল টুকটুকে পান খাওয়া ঠোঁট, গোল-গোল চশমা পরা, কাচা-পাকা চুলের রাগি রাগি চোখ আমার এখনও মনেপড়ে...

আমাদের সিলেবাসে সরকারী স্কুলের পড়ানো বিষয়ের বাইরে আরও তিনটা বিষয় ছিল ১। রবুবিয়াত (যেখানে ইসলামী জিহাদ আর সরণীয় বানী পড়ানো হতো) ২। নিসর্গ (যেখানে ইচ্ছে মতো ছবি আকা শেখানো হতো) ৩। আরবি (কোরআন ও হাদিস পড়ানো হতো)

আমি ভেবে দেখলাম, আমার সেই ই.বি. শিশু স্কুলের বন্ধু/বান্ধবদের কোন প্রকার খোঁজ/খবর (ঠিকানা, ইমেল, ছবি, ফেইসবুক এই. ডি.) কিছুই আমার সংগ্রহে নাই। কি দুর্ভাগ্য তাই না…!

পুনশ্চঃ ১৯৯৯ সালে সরকারীভাবে টাঙ্গাইলের উত্তর-পশ্চিমে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য সন্তোষে মনোরম নৈসর্গিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয় “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”। বর্তমানে ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৭ একর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন, পাঁচটি আবাসিক শিক্ষার্থী হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ইত্যাদি ছাড়াও ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার ভেতরই মাওলানা ভাসানীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঐতিহাসিক দরবার হল, প্রখ্যাত সুফি সাধক পীর শাহ জামানের নামানুসারে পীর শাহ জামান দীঘি, মাওলানা ভাসানীর মাজার, একটি মসজিদসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×