জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের অজপাড়া গ্রাম সাতকুড়া।আমার নানাবাড়ী।স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে নানা বাড়িতে দীর্ঘ নাইওরের আশায়,সারা বছর আমরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনতাম।নানাবাড়ির সামনে ছিল সান বাঁধানো জোড়াপুকুর,পাশে মসজিদ।নানাবাড়িতে গেলে আমরা দিনের বেশিটা সময় এই পুকুরে লম্ফ-ঝম্ফ আর মসজিদের চারপাশটা জুড়েই হেঁটে-দৌড়ে ক্লান্তি ছড়াতাম।সেই সুবাদে মুন্সী হুজুরদের সাথে ছিল বাড়তি সখ্যতা।ক্লাশ সিক্সের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে নানাবাড়ি নাইওরে গিয়ে দেখি লঙ্কা কাণ্ড! নানাবাড়ির মসজিদের জন্য মাইক কেনা হয়েছে!মাইকের শব্দে গ্রামের সব বয়েসি উৎসুক লোকের জটলা-মসজিদের সামনে লেগেই থাকতো।নামাজ আর আযানের সময়বাদে মোটামুটি চব্বিশ ঘণ্টাই মসজিদের মাইকে হামদ নাত,গজল,তেলাওয়াত,ওয়াজ জিকীর,ইসলামী সঙ্গীত,ছড়া কবিতা এমনকি সিনেমার গানও পরিবেশিত হতো।মুন্সী হুজুর এমন কি গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পীরা তাতে অংশগ্রহন করতেন।এই নিয়ে সারা গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ বইছিল।একদিন রাতে ঘটলো এক অবাককাণ্ড! মোয়াজ্জিন সাহেব ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন-টপ্ন একটা কিছু দেখে,রাত একটায় ফজরের আযান দিয়ে বসলেন! ইমাম সাহেব ঘুম থেকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন একটা বাজে! মোয়াজ্জিনকে ডেকে শাসাতে লাগলেন।আযান বাতিল করার কোন দোয়া আছে বলেও-হুজুরের জানা নেই।ইতিমধ্যে দুইয়েকজন করে মুসুল্লিও মসজিদে আসা শুরু করেছে।হুজুরতো মহা-ফাঁফরে! অগত্যা তিনি মাইকে ঘোষণা করলেন,"এখন আযান,হবেনা...!!!!
এখন ডিজিটাল সময়।যন্ত্রের সাথে মানুষের নিবিড় সখ্যতা।আর কেবলমাত্র উপযুক্ত শিক্ষাই পারে জ্ঞানের সেই অবারিত প্রান্তরেখা স্পর্শ করে সমৃদ্ধ-নিরাপদ আগামী নিশ্চিত করতে।তাই প্রতিযোগিতার এই যুগে বিশ্বের সব দেশই শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক নম্বর অগ্রাধিকার খাত হিসাবে গ্রহন করে,সকল পর্যায়ে সর্বোচ্চ পৃষ্টপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।তখন আমাদের বয়সের ভাঁড়ে-ডিজিটালী গোপাল ভাঁড়-অর্থমন্ত্রী বাহাদুর-এদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফী'র উপর কর বসিয়ে,তথাকথিত বাকশালি মিথ্যার জোরে বরাবরের মতো পার পেতে চেয়েছিলেন।দামাল ছাত্রদের উত্তাল প্রতিরোধে অবস্থা বেগতিক দেখে ভাঁড়ি মন্ত্রী বাহাদুর নানাবাড়ির সেই মসজিদের ইমাম সাহেবের মত অবশেষে ঘোষণা করলেন," এখন আযান,হবে না "... !!!

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




