আফ্রিকার সিংহ দেখেছেন কখনো?
সারাদিন শুয়েবসেই কাটায় তারা। দিব্যি আরাম আয়েসের জীবন। খিদে পেলে একটু ছোটাছুটি করলেই মেলে ইম্পালা কিংবা গেজেল হরিণের সুস্বাদু আহার। মাঝেমধ্যে জেব্রার ডোরাকাটা নাশতাও মন্দ নয়। তবে আমার এ গল্পের নায়ক কিন্তু এই সিংহের দল নয়, বরং ওই তৃণভোজি গেজেলদের নিয়েই আমার আখ্যান।
ওরিক্স গেজেল বা জেমসবক -যে নামেই ডাকুন, আফ্রিকার কালাহারিতে এই হরিনের সংখ্যাই বেশি। মরুময় সমভূমিতে লাখো সঙ্গী নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। একে অপরের গায়ে গা লাগিয়ে। ঠিক ঢাকার ফুটপাতগুলোয় চলতে যেমন হাঁটি আমরা। হাজার মাইল দূরের ওইসব হরিণ সূর্য পূব আকাশে উঠতেই শুরু করে খাবারের সন্ধান, ঠিক যে আশায় সাত সকালে লোকাল বাসে অফিস যাই আমরা। সিংহ দেখলে সতর্ক হয়ে ওঠে গেজেলের দল। আমরাও সতর্ক থাকি প্রতিদিনকার ঝুটঝামেলা থেকে। তবু আক্রমণ এড়ানো যায় না। ক্ষুধার্ত সিংহ মাঝেমধ্যে তেড়ে আসে, দু'একজন সঙ্গীর প্রাণ যায় এই আর কি! আমাদেরও তাই, প্রতিদিন খবরের কাগজে কত মৃত্যুর কথা পড়ি। কই? কোনও ভাবান্তর তো হয় না। ঠিক বোধহীন জেমসবকের মতোই নির্বিকার আমরা। কাল মতিঝিলে সাংসদ ফজলে নূর তাপসের গাড়িতে বোমা পড়লো, আমি নির্বিকার। আমার কি? আমি তো ঠিকই আছি, না? সিংহে এসে দু'একজনের প্রাণ নিলে নিক, আমরা ঠিকই কাল ভোরে উঠে ঘাসের খোঁজে যাবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


