somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করুণা ২

১০ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগেই লিখেছিলাম যে অতীতের ইমনের জন্য আমার মানে বর্তমানের ইমনের করুণা হয়। আগে ভাবতাম ২০০৮ সালের আগেও ভাবতাম এই দেশে ভালো কিছুই হয়না, যা হয় সব বিদেশে, সুন্দর কিছুই নাই এখানে। যেভাবে পারি দেশের বাইরে যাব টাকাপয়সা কামাবো বাইরেই থাকব। এই পোড়ার দেশে আর ফিরবোনা। এই ছিল তখনকার আমার মনোভাব। শুনতে আশ্চর্য লাগতে পারে কিন্তু এটা বদলানোর পিছনে দুটি জিনিস রয়েছে। এক আমার হাত ভেঙ্গে যাওয়া আর দুই জীবনানন্দ দাস।

হাত ভাঙ্গার ব্যাপারটা আগে ব্যাখ্যা করি। যদি স্মৃতি প্রতারণা না করে তাহলে ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ আমার বাম হাত ভাঙ্গে। তারপর প্রায় একবছর আমাকে বিকালে স্পোর্টসের সময় হাজিরা দিলেই ছুটি ছিল। আমি এই সময়টা কাটাতাম কলেজ লাইব্রেরীতে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এক কোনাতে বসে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র পড়তাম। প্রিয় পাঠক কল্পনা করুন পনের বছর বয়সের এক সদ্য বয়ঃসন্ধিকাল পেরোনো এক কিশোর যার কিনা তিন গোয়েন্দা বা মাসুদ রানা অথবা খুব বেশি হলে সমরেশ শীর্ষেন্দু পড়ার কথা সে কিনা পড়ছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র। একটু অবিশ্বাস্য তাইতো। কেউ কেউ হয়তোবা বলেই ফেলেছেন ব্যাটা চাপা মারার জায়গা পায়না। নাহ আতেঁল ছিলামনা আর চাপাও পিটাচ্ছিনা। মাসুদ রানা আমি এখনো পড়ি তখনো পড়তাম। রানা রাখা থাকত আমার ঘুমের আগ মূহুর্তের জন্য আর বিকাল কাটাতাম ওই নিরস দলিলপত্র পড়ে। মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে গেলে পড়তাম সমরেশ শীর্ষেন্দু সুনীল এদের লেখা। তখন বুঝতে শিখি এই দেশ পাওয়ার জন্য কি পরিমাণ ত্যাগ আমরা স্বীকার করেছি। কারো কারো কাছে তিরিশ লক্ষ শহীদ আর দু লক্ষ বীরাঙ্গনা শুধুই সংখ্যা মাত্র। আবার কেউ কেউ তো বলে এত মরেনাই। কিন্তু যার এই দলিলপত্র পড়া সে বুঝবে এই সংখ্যাগুলির মর্ম। যদিও আমার পুরোটা পড়া নাই। দ্বাদশ খন্ড পর্যন্ত পড়া।

দ্বিতীয় কারণ জীবনানন্দ দাস। উনার কবিতা আসলে পাঠ্য হিসেবেই পড়া। ক্লাস এইটে আবার আসিব ফিরে দিয়ে পরিচয়। তখন ভাবতাম কিসের টানে উনি ফিরে আসতে চান আমাদের মাঝে। কিসের টানে তিনি ফিরে আসতে চান এই বাংলায়? এই প্রশ্ন আমাকে ভাবিয়েছে বহুদিন। কেন লিখেছে
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে - এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় - হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
কেন তিনি ফিরে আসতে চেয়েছেন বারবার? এই প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়েছি ২০০৯ সালে বাঙলার মুখ কবিতাতে যেখানে তিনি লিখেছেন
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েলপাখি - চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ
তারপর থেকেই আমি নিজের দেশের সৌন্দর্যকে একটু অন্যভাবে দেখতে লাগলাম। তবে থেকেই বুঝলাম মাতৃভুমি কি? কিসের এই টান।
অতীতের আমার জন্য বর্তমানের আমার করুণা হয় নিজের দেশের প্রতি অবহেলার জন্য। আর হয় যারা এখনো অতীতের আমার মনোভাব ধারণ করে তাদের জন্য
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×